সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টাইগারদের রানের পাহাড়

সোহানের ঝড়ো ব্যাটিংয়ে টাইগারদের রানের পাহাড়

বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি ম্যাচের বাইরে ওমান একাদশের বিপক্ষে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার উপলক্ষ্য বেশ ভালোভাবেই কাজে লাগিয়েছে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। দুই ওপেনার নাইম শেখ ও লিটন দাস জোড়া ফিফটিতে বড় সংগ্রহের ভীত গড়ে দেন। পরে সেটি কাজে লাগিয়ে ঝড় তোলেন নুরুল হাসান সোহান ও শামীম পাটোয়ারী।

আজ ( ৮ অক্টোবর) ওমান ক্রিকেট একাডেমিতে টস হেরে ব্যাট করে ৪ উইকেটে ২০৭ রান তোলে বাংলাদেশ। লিটন ৫৩ করে আউট হলেও ৬৬ রান করে স্বেচ্ছায় অবসরে যান নাইম। দুজনে মিলে উদ্বোধনী জুটিতে তোলেন ১০২ রান। শেষদিকে ঝড় তোলা সোহান ও শামীম অপরাজিত ছিলেন যথাক্রমে ১৫ বলে ৪৯ ও ১০ বলে ১৯ রানে।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই এলোমেলো বল করেন ওমান পেসার রাফি উল্লাহ। যদিও সময়ের সাথে সাথে পেয়েছেন লাইন লেংথের দেখা। দুই টাইগার ওপেনার লিটন দাস ও নাইম শেখ শুরুতে দেখে শুনে খেললেও খোলস ছেড়ে বের হতে সময় নেয়নি। চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে লিটন সামনে এগিয়ে হাঁকান দারুণ এক বাউন্ডারি। বেশ কয়েকটি পুল শটে বাউন্ডারি আসে নাইমের ব্যাট থেকেও।

পঞ্চম ওভারে লিটন ইনিংসের প্রথম ছক্কা হাঁকানোর পাশাপাশি সুইপ শটে হাঁকিয়েছেন চারও। যদিও পরের বলেই পেয়েছেন জীবন, জায়গা বানিয়ে কাট করতে গিয়ে ২৪ রানে বেঁচে যান পয়েন্টে। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বিনা উইকেটে ৪৮ বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে।

এরপর নাইম-লিটন যেন আরও আক্রমণাত্মক। ৮ম ওভারে বাঁহাতি স্পিনার আমিরকে স্লগ শটে বড় ছক্কাই হাঁকান নাইম। ১০ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৮৯ রান।


১১তম ওভারে শোয়েব খানকে টানা দুই চার হাঁকিয়ে নিজের ফিফটি ও দলীয় ১০০ রান পূর্ণ করেন লিটন। ৩২ বলে ফিফটি ছুঁয়ে লিটন ফিরেছেন নিজের মোকাবেলা করা পরের বলেই। সময় শিবাস্তবাকে ফিরতি ক্যাচ দেন ৩৩ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় ৫৩ রান করে, ভাঙে নাইমের সাথে ১০২ রানের জুটি।

নিজের তৃতীয় ওভার করতে এসে শিবাস্তবা ফেরান তিন নম্বরে নেমে ব্যর্থ হওয়া সৌম্য সরকারকে (৮ বলে ৮)। পরের ওভারে মুশফিকুর রহিমকে গোল্ডেন ডাক উপহার দেন বাঁহাতি স্পিনার আমির কলিম। প্রথম বলেই স্কুপ খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন উইকেট রক্ষক রউফ আতাউল্লাহকে।

একই ওভারে দারুণ এক ছক্কা দিয়ে শুরু করে পরের বলেই সাজঘরে ফেরেন আফিফ হোসেনও (২ বলে ৬)। বিনা উইকেটে ১০২ থেকে ৪ উইকেটে ১২৪ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ততক্ষণে ৪৬ বলে ফিফটি তুলে নেন নাইমও। ৫৩ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৬৬ রান করে পরে স্বেচ্ছায় অবসরে যান এই বাঁহাতি ওপেনার।

ক্রিজে এসে দ্রুত রান তোলায় যোগ দেন নুরুল হাসান সোহান। ১৭তম ওভারে আমির কলিমকে হাঁকান টানা দুই ছক্কা, যদিও প্রথম ছক্কাটি অনায়েসেই হতে পারতো ক্যাচ। শামীম হোসেনকে নিয়ে রানের গতি রেখেছেন সচল। ১৯তম ওভারে হাঁকান টানা ৩ ছক্কা। শেষ ওভারে শামীম-সোহানের সমান দুইটি করে ছক্কা।

শেষ ৫ ওভারে কোনো উইকেট না হারিয়ে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে উঠে ৮১ রান। সোহান ১৫ বলে ৭ ছক্কায় ৪৯ ও শামীম ১০ বলে ১ চার ২ ছক্কায় ১৯ রানে অপরাজিত ছিলেন।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাকিস্তান বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ‘৩’ পরিবর্তন

Read Next

লিটনের নেতৃত্বে টাইগারদের দারুণ প্রস্তুতি

Total
28
Share