এবার বিসিবি সভাপতির সামনে যে তিন চ্যালেঞ্জ

হাসান পাপন বিসিবি এজিএম

টানা ৯ বছর বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব পালন করা নাজমুল হাসান পাপন আরও ৪ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেন। গতকাল পরিচালক হয়ে আজ আনুষ্ঠানিকভাবে সভাপতির দায়িত্ব পান। এবারের মেয়াদে অন্তত তিনটি নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জের কথা জানান দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান।

তিন ক্যাটাগরিতে ২৩ ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ মনোনীত ২ পরিচালক সহ মোট ২৫ জন পরিচালক পেয়েছে বিসিবি। যেখানে ক্যাটাগরি-২ (ক্লাব ) থেকে সর্বোচ্চ ভোটে পরিচালক হয়েছেন নাজমুল হাসান পাপন। আজ (৭ অক্টোবর) প্রথম বোর্ড সভাতেই আরেক দফা সভাপতি নির্বাচিত হন পাপন।

পরে শের-ই-বাংলার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। তার নিজের ৩ নির্দিষ্ট চ্যালেঞ্জের মধ্যে আছে শেখ হাসিনা আন্তর্জাতি ক্রিকেট স্টেডিয়াম, বিসিবির গঠনতন্ত্রে পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক ক্রিকেট কাঠামো।

প্রথম চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে বলতে গিয়ে পাপন জানান পূর্বাচলে চলমান শেখ হাসিনা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কাজ শেষ করা। মূলত আসন্ন যে সকল আইসিসি ইভেন্টে আয়োজনের জন্য বাংলাদেশ নিলামে অংশ নিয়েছে সেসবে শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামকেও দেখানো হয়েছে।

পাপন বলেন, ‘আজ শর্ট ব্রিফিংয়ে (বোর্ড সভায়) বলেছি অনেক কাজ বাকি। এতদিন অনেক কাজ করেছি এটা মনে করা হবে ভুল। কারণ এখন আরো কঠিন সময় আসছে। আমাদের প্রথম কাজ হলো শেখ হাসিনা স্টেডিয়াম। এটা আমাদের যতদ্রুত সম্ভব চালু করতে হবে। কারণ আমরা যে আইসিসি ইভেন্টে আবেদন করেছি সেখানে আমাদের এই স্টেডিয়াম দেখানো আছে। এটা ছাড়া কিন্তু আমরা ওই টুর্নামেন্ট পাব না। তো এটা নাম্বার ওয়ান, টপ প্রায়োরিটি।’

বিসিবি সভাপতি তার দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ জানাতে গিয়ে সামনে আনেন গঠনতন্ত্রে পরিবর্তনকে। বর্তমান গঠনতন্ত্রে কাউন্সিলর হিসেবে বিভিন্ন শিক্ষা বোর্ড, বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান থাকার বিষয়টি খুব একটা যৌক্তিক মনে করেন না পাপন।

তিনি বলেন, ‘গঠনতন্ত্র, পরিচালকদের বলেছি সংবিধানে কোথায় কি পরিবর্তন আনা যায় তা বলতে। পরের বোর্ড মিটিংয়ে তারা পরিবর্তনের মতামত উপস্থাপন করবে। আমার প্রস্তাব হলো – আমাদের এখানে এতগুলা ক্লাব পার্টিসিপেট করে অথচ ক্লাবগুলোর ভোট নাই। এমন সব ভোটারের নাম দেখি ক্রিকেটের সাথে যাদের কোন সম্পর্কই নাই। এখানে একটা পরিবর্তন আসা দরকার। এটা একটা উদাহরণ দিলাম, এরকম আরো আছে।’

নিজের তৃতীয় চ্যালেঞ্জে পাপন তুলে ধরেন বেশ পুরোনো এক বিষয়কে। বছরের পর বছর ধরে দেশের আঞ্চলিক ক্রিকেট অবকাঠামো ঠিক করতে পারেনি দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তবে এবার সেটির একটি সুরাহা করতে চান পাপন, যদিও নিজের সর্বশেষ ৯ বছরেও ব্যর্থই ছিলেন।

আঞ্চলিক ক্রিকেট অবকাঠামোর চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে পাপন জানান, ‘আঞ্চলিক ক্রীড়া সংস্থা তৈরি। এটার সঙ্গেই কাঠামোগত উন্নয়নের কথা এসেছে। ক্রিকেট অ্যাকাডেমি ইতিমধ্যে এক জায়গায় হয়েছে আরেক জায়গায় হচ্ছে। আর কোথায় কোথায় হবে এটা নিয়ে প্রস্তাব করেছি। আর বয়স ভিত্তিকের জন্য ডেডিকেটেড অ্যাকাডেমি হবে। এখানে আমি প্রস্তাব রেখেছি যে – উন্নত অ্যাকাডেমি তো কয়েকটা হবে কিন্তু তিনটা থাকবে ডেডিকেটেড।’

‘যেমন ব্যাটিংয়ের জন্য একটা থাকবে, পেসারদের জন্য একটা আর স্পিনারদের জন্য একটা। এটা জাতীয় ক্রিকেটারদের জন্য না, ডেভেলপমেন্টের উদ্দেশ্যে। এখানে দেশী হোক বা বিদেশী হোক ডেডিকেটেড কোচ থাকবে। এছাড়া আমাদের খেলার মাঠ দরকার ৮-১০টা, যেখানে সারা বছর খেলা চালাতে পারি। সামনে আরো বেশি খেলাতে চাই। আর এই মাঠগুলো আমরা (বিসিবি) পরিচালনা করবে।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ওয়ানডেতে বাংলাদেশকে পাঁচে তোলার পুরনো স্বপ্ন দেখেন পাপন

Read Next

আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থ সম্পর্কে জানতে মুশফিকদের দ্বারস্থ নাসুম

Total
1
Share