চট্টগ্রামে বৃথা গেল তৌহিদ হৃদয়ের অধিনায়কোচিত এক ইনিংস

হৃদয়

চট্টগ্রামে পরাজয়ের বৃত্ত থেকে বের হতে পারছেনা হাই পারফরম্যান্স (এইচপি) ইউনিট। ‘এ’ দলের বিপক্ষে বৃষ্টি আইনে তৃতীয় ওয়ানডেতে হারতে হয়েছে ৪ রানে। ৬৫ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে খাদের কিনারায় থাকা এইচপিকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান তৌহিদ হৃদয়। তবে শেষ পর্যন্ত বৃথাই গেল তার ঝড়ো ৯৩ রানের অপরাজিত ইনিংস।

বৃষ্টির কারণে খেলাই শুরু হয়েছে দেরি করে। ৪৪ ওভার ব্যাট করার সুযোগ পেয়ে ‘এ দল পায় ৯ উইকেটে ২২২ রানের পুঁজি। সর্বোচ্চ ৪৭ রান আসে সাদমান ইসলামের ব্যাট থেকে। আরেক দফা বৃষ্টিতে এইচপির জন্য লক্ষ্য ঠিক হয় ৩৩ ওভারে ১৯৪। হৃদয়ের অমন ইনিংসের পরও ১৮৯ রানে আটকে যায় এইচপি।

টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া ‘এ দল মুমিনুল হক ও সদমান ইসলামের উদ্বোধনী জুটিতেই ৬৭ রান তুলে ফেলে। তবে এমন শুরু ধরে রাখতে পারেনি শেষ পর্যন্ত।

৩৪ বলে ২৭ রান করে মুমিনুল স্পিনার তৌহিদ হৃদয়ের শিকার হলে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত রান আউটে কাটা পড়েন ১০ রান করে। সাদমানও থেমেছেন ফিফটির আগে, খেলেছেন ৭৫ বলে ৪৭ রানের ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ রানের ইনিংস। মোহাম্মদ মিঠুনকে খালি হাতে ফিরিয়ে নিজের দ্বিতীয় শিকার তুলে নেন হাসান মুরাদ। ৯৬ রানেই ৪ উইকেট হারায় ‘এ’ দল।

সেখান থেকে দলকে পথে রাখেন ইমরুল কায়েস, তবে থেমেছেন ৩৭ রান করে। ইয়াসির আলি রাব্বি ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত পেরোতে পারেননি ২০ রানের গন্ডি। ১৮৩ রানে ৯ উইকেট হারাতে হয় ‘এ’ দলকে।

তবে অবিচ্ছেদ্য শেষ উইকেট জুটিতে রাকিবুল হাসান ও খালেদ আহমেদ ৩৯ রান যোগ করলে ২২ রানের পুঁজি পায় মুমিনুল হকের দল। খালেদ ২৫ ও রাকিবুল ১২ রানে অপরাজিত ছিল।

এইচপির হয়ে ৩০ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন হাসান মুরাদ। দুইটি শিকার পেসার রেজাউর রহমান রাজার।

বৃষ্টি আইনে এইচপির লক্ষ্য ৩৩ ওভারে ১৯৪ রান। ইনিংসের প্রথম বলেই খালি হাতে ফেরেন মুনিম শাহরিয়ার। ১৩ রানের বেশি করতে পারেননি আরেক ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। টপ মিডল অর্ডারের আসা যাওয়ার মিছিলে ৬৫ রানেই ৭ উইকেট নেই এইচপির।

জয় যখন অসাধ্য মনে হচ্ছিল তখনই ত্রাতার ভূমিকায় অধিনায়ক তৌহিদ হৃদয়। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন রেজাউর রহমান রাজা। দুজনে মিলে যোগ করেন ৮ম উইকেটে ১০১ রান। জুটি ভাঙ্গে রাকিবুল ইসলামের বলে রাজা ৩৩ রান করে বিদায় নিলে।

তখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ১২ বলে ২৮ রান। ৫৪ বলে ফিফটি তুলে নেওয়া হৃদয় ফিফটির পরেও ছিলেন আক্রমণাত্মক। তবেমেলাতে পারেননি শেষের সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ৩৩ ওভারে ৮ উইকেটে ১৮৯ রানে থেমে হারতে হয় ৪ রানের।

হৃদয় অপরাজিত ছিলেন ৭৯ বলে ৪ চার ও ৩ ছক্কায় ৯৩ রানে। মুকিদুল ইসলাম মুগ্ধ অপরাজিত ছিলেন ৪ বলে ৯ রান করে। ‘এ’ দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি করে উইকেট মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও রাকিবুল হাসানের।

এই জয়ে ৪ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজ ১ ম্যাচ হাতে রেখেই ৩-০ ব্যবধানে জিতে নিল ‘এ’ দল। আগামী ৪ অক্টোবর চতুর্থ ও শেষ ওয়ানডে মাঠে গড়াবে।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বন্ধুত্বের টানে মরুর বুকে বাংলাদেশের পতাকা উড়াচ্ছেন রাশেদ

Read Next

প্লে অফে যাওয়া দিল্লির আরও এক জয়

Total
28
Share