বন্ধুত্বের টানে মরুর বুকে বাংলাদেশের পতাকা উড়াচ্ছেন রাশেদ

বন্ধুত্বের টানে মরুর বুকে বাংলাদেশের পতাকা উড়াচ্ছেন রাশেদ

বড় ভাই মোহাম্মদ আরশাদ ওমান প্রবাসী, তবে ক্রিকেটের পাড় ভক্ত। প্রবাস জীবনেও ক্রিকেট থেকে ছুটি নিতে পারেননি। ওখানকার স্থানীয় টুর্নামেন্টগুলোতে খেলেন নিয়মিতই। সেই সুবাদে পরিচয় দেশটির বর্তমান যুব দলের ক্রিকেটার অর্জুন রাজেশের সাথে। অর্জুন আবার তার ছোট ভাই রাশেদ আহমেদের সমবয়সী। রাশেদও ততদিনে ক্রিকেটে মজেছেন, দেশে বয়সভিত্তিক দলের হয়ে দেশকেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আর সে সূত্রেই অর্জুনের সাথে ছোট ভাইয়ের বন্ধুত্বের সেতু তৈরি করে দেন।

সে সেতু হয়ে ওমান-বাংলাদেশে কেবল ভার্চুয়াল যোগাযোগেই থমকে থাকেনি। ক্রিকেটীয় আলোচনা, নানা তথ্য ভাগাভাগির এক পর্যায়ে রাশেদ-অর্জুনের বন্ধুত্ব গড়ায় বহুদূর। অর্জুনের ডাকে সাড়া দিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ভিত্তিক ওমান ক্রিকেট লিগেও খেলার সুযোগ মিলে রাশেদের।

চট্টগ্রামের এই তরুণ ক্রিকেটার বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করেছেন অনূর্ধ্ব-১৭ দলে। যেখানে তার সতীর্থ হিসেবে ছিল বাংলাদেশ যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী। চোটে না পড়লে ২০২০ যুব বিশ্বকাপ বাংলাদেশ দলের সদস্য হওয়ার দৌড়ে থাকতেন এই অলরাউন্ডার। মূলত মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান, দলের প্রয়োজনে বাঁহাতি স্পিন করেন।

No description available.

ওমান ক্রিকেট লিগে প্রথমবার বন্ধু অর্জুন ও বড় ভাই আরশাদ খানের কল্যাণে খেললেও এবার সুযোগ পেয়েছেন নিজের পারফরম্যান্সের পুরষ্কার হিসেবে। গত মৌসুমে স্যাম রয়্যালসের অধিনায়কত্বও করেছেন রাশেদ আহমেদ। যে আসরে ঝড়ো কয়েকটি ইনিংসও খেলেন। ঐ পারফরম্যান্সে নজর কেড়ে এবার প্রস্তাব পান চারটি দল থেকে। যদিও শেষ পর্যন্ত পুরোনো দল স্যাম রয়্যালসের হয়েই খেলবেন এবারও।

‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে রাশেদ জানান ওমানের ক্রিকেটে ভালো কিছু করে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করতে চান। আগামী ৮ অক্টোবর টুর্নামেন্টে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে স্যাম রয়্যালস। টুর্নামেন্টে ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার অনেক ক্রিকেটারই অংশ নেয়, থাকে ওমান জাতীয় দলের ক্রিকেটাররাও।

নিজের লক্ষ্য নিয়ে রাশেদ বলেন, ‘বয়সভিত্তিকে চোটে পড়ে আমি এক বছর মাঠেই ছিলাম না। সেখানেই পিছিয়ে পড়েছি। খেলার মধ্যে থাকাটাই মূল বিষয়। আমি চট্টগ্রামের একটি একাডেমিতে অনুশীলন করি, ঐ একাডেমির দল রাফা ক্লাবের হয়ে খেলেছি প্রথম বিভাগেও।’

‘এখন এখানে (ওমানে) সুযোগ পেয়েছি, আমার লক্ষ্য একটাই নিজের সেরাটা দেওয়া। এখানে আমি ধীরে ধীরে যেভাবে পরিচিতি পাচ্ছি, হয়তো ওমান জাতীয় দলের দরজাটা আমার জন্য সহজ হবে।’

No description available.

‘এখানকার লোকেরা ক্রিকেটের চাইতে ফুটবলকে বেশি প্রাধান্য দেয়। ওমানের বাইরের প্রচুর ক্রিকেটার এখানে সুযোগ পায়। যেখানে বাংলাদেশে জাতীয় দলে খেলা আমার জন্য নিশ্চিতভাবেই বেশ কঠিন পথ। তবে কখনো ওমান জাতীয় দলে সুযোগ পেলেও সেটা নেওয়ার ইচ্ছে নাই আমার।’

‘কঠিন হলেও বাংলাদেশ জাতীয় দলই আমার লক্ষ্য, স্বপ্ন। স্বপ্ন পূরণ হবে কিনা সেটা সময়ই বলে দিবে তবে এই আমার লক্ষ্য। আপাতত লক্ষ্য ওমানে নিজের পারফরম্যান্স দিয়ে বাংলাদেশকে যেন সামনে তুলে ধরতে পারি।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

এমসিসিতে সাঙ্গাকারার স্থলাভিষিক্ত হলেন ক্লেয়ার কনর

Read Next

চট্টগ্রামে বৃথা গেল তৌহিদ হৃদয়ের অধিনায়কোচিত এক ইনিংস

Total
13
Share