রানের চেয়ে চট্টগ্রামে ম্যাচ খেলাতেই মুশফিকের বেশি নজর ছিল

অনুশীলন মুশফিকুর রহিম

আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে বেশ কিছুদিনের ছুটিতে ছিল জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা। তবে ছুটির মাঝেও ঘাম ঝরিয়েছে বেশ কয়েকজন। তাদেরই একজন মুশফিকুর রহিম, নিজেকে ম্যাচের মধ্যে রাখতে খেলেছেন ‘এ’ দলের হয়ে দুইটি ওয়ানডে। যেখানে ব্যাট হাতে দারুণ সফল হয়েছেন, তবে রানের চেয়ে তার নজর ছিল ম্যাচ খেলাতেই।

জিম্বাবুয়ে সফর থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজ না খেলেই ফিরতে হয়েছে মুশফিককে। পারিবারিক কারণে দেশে ফেরা মুশফিক কোয়ারেন্টাইন জটিলতায় মিস করেন অস্ট্রেলিয়া সিরিজ। পরে নিউজিল্যান্ড সিরিজে ফিরে ছিলেন বিবর্ণ, ৫ ম্যাচে করেছেন মাত্র ৩৯ রান।

আর নিজের ব্যর্থতা কাউকে ধরিয়ে দিতে হয়নি মুশফিককে। ভালো করার তাড়না কাজ করেছে নিজেরই। ছুটির মাঝেও নিয়মিত অনুশীলন করেছেন মিরপুরে। পরে বিকেএসপিতে ৩ দিনের সেশন শেষ করেন শৈশব কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সাথে। চট্টগ্রামে খেলেছেন ‘এ’ দলের হয়ে এইচপির বিপক্ষে দুইটি ওয়ানডে। দুই ম্যাচে রান যথাক্রমে ৭০* ও ৬২।

বিশ্বকাপের আগে রানের মধ্যে থাকা যে কাউকেই মানসিকভাবে চাঙা রাখার কথা। মুশফিক নিজেও সেটি মানছেন। তবে রানের চেয়ে তিনি ম্যাচ খেলতেই বেশি মুখিয়ে ছিলেন বলে জানান।

আজ (১ অক্টোবর) রাজধানীর একটি পাঁচ তারকা হোটেলে অনলাইন গেমিং অ্যাপস ‘হাউজ্যাট মুশি দ্য ডিপেন্ডেবল’ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সাথে আলাপে এমনটা জানান মুশফিক। তিনি বলেন,

‘আমার আসলে রান করা না করাতে খুব বেশি নজর ছিল না। ইচ্ছা ছিল ম্যাচের মধ্যে যেন থাকতে পারি। কারণ আমি শেষ ম্যাচ খেলেছিলাম প্রায় আড়াই-তিন মাস আগে নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে (জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে) টেস্টের প্রথম ইনিংসের পর চলে আসি পরিবারের কারণে। দেখা যায় যে ম্যাচের মধ্যে না থাকলে আন্তর্জাতিক ভাবে ওই প্রতিযোগিতাটা, হাই ইন্টেন্সিটিটা বা প্রস্তুতিটা হয় না। যতই ব্যাক্তিগত বা দলের সঙ্গে অনুশীলন করি না কেন যতদিন ম্যাচ না খেলবেন আসল প্রস্তুতিটা আসেনা।’

‘তো আমি চেষ্টা করছিলাম…যেহেতু সুযোগ ছিল এইচপি দলে বেশ কয়েকজন খেলোয়াড় আছে যারা অনেক ভাল…তো প্রতিযোগিতামূলক একটা পরিস্তিতি যেন তৈরি হয়, সেখানে যেন প্রেশার থাকে, সেই প্রেশারটা যেন আমি কাজে লাগাতে পারি। তো এই একটা সুযোগ খুজছিলাম, ধন্যবাদ বিসিবিকে যে তারা এই সুযোগটা করে দিয়েছে এবং আমি দুটো ম্যাচ খেলেছি। যেমনটা বললেন যে কিছু সময় কাটাতে পেরেছি যেটা কিনা আমার প্রস্তুতির জন্য একটু হলেও কাজে দিবে।’

এদিকে কোচ নাজমুল আবেদীন ফাহিমের সাথে কি ধরণের কাজ করেছেন জানাতে গিয়ে মুশফিক যোগ করেন,

‘স্যারের সঙ্গে সবসময়ই কথা বলে থাকে। আর স্যার যেহেতু আমি, সাকিব, আমাদের সবকিছুই জানেন যে ওদের কোথায় সমস্যা হতে পারে বা ওরা কিভাবে খেলে তা দেখেন আর যেহেতু স্যার এখন বিকেএসপিতে ব্যাক করেছেন আর ওখানে গেলে স্যারের সান্যিধ্যটা পাওয়া যায় এবং ওখানের প্র্যাকটিস সুবিধাও এখন অনেক বেটার। তো আমার কিছু এরিয়ায় সমস্যা ছিল’

‘সে জায়গাগুলো আমি আর স্যারই খুব ভাল জানি এবং আমরা দুজনই শেয়ার করে সেই জায়গাগুলো ঠিক করার চেষ্টা করেছি আর কমন কিছু যেমন টি-টোয়েন্টির জন্য স্ট্রাইক রেট এবং রেঞ্জ হিটিং যেগুলো তা যেন উন্নতি করতে পারি সেগেুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আর এটা ব্যাক্তিগত পর্যায়ে নয়, দলগত ভাবেই উন্নতি দরকার। সেদিক থেকে যেন আমি একটু এগিয়ে থাকতে পারি সেজন্যই যাওয়া ও কিছু অনুশীলন করা।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিশ্বকাপে কোহলির উইকেটে চোখ শরিফুলের

Read Next

আইপিএল ব্যস্ততায়ও শরিফুলের সাথে প্রতিদিন যোগাযোগ হয় মুস্তাফিজের

Total
23
Share