হার্দিকের ফিনিশিংয়ে মুম্বাইয়ের ৬ উইকেটের জয়

হার্দিকের ফিনিশিংয়ে মুম্বাইয়ের ৬ উইকেটের জয়

রাহুল, মানদ্বীপ, গেইলদের ব্যর্থ হওয়ার দিনে ব্যাট হাতে পাঞ্জাবকে টানলেন এইডেন মার্করাম। তবুও হয়নি বড় সংগ্রহ। বোলারদের দাপটের পর সৌরভ তিওয়ারি ও হার্দিক পান্ডিয়ার ব্যাট চড়ে পাঞ্জাব কিংসের করা ১৩৫ রান এক ওভার হাতে রেখেই টপকায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। ৬ উইকেটের বড় জয়ে পয়েন্ট টেবিলের পাঁচে উঠে আসে রোহিত শর্মার দল।

পাঞ্জাব কিংস নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৫ রান তুলেছে। জবাবে ৪ উইকেট হারিয়ে ১৯ ওভারেই জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় রান স্কোরবোর্ডে জমা করে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। অপরাজিত থেকে দলের জয় নিশ্চিত করেন হার্দিক পান্ডিয়া। হার্দিকের ঝড়ো ৪০ রানের ইনিংসেই জয়ের পথটা সহজ হয়ে যায় মুম্বাইয়ের।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে লোকেশ রাহুল ও মানদ্বীপ সিংয়ের ব্যাটে ইনিংসের শুরুটা ভালো হয়েছিল পাঞ্জাব কিংস। পাওয়ার প্লে’র শেষ ওভারে মানদ্বীপকে (১৫) ফিরিয়ে ৩৬ রানের ওপেনিং জুটি ভাঙলেন ক্রুণাল পান্ডিয়া।

কিংসদের আবারও হতাশ করলেন ক্রিস গেইল; করতে পারেননি ১ রানের বেশি। জাতীয় দলের সতীর্থ কাইরন পোলার্ডকে তুলে মারতে গিয়ে হার্দিক পান্ডিয়ার হাতে ধরা পড়লেন। এই ওভারেই মুম্বাইকে জোড়া সাফল্য এনে দেন পোলার্ড। ওভারের ৪র্থ বলে বিদায় করলেন ২১ রান করা লোকেশ রাহুলকে।

ফের একবার ব্যর্থ নিকোলাস পুরান (২)। বুমরাহর বলে লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। এরপর কিছুটা পাল্টা লড়াই করার চেষ্টা করেন এইডেন মার্করাম এবং দীপক হুদা। তাঁদের ৬১ রানের এই জুটি ভাঙে মার্করামের বিদায়ে। রাহুল চাহারের বলে সুইপ খেলতে গিয়ে বোল্ড হলেন ব্যক্তিগত ৪২ রানে। ২৯ বলে মার্করামের এই ইনিংস সাজানো ছিল ৬টি চারে।

দলীয় ১২৩ রানে জাসপ্রীত বুমরাহর শিকার হয়ে ফেরার আগে দীপক হুদার ব্যাট থেকে আসে ২৮ রান। শেষ চার ওভারে একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেনি পাঞ্জাব। হারপ্রীত ব্রার ১৪ ও নাথান এলিস ৬ রানে অপরাজিত থেকে ইনিংস শেষ করে আসেন। ফলে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ১৩৫ রানের বেশি সংগ্রহ করতে পারেনি পাঞ্জাব কিংস।

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে বল হাতে ২টি করে উইকেট দখলে নেন জাসপ্রীত বুমরাহ ও কাইরন পোলার্ড। এছাড়া ক্রুণাল পান্ডিয়া ও রাহুল চাহার নেন একটি করে।

লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই হোঁচট খেল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। চতুর্থ ওভারের তৃতীয় বলে রোহিত শর্মার (৮) উইকেট তুলে নেন রবি বিষ্ণই। ক্রিজে এসে প্রথম বলেই বোল্ড হলেন সুরিকুমার যাদব। পরপর ২ বলে মুম্বাইয়ের দুই তারকাকে ফেরত পাঠালেন রবি বিষ্ণই। ১৬ রানেই ২ উইকেট হারায় মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স।

থিতু হয়েই ইনিংস বড় করতে পারলেন না কুইন্টন ডি কক। মোহাম্মদ শামির বলে বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ২৯ বলে খেলেন ২৭ রানের ইনিংস। এরপর সৌরভ তিওয়ারি ও হার্দিক পান্ডিয়া জুটি গড়ার চেষ্টা করেন। হার্দিকের সঙ্গ পেয়ে রানের তোলার গতি বাড়িয়ে নেন সৌরভ। তবে তাঁকে ফিফটি পূর্ণ করতে দেননি নাথান এলিস। ৪৫ রানের ইনিংস আসে সৌরভ তিওয়ারির ব্যাট থেকে।

কাইরন পোলার্ডকে নিয়ে জয়ের জন্য বাকি পথ পাড়ি দেন হার্দিক পান্ডিয়া। মোহাম্মদ শামির করা ইনিংসের ১৯তম ওভারে ১৭ রান তুলে মুম্বাইকে ৬ উইকেটের বড় জয় এনে দেন হার্দিক পান্ডিয়া। শেষপর্যন্ত হার্দিক অপরাজিত থাকেন ৪০ রানে। ৩০ বলে তাঁর এই ইনিংস সাজানো ৪ চার ও ২ ছয়ে। এছাড়া পোলার্ড ৭ বলে করেন ১৫* রান।

বল হাতে দুই উইকেট শিকারের পর অপরাজিত ১৫ রানের কার্যকরী ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার পেলেন কাইরন পোলার্ড।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ (৪২তম ম্যাচ)

পাঞ্জাব কিংসঃ ১৩৫/৬ (২০ ওভার) রাহুল ২১, মানদ্বীপ ১৫, গেইল ১, মার্করাম ৪২, পুরান ২, দীপক ২৮, হারপ্রীত ১৪*, এলিস ৬*; পোলার্ড ২/৮, বুমরাহ ২/২৪, ক্রুণাল ১/২৪, চাহার ১/২৭

মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সঃ ১৩৭/৪ (১৯ ওভার) রোহিত ৮, ডি কক ২৭, সুরিয়াকুমার ০, সৌরভ ৪৫, হার্দিক ৪০*, পোলার্ড ১৫*; শামি ১/৪২, বিষ্ণই ২/২৫, এলিস ১/১২

ফলাফলঃ মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচ সেরাঃ কাইরন পোলার্ড (মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে যুক্ত হচ্ছেন সরফরাজ-মালিক!

Read Next

অন্যদের মতো সুযোগ না পাবার আক্ষেপ সালমান বাটের

Total
1
Share