চট্টগ্রামে ব্যাটসম্যানদের দিনে জয়ী দলে মুশফিক-ইমরুল

চট্টগ্রামে ব্যাটসম্যানদের দিনে জয়ী দলে মুশফিক-ইমরুল 1

লক্ষ্যটা ছিল বিশ্বকাপের আগে নিজেকে ঝালিয়ে নেওয়া। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ব্যাট হাতে ব্যর্থ মুশফিকের উদ্দেশ্য সফল। চট্টগ্রামে ‘এ’ দলের হয়ে এইচপির বিপক্ষে পেয়েছেন রানের দেখা। তবে তার ৯১ বলে ৭০ রানের ইনিংসটি টি-টোয়েন্টির প্রস্তুতি হিসেবে আদর্শ বলা না গেলেও রানে ফেরাটা দিচ্ছে স্বস্তি। ৬ উইকেটের জয়ে ৪ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজে ‘এ’ দল এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

ম্যাচে দুই দলের ব্যাটসম্যানরাই পেয়েছে রানের দেখা। এইচপির তানজিদ হাসান তামিম ও শাহদাত হোসেন দিপু ফিফটি হাঁকান। সেঞ্চুরির আক্ষেপে পুড়ে তামিম ৮১ ও দিপু ৫১ রান করে আউট হন। বড় সংগ্রহের পথে হাঁটলেও ২৪৭ রানেই থামতে হয় এইচপিকে।

জবাবে মুশফিকুর রহিম ও ইমরুল কায়েসের ফিফটিতে ভর করে ৬ উইকেট ও ১৩ বল হাতে রেখেই লক্ষ্যে পৌঁছায় ‘এ’ দল। মুশফিক ৭০ রানে অপরাজিত থাকলেও ইমরুল আউট হন ৬০ রান করে।

টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই পেসার শহিদুল ইসলাম কট বিহাইন্ডে পরিণত করেন এইচপি ওপেনার পারভেজ হোসেম ইমনকে (৩)। তবে আরেক ওপেনার তানজিদ হোসেন তামিম ও মাহমুদুদল হাসান জয় দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১৩০ রান।

৩৮ রান করা জয় কামরুল ইসলাম রাব্বির বলে নাজমুল হোসেন শান্তকে ক্যাচ দিলে ভাঙে জুটি। ততক্ষণে ৬৪ বলে ফিফটি ছুঁয়ে সেঞ্চুরির পথে তামিম। তবে মোসাদ্দেক হোসেনকে উড়িয়ে মারার চেষ্টায় ধরা পড়েন তাইজুল ইসলামে রহাতে। ৯৩ বলে ৬ চার ২ ছক্কায় সাজান ৮১ রানের ইনিংসটি।

তার বিদায়ের পর দলকে টেনে নেন দিপু। তাকে কিছুটা সঙ্গ দেন অধিনায়ক আকবর আলি। আকবর ২৮ রান করে ফিরলেও ফিফটি তুলে নেন দিপু। ৬৪ বলে ৫১ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে অবশ্য এরপর বেশি দূর যেতে পারেননি।

অন্য প্রান্তে আর কেউ বলার মতো কোনো স্কোর করতে পারেনি। এইচপিকে ২৪৭ রানে গুটিয়ে দেওয়ার পথে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট মোসাদ্দেকের। ২ টি করে উইকেট নেনে শহিদুল ইসলাম ও রুবেল হোসেন।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ‘এ’ দলের দুই ওপেনার মুমিনুল হক ও নাজমুল হোসেন শান্ত তোলেন ৩৫ রান। ১৮ বলে ঝড়ো ২৭ রান করে আউট হন শান্ত। এরপর ইমরুল কায়েসের সাথে মুমিনুলের ৫৮ রানের জুটি। ২৯ রান করে বিদায় নেন মুমিনুল। ইমরুলের সাথে মুশফিকুর রহিম যোগ করেন আরও ৫৯ রান।

৮১ বলে ৫ চারে ৬০ রান করা ইমরুলকে ফেরান লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব। মাঝে মোসাদ্দেক ২৪ রান করে থামলেও বাকি পথ মোহাম্মদ মিঠুনকে নিয়ে অনায়েসেই পাড়ি দেন মুশফিক।

দুজনে অবিচ্ছেদ্য ছিলেন ৫৬ রানের জুটিতে। ধীর লয়ে শুরু করা মুশফিক ফিফটির দেখা পান ৭৭ বলে। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৯১ বলে ৬ চার ১ ছক্কায় ৭০ রানে, মিঠুন অপরাজিত ২৩ বলে ২৮ রানে।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

এইচপি: ২৪৭/১০ (৪৮.৫ ওভার), তামিম ৮১, ইমন ৩, জয় ৩৮, দিপু ৫১, হৃদয় ৮, আকবর ২৮, শামীম ৮, বিপ্লব ৮, সুমন ১, রাজা ১, তানভীর ১*, রুবেল ৯.৫-১-৩২-২, রাব্বি ৮-০-৪৪-১, নাইম ৬-০-২৯-০, মোসাদ্দেক ৭-০-৩১-৪, শহিদুল ৮-০৫০-২, তাইজুল ১০-০-৫৭-০।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল: ২৫২/৪ (৪৭.৫ ওভার), মুমিনুল ২৯, শান্ত ২৭, ইমরুল ৬০, মুশফিক ৭০*, মোসাদ্দেক ২৪, মিঠুন ২৮*; মুগ্ধ ৭-০-৫০-০, শামীম ৮-০-৩৪-১, তানভীর ১০-১-৩০-০, সুমন ৯-০-৫২-২, রাজা ৮-০-৩৯-০, বিপ্লব৫.৫-০-৪৬-১।

বাংলাদেশ ‘এ’ দল ৬ উইকেট ও ১৩ বল হাতে রেখে জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বিশ্বকাপের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের ভ্রমণ সূচি চুড়ান্ত

Read Next

লো স্কোরিং ম্যাচে কোলকাতার স্বস্তির জয়

Total
33
Share