এখনো নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন শ্রেয়াস আইয়ার

এখনো নিজের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নন শ্রেয়াস আইয়ার

শ্রেয়াস আইয়ার গত কয়েক মাসে বেশ কঠিন সময় পার করেছেন। এ বছরের শুরুতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে কাঁধের ইনজুরিতে পড়েন। এরপর আইপিএলের ১ম পর্বে মিস করার পাশাপাশি ভারতের হয়ে বিশ্বকাপে ১৫ জনের স্কোয়াডে জায়গা করে নিতে পারেননি। যদিও রিজার্ভ খেলোয়াড়ের তালিকায় আছেন।

নির্বাচকদের প্রধান চেতন শর্মা জানান, তারা শ্রেয়াসের ফিটনেস ও পূনর্বাসনের ব্যাপারে নিশ্চিত ছিলেন না। সে কারণে আইপিএলের ২য় পর্বে তার উপর কড়া নজর রাখছেন।

ইনজুরি থেকে ফিরেই সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের বিপক্ষে ৪১ বলে অপরাজিত ৪৭ রানের ইনিংস খেলে নিজের দল দিল্লি ক্যাপিটালসে জয়ের বন্দরে পৌঁছান। তবে এখনো পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন তিনি।

‘এটা বেশ আনন্দের হলেও সত্যি বলতে আমি এখনও সন্তুষ্ট নই। আমার মধ্যে রানের ক্ষুধা অনেক আছে। প্রতি ম্যাচে খেলার মধ্য দিয়ে রানের ক্ষুধা আরো বাড়বে। সে কারণে আমি প্রথম ম্যাচের পারফরম্যান্সে সন্তুষ্ট নই,’ বলেন শ্রেয়াস।

‘আমার পরিবার, বন্ধু-বান্ধবরা আমার পাশে সবসময় ছিল। তারা আমাকে বুঝতে দেয়নি আমি ইনজুরির মধ্যে আছি। প্রথমে ইনজুরিতে আক্রান্ত হওয়ার পর আমি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছিল। কেননা আমি ক্রিকেটের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যস্ত ছিলাম। আমি ইনজুরি নিয়ে একদমই ভাবিনি। তবে আমার ক্ষেত্রে তা হলো। আমার জন্য হজম করতে কষ্ট হয়েছিল। তবে আমার পরিবার ও বন্ধুরা সবসময় আমাকে ব্যস্ত রেখেছিল। তারা আমাকে সবসময় ইতিবাচক রেখেছিল। পূনর্বাসনের সময় যখন আমি শক্তি পাচ্ছিলাম, তখন অনুভূতি দারুণ লাগছিল। এর মধ্য দিয়ে আমার মনে ভালো ভীত তৈরি হয় এবং আমি ইতিবাচক ও শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছি।’

শ্রেয়াসের ইনজুরির সময় দলের অধিনায়ক হন রিশাব পান্ট। তবে শ্রেয়াস ফিরে আসলেও অধিনায়কত্ব পান্টই করছেন। তবে এ নিয়ে মোটেই বিচলিত নন শ্রেয়াস।

‘দেখুন, যখন আমি অধিনায়কত্ব পেয়েছিলাম, তখন ভিন্ন প্রেক্ষাপট ছিল। আমার সিদ্ধান্ত ও ধৈর্য বেশ ভালো এবং গত দুই বছরে এটি আমাকে অনেক সাহায্য করছে। ফ্র‍্যাঞ্চাইজির সিদ্ধান্তে নেতৃত্ব পরিবর্তিত হয়েছে। আমি তা সম্মান করি। রিশাব দারুণভাবে দল পরিচালনা করছে। ফ্র‍্যাঞ্চাইজিরাও চাচ্ছে রিশাব যেন এবারের আইপিএলের শেষ পর্যন্ত দল চালায়।’

‘আমার ক্ষেত্রে এটি কোন সমস্যা না। এখন আমি ব্যাটিংয়ে অধিক মনযোগ দিয়ে ব্যাটিং করতে পারি যেটা অধিয়ানক থাকার সময় আদতে কম হয়। চাপের মধ্যে থাকতে আমি পছন্দ করি। চাপে থাকাকালীন বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা ভালো পারফর্ম করতে বেশি মনোযোগ থাকে আমার। সানরাইজার্সের বিপক্ষে ম্যাচে দলের জয়ের জন্য চাপ অনুভব করছিলাম। উইকেটেও বাউন্স ছিল প্রচুর। চেষ্টা ছিল শেষ পর্যন্ত খেলে দলকে জয় এনে দেওয়ার। যখনই আমি খেলি, শেষ পর্যন্ত লড়াই করে দলকে জয় এনে দিতে চাই সবসময়।’

‘আমি আমার কার্যক্ষমতা সম্পর্কে জানি। পরিস্থিতির উপর আমার ব্যাটিং পরিবর্তিত হয়। আমি সবসময় ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে খেলি। আমি যেমন আক্রমণাত্মকভাবে খেলি, তেমনি পরিস্থিতি বুঝে উইকেটে টিকে থাকার মত করেও খেলতে জানি। শুরু থেকে আমি আমার ছন্দ ধরে রাখার চেষ্টা করি। ইনজুরির আগেও যেমন ছিলাম, এখনও তাই আছি। রুটিন ও নিয়মমাফিকভাবে আমি আমার ব্যাটিং কার্যক্রম ধরে রেখেছি। টুর্নামেন্টের আরও অনেক ম্যাচ বাকি। আমি আমার পারফরম্যান্স ধরে রাখতে চাই এবং প্রথমবারের মত দিল্লির শিরোপা জয়ে অবদান রাখতে চাই,’ জানান শ্রেয়াস।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সহজ জয়ে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধার করল চেন্নাই

Read Next

অচেনা মঞ্চে রোমাঞ্চের কমতি নেই তামিমের

Total
27
Share