জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নেবে নারী দল

বাংলাদেশ নারী দল

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের জন্য ভালো প্রস্তুতি হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের ওয়ানডে অধিনায়ক রুমানা আহমেদ। এ বছরের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ে সফরে যাবে নারী দল।

এখনও ওয়ানডে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলার সুযোগ হয়নি নারী দলের। ২০১১ ও ২০১৭ সালের দুইটি বাছাইপর্বে ৫ম স্থানে থেকে তারা মূলপর্বের আগেই বিদায় নিয়েছিল। তবে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সর্বশেষ ৩ আসরে তারা মূলপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল।

ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রস্তুতি স্বরুপ নারী দলের জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড আয়োজন করে মাসব্যাপী আবাসিক ক্যাম্প। বিকেএসপিতে আগস্টের মাঝামাঝি সময় থেকে শুরু হওয়া এ ক্যাম্পে ক্রিকেটারদের স্কিল ও ফিটনেসের উপর জোর দেওয়া হয়। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজের আগে দুই দলকে জৈব সুরক্ষা বলয়ে প্রবেশ করতে হবে।

নিজেদের মধ্যে ৪টি দল করে ৫০ ওভারের টুর্নামেন্ট খেলে ক্যাম্পের সমাপ্তি সম্পন্ন করে তারা। ওয়াহিদুল গণি, দিপু রায়, রুহুল আমিন, ফারুক, শানু ও ইমন তাদেরকে দেখভাল করেন। এর আগেও নারী দলের সাথে তাদের কাজ করার অভিজ্ঞতা ছিল।

‘আমাদের এর আগে জিম্বাবুয়েতে খেলার অভিজ্ঞতা নেই। তাই জিম্বাবুয়েতে ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের জন্য টার্নিং পয়েন্ট হবে মনে করি আমি,’ ক্রিকবাজকে জানান রুমানা।

‘বিকেএসপিতে ১ মাসের ক্যাম্পের পর এখন আমরা ১০ দিনের বিরতিতে আছি। ২০ সেপ্টেম্বর থেকে আমরা পরবর্তীতে ক্যাম্প শুরু হবে এবং সম্ভবত জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের পূর্ব পর্যন্ত তা চলতে থাকবে। খেলার সূচি পেলে তখন নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

‘ক্যাম্পে আমরা কিছু ম্যাচ খেলেছি যেখানে আমাদের কয়েকজন ক্রিকেটার দারুণ পারফর্ম করেছে। আমাদের প্রস্তুতি বেশ ভালো হচ্ছে।’

টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে এশিয়া কাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ নারী দল জিম্বাবুয়েতে ১০ দলের ওয়ানডে বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব খেলবে ২১ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখান সেরা ৩ দল অন্য ৫ দলের সাথে নিউজিল্যান্ডে বিশ্বকাপের মূলপর্বে খেলবে।

১০ দলের মধ্যে বাংলাদেশ ছাড়াও আছে পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ড। আফ্রিকা থেকে জিম্বাবুয়ে অংশ নিচ্ছে স্বাগতিক হিসেবে। এশিয়া থেকে থাইল্যান্ড, পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল থেকে পাপুয়া নিউগিনি, ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন হিসেবে নেদারল্যান্ডস এবং আমেরিকা অঞ্চলের চ্যাম্পিয়ন ইউএসএ অংশ নিবে।

গত বছর করোনা মহামারীর আগে ফেব্রুয়ারি ও মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পর আর কোন আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি নারী ক্রিকেটাররা। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের মধ্য আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরে আসবে তারা। শেষবার ওয়ানডে ম্যাচ তারা খেলেছিল ২০১৯ সালের নভেম্বরে।

‘আমরা অনেকদিন ধরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলছি না। আমাদের জন্য এটা এখন আসল চ্যালেঞ্জ। সর্বাত্মক চেষ্টা দিয়ে আমরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবো,’ বলেন রুমানা।

‘বিশ্বকাপ খেলতে হলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, শ্রীলঙ্কা, পাকিস্তানের মত দলগুলোকে হারাতে হবে, এটা আমরা জানি। আমরা আমাদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট। আমরা এ চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে প্রথমবারের বিশ্বকাপের মঞ্চে খেলার জন্য মুখিয়ে আছি। এটাই আমাদের এখন মূল উদ্দেশ্য।’

‘জিম্বাবুয়েতে আমরা আগেই চলে যাবো এবং সেখানে আমাদের একটি ক্যাম্প হবে বলে আশা রাখি। বিশ্বকাপ বাছাইয়ের প্রস্তুতির জন্য ৩ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। বিশ্বকাপে জায়গা করে নেওয়া ছাড়া দ্বিতীয় আর কোন চিন্তা আমাদের মাথায় নেই।’

‘যদি আমরা তা না করতে পারি, তবে আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য থাকবে সেরা ৫ দলের মধ্যে থাকা যেন আমরা আইসিসি নারী চ্যাম্পিয়নশিপের চক্রে থাকি। এর ফলে এখনকার অবস্থা থেকে আমরা আরো বেশি করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে পারবো।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

চলে গেলেন জালাল আহমেদ চৌধুরী

Read Next

সাকিবের মতোই অপেক্ষায় বসবেন মুস্তাফিজ?

Total
1
Share