জীবনের যে অভিজ্ঞতা জানাতে পছন্দ করেন রঙ্গনা হেরাথ

যে অভিজ্ঞতা জানাতে পছন্দ করেন রঙ্গনা হেরাথ

ক্যারিয়ারের প্রথম ৯ বছর মুত্তিয়াহ মুরালিধরনের ছায়ায় আড়াল হয়ে ছিলেন, সুযোগ পেয়েছিলেন কেবল ১৪ টেস্টে। মুরালি পরবর্তী সময়ে দলের মূল স্পিনার হয়ে ৯ বছরেই খেলেন ৭৯ টেস্ট। আর এই সময়ে শিকার করেন প্রায় ৪০০ উইকেট, সবমিলিয়ে নামের পাশে ৪৩৩ টেস্ট উইকেট। বাঁহাতি স্পিনার হিসেবে যা এখনো সর্বোচ্চ।

শ্রীলঙ্কান কিংবদন্তী রঙ্গনা হেরাথ এখন বাংলাদেশের স্পিন কোচ। বিশ্বকাপ সামনে রেখে ‘ক্রিকেট৯৭ কে দিয়েছেন একান্ত সাক্ষাৎকার। তাতে বাংলাদেশী স্পিনারদের ভবিষ্যত, সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স, বিশ্বকাপে সুযোগ নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি গল্প জুড়ে দেন নিজের ক্যারিয়ারেরও। পাঠকদের জন্য সেটি নিচে তুলে ধরা হল-

রঙ্গনা হেরাথ

ক্রিকেট৯৭: বাংলাদেশে কাজ করাটা কেমন উপভোগ করছেন?

হেরাথ: আমি বেশ উপভোগ করছি। বিসিবিকে ধন্যবাদ দিতে চাই এমন মূল্যবান একটা সুযোগ দেওয়ার জন্য। এইতো দলের সাথে যোগ দিয়েছি সাড়ে তিন মাসের মত হয়ে যাচ্ছে। দলের সাথে কাটানো সময়গুলো খুব উপভোগ করছি। এই সময়ে আমরা তিনটি ভালো সিরিজ পার করেছি, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের মত দলের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছি। আমি বেশ আনন্দিত এসবের অংশ হতে হতে পেরে।

ক্রিকেট৯৭: তিনটি সিরিজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। স্পিনারদের পারফরম্যান্স কীভাবে মূল্যায়ন করবেন?

হেরাথ: শুরু থেকে মেহেদী (হাসান মিরাজ), নাসুম (আহমেদ), সাকিব (আল হাসান), মাহেদী (শেখ মেহেদী) নিজেদের শতভাগ দিয়েছে। আমি বেশ খুশি তারা যেভাবে পারফর্ম করেছে। প্রতিটি আলাদা ক্রিকেটারেরই উন্নতির জায়গা আছে। কোচ হিসেবে আমি এসব নিয়ে কাজ করছি। তবে আমি একটা কথা নিশ্চিত করে বলতে পারি এরা সবাই শেখার জন্য মুখিয়ে থাকে। একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে তারা কঠোর পরিশ্রম করে সবসময়। আমি বেশ আনন্দিত এমন কিছু স্পিনারকে পেয়ে।

রঙ্গনা হেরাথ

ক্রিকেট৯৭: বাংলাদেশী স্পিনারদের মাঝে কেমন সম্ভাবনা দেখেন?

হেরাথ: আপনি জানেন সামনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। আমাদের পূর্ণ মনযোগ এখন সেখানেই। বিশ্বকাপের পর আমাদের কিছু টেস্ট ও ওয়ানডে ম্যাচ আছে। আসলে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল এই স্পিনারদের বাইরের দেশে ভালো করতে না পারাটা। স্পিনারদের নিয়ে ভাবার এটা গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। আমি তাদের সম্পর্কে জানি, তারা বাইরেও ভালো করার সামর্থ্য রাখে। তাদের সাথে এখন কাজটা ঠিকঠাকভাবে করতে হবে। আমি জানিনা নির্বাচকরা কি পরিকল্পনা করছে। তবে এতটুকু নিশ্চিত যে এই ছেলেগুলো নিজে থেকে কাজ করতে আগ্রহী।

ক্রিকেট৯৭:বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের প্রস্তুতি কেমন হয়েছে বলে মনে করেন?

হেরাথ: এককথায় দুর্দান্ত। সর্বশেষ তিনটি সিরিজে আমরা জিতেছি, জিম্বাবুয়ে, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড। এটা দারুণ ব্যাপার, জয়ের মানসিকতাটা পোক্ত হয়েছে। ক্রিকেটারদের শরীরি ভাষা, অ্যাপ্রোচে বড় পরিবর্তন এসেছে। এভাবে উইনিং কম্বিনেশনকে একসুতোয় গাঁথলে বলতেই হবে বিশ্বকাপ সামনে রেখে বাংলাদেশের খুব ভালো প্রস্তুতি হয়েছে।

ক্রিকেট৯৭: অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজের উইকেট নিয়ে অনেক কথা হচ্ছে। আদর্শ প্রস্তুতিতে কতটা প্রভাব রেখেছে?

হেরাথ: আপনি যেটা বললেন এখানে স্পিনারদের জন্য কিছুটা বাড়তি সাহায্য ছিল। সেদিক থেকে ব্যাটসম্যানদের জন্যও তো চ্যালেঞ্জ ছিল। এখন আপনি যখন অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ডে যাবেন তখন ঘাসের উইকেটে পেস, বাউন্স এসবই মোকাবেলা করতে হবে। ওসব দেশে খেলতে গেলে আমাদেরও একই চ্যালেঞ্জ নিতে হয়। একজন পেশাদার স্পোর্টসম্যান হিসেবে যখন যেখানেই খেলতে যান না কেন আপনাকে কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নিতে হবে। আর এভাবেই আমরা সবসময় পেশাদারিত্বের কথা বলি। সুতরাং এসব নিয়ে না ভেবে উন্নতির জায়গাগুলো চিহ্নিত করে, সমাধান খুঁজে ভালো করার দিকেই মনযোগ দিতে হবে।

ক্রিকেট৯৭: বাংলাদেশ কেমন করবে বলে মনে করেন বিশ্বকাপে?

হেরাথ: হ্যাঁ, আমি আগে যেটা বললাম প্রস্তুতি খুব ভালো হয়েছে। আমরা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের একদম দ্বারপ্রান্তে। দল হিসেবে সেরা প্রস্তুতি নিয়েই বিশ্বকাপে যাচ্ছি। আপনি দেখেছেন গতকাল আইপিএল শুরু হয়েছে, আমি আশা করি এ কারণেই স্পিনাররা কিছুটা হলেও আবুধাবি, দুবাই ও শারজাহতে সুবিধা পাবে। সেদিক থেকে আমাদের দলে বেশ ভালো মানের কিছু স্পিনার আছে। আমি বিশ্বাস করি ছেলেরা ভালো একটা সময় পার করবে বিশ্বকাপে।

ক্রিকেট৯৭: সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমানে স্পিনারদের ভূমিকা কি হবে?

হেরাথ: একজন স্পিনার হিসেবে যেখানেই আপনি খেলেন না কেন আপনাকে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে হবে। সেটা আবুধাবি হোক, দুবাই হোক আপনাকে দায়িত্ব সম্পর্কে আগে সচেতন হতে হবে। বিশেষ করে পাওয়ার প্লেতে কীভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে সেটা তড়িৎ গতিতে ধরে ফেলতে হবে। বাউন্ডারি কম হজম করার চেষ্টা করতে হবে। পেসাররা যেন এই ৬ ওভারে দুই-একটা উইকেট তুলে নিতে পারে সে পথটা তৈরি করার চেষ্টা করতে হবে। পরিস্থিতি অনুযায়ী সজাগ থাকাটা একজন কোয়ালিটি স্পিনারের মূল ভূমিকা হবে।

ক্রিকেট৯৭: শেষ সাড়ে ৩ মাসে কেউ কি আলাদা করে আপনার নজরে এসেছে?

হেরাথ: এখানে আমার সময়টা খুব বেশি দিন হয়নি। তবে বেশ কয়েকজন স্পিনারের সাথে কাজ করলাম। নাম ধরে ধরে বললে মেহেদী হাসান মিরাজ, নাইম হাসান, তাইজুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ, আমিনুল ইসলাম বিপ্লব ও অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। এদের সাথে গত সাড়ে ৩ মাসে আমার কাজ করা হয়েছে। বিশ্বকাপে এদের পারফরম্যান্স দেখতে মুখিয়ে আছি। বিশ্বকাপের পর (চুক্তি নবায়ণ হলে) লোকাল আরও কিছু বাড়তি স্পিনারকে দেখার ইচ্ছে আছে।

ক্রিকেট৯৭: স্পিন কোচ হিসেবে সাকিব আল হাসানের মত ক্রিকেটারকে দলে পাওয়াতে কাজ কিছুটা হলেও সহজ হয় কীনা?

হেরাথ: আপনি জানেন সাকিব বাংলাদেশের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার। সে আইপিএল সহ প্রচুর ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে খেলেছে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেও আছে তার প্রচুর ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। এসব ক্ষেত্রে তার অভিজ্ঞতা ও তথ্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

তার সাথে এসব নিয়ে আলোচনা হয়, সে নিজেও আমি সহ দলের অন্য স্পিনারদের সাথে অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করে। কোচ হিসেবে আমরা সাধারণত বাইরের কারও উদাহরণ দিই কিন্তু সাকিবের মত ক্যালিবারের একজন যখন দলে থাকে সে নিজেই পরিস্থিতি কিভাবে সামলাতে হবে তার পরামর্শ অন্যদের দেয়। সুতরাং আমি দেখি সে খেলার পাশাপাশি বাকিদের মাঝেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে।

ক্রিকেট৯৭: বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের স্পিনাররা এখনো বলার মত ভালো করছেনা। এই অল্প সময়ে কোনো ঘাটতি কি বের করতে পেরেছেন?

হেরাথ: এশিয়ার স্পিনাররা সেটা ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, বাংলাদেশ যেখানকারই হোক না কেন এটা সবার জন্যই চ্যালেঞ্জের। আর এটা নিয়েই আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা ইতোমধ্যে কাজ শুরুও করেছি তবে এখনো বেশ কিছু জায়গায় ধরে ধরে কাজ করা বাকি। পেশাদার ক্রিকেটে উন্নতির শেষ নেই, কাজ করতে হয় নিয়মিত। টেকনিক্যাল ও মানসিক দিক থেকে আমাদের কাজটা শুরু হয়েছে। সময়ের সাথে সাথে উন্নতির ছাপ দেখা যাবে আশা করছি।

ক্রিকেট৯৭: এবার একটু আপনার ব্যক্তিগত ক্যারিয়ারে নজর দিই। আপনার ক্যারিয়ারের অর্ধেকের বেশি সময় কেটেছে মুত্তিয়াহ মুরালিধরনের ছায়া হয়ে। সে পথ পেছনে ফেলে আপনি এখনো বাঁহাতি স্পিনারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। নামের পাশে ৪০০ এর বেশি টেস্ট উইকেট। যাত্রাটা কতটা কঠিন ছিল?

হেরাথ: হ্যাঁ, এটা বেশ ভালো একটা প্রশ্ন। এই অভিজ্ঞতা জানাতে আমি পছন্দ করি। ১৯৯৯ থেকে ২০০৯ (২০০৮ সালের ডিসেম্বর) সাল পর্যন্ত আমি মাত্র ১৪ টি টেস্ট খেলেছি, সম্ভবত ৩৫-৩৬ (মূলত ৩৬) টি উইকেট পেয়েছিলাম। যেখানে ২০০৯ থেকে ২০১৮ সাল সময়কালে আমি ৮০ (মূলত ৭৯) টির মতো টেস্ট খেলেছি, প্রায় ৪০০ এর মতো উইকেট নিয়েছি। সেদিক থেকে কীভাবে আমি আমার প্রথম ১০ বছরের ক্যারিয়ার অতিবাহিত করেছি?

এখানে বেশ কঠিন কিছু চ্যালেঞ্জ ছিল, সুখের মুহূর্ত ছিল কিছু দুঃখের মুহূর্ত ছিল। কলম্বোর বাইরে থেকে আসাতে আমাকে টিকে থাকতে কিছুটা লড়াইও করতে হয়েছিল। বেশ কঠিন কিছু সময়তো পার করতেই হয়েছে। আমি সবসময় খুশি যেভাবে আমি সেসব চ্যালেঞ্জ সামলে নিয়েছি।

রঙ্গনা হেরাথ

১৯৯৯ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গল টেস্টে অভিষেকের পর খেললাম ৩ টেস্ট। এরপর ৪ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে আরেকটি টেস্ট ম্যাচ খেলার জন্য। আমি কোনভাবেই নিয়মিত খেলার সুযোগ পাইনি। কিন্তু আমি আমার লক্ষ্য থেকে কখনোই সরে আসিনি আমার স্বপ্ন পূরণের জায়গা থেকে। আমি নিজেকে বুঝিয়েছি ২১ বছর বয়সে শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলতে পারলে আবারও কেন ঘুরে দাঁড়াতে পারবোনা? আমাকে কিছু জিনিস বিবেচনায় নিতে হয়েছিল, আমাকে আবার ঘরোয়া ক্রিকেটে পূর্ণ মনযোগ দিতে হয়েছে।

আমি ইংল্যান্ডে গিয়েও কিছু ম্যাচ খেলেছি। আমি আমার জায়গা থেকে শতভাগ দিতে চেয়েছি। নিজের কাজ নিয়ে সৎ থাকতে চেয়েছি। তবে আমি কখনো অভিযোগ করিনা, আমি অনুতপ্তও না। আমার নিজের প্রতি বিশ্বাসটা ছিল। আর এভাবেই ছায়া হয়ে ১০ বছর পার করেছি। এটা কয়েক মিনিটে ব্যাখ্যা করার মত যাত্রা ছিল না। কিন্তু আমি বলতে চাই, আমি অনেক কঠিন সময়ের মুখোমুখি হয়েছিলাম। সেসব দারুণভাবে সামলেও নিয়েছি।

যে পথে আমার কোচদের কৃতিত্ব দিতেই হবে, তারা আমাকে ভালোভাবে পথ দেখিয়েছে। আমি একটা ব্যাংকে চাকরি করি, তারা আমার ঐ সময়টাতে যে সমর্থন দিয়েছে সেটাও না বললে অন্যায় হবে। তবে আবারও বলবো আমার কোনো অভিযোগ নেই। ঐ সময়গুলোতে নিজের সেরা সিদ্ধান্তগুলো নিতে পেরেছি বলে আনন্দ পাই।

ক্রিকেট৯৭: আপনার ক্যারিয়ারের এই ধৈর্য্যের যে বহিঃপ্রকাশ সেটা উঠতি তরুণদের মাঝে কীভাবে ছড়িয়ে দিতে চান?

হেরাথ: শ্রীলঙ্কার জনসংখ্যা ২২-২৩ মিলিয়ন। যেখানে দেশের হয়ে খেলার জন্য খুব কম লোকই সুযোগ পায়। যা খুবই দারুণ অনুভূতির, কিন্তু কোনোনভাবেই সহজ কাজ নয়। বাংলাদেশের সাথে তুলনা করলে বলতে হয় সেখানে ১৭০ মিলিয়ন লোকের বসবাস। সেখানেও বাংলাদেশের হয়ে খেলা কারও অনুভূতি নিশ্চিতভাবেই অসাধারণ। আমার সৌভাগ্য হয়েছে শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলার। লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে তরুণদের জন্য আমার বার্তা হল কিছু জিনিস আপনাকে ধরে রাখতে হবে। পারফরম্যান্স, কঠিন পরিস্থিতিতে টিকে থাকার মানসিকতা রাখতে হবে।

এ ক্ষেত্রে একজন স্পোর্টসম্যান হিসেবে আপনাকে খুঁজে বের করতে হবে আপনার শক্তির জায়গা কোনটি। এটা খুঁজে বের করার পর আপনাকে নিজের প্রতি বিশ্বাস রাখতে হবে। যেন ব্যাপারটা এমন হয় যে সমস্যাতেই পড়েন না কেন নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকে আমি সামলে নিতে পারবো। যখন নিজের প্রতি বিশ্বাস থাকবে আপনি সবসময় সেরা সিদ্ধান্তগুলো নিতে পারবেন।

আমি আমার কথাই বলি। প্রথম ১০ বছরে আমি অনেক কিছুর মুখোমুখি হয়েছি কিন্তু হাল ছাড়িনি, স্বপ্ন, লক্ষ্য থেকে দূরে সরিনি। একজন স্পোর্টম্যান হিসেবে আপনার সামনে কিছু না কিছু সমস্যা আসবেই।

Rangana Herath was chaired around the outfield, Sri Lanka v England, 1st Test, 4th day, Galle, November 9, 2018

কোনোভাবে অভিযোগ করা যাবেনা, নিজের লক্ষ্য থেকে ফেরা যাবেনা। আপনি যেটা করতে চাচ্ছেন সেটাতেই মনযোগ দিন। কঠোর পরিশ্রম করতে হবে, আরামের জায়গাগুলো থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। প্রতিদিন নিয়মকরে পরিশ্রম করতে হবে। এভাবেই আমি আগামীর ক্রিকেটারদের আমার নিজের অভিজ্ঞতা দিয়ে উপদেশ দিতে চাই।

ক্রিকেট৯৭: ২০১৮ সালে অবসরের পর আপনি একটা সাক্ষাৎকারে বলেছেন ব্যাংকের চাকরিটাতেই পূর্ণ মনযোগ দিতে চান। অথচ ৩ বছরের মাথায় আপনি বাংলাদেশের স্পিন কোচ হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করলেন। ব্যাংকের চাকরির পাশাপাশি কোচিং করাচ্ছেন। এ ব্যাপারটা যদি একটু বলতেন…

হেরাথ: হ্যাঁ, আমি আমার ব্যাংক জবটাই করতে চেয়েছি যেটা আপনি বললেন। এই ব্যাংকের সাথে কাজ করতে গিয়ে আমি প্রচুর সুযোগ পেয়েছি। আমি কোচিং নিয়ে কাজ করেছি,। এখনো আমি ঐ ব্যাংকে কাজ করছি। তারা আমাকে কাজের পাশাপাশি কোচিং করানোর সুযোগটা দিয়ে আসছে। এখনো আমি বলবো আমি ব্যাংক জবটা চালিয়ে নিতে চাই। সাথে কিছু কোচিং করাতে চাই। আর এসব কিছু সম্ভব হচ্ছে ব্যাংকের সহায়তায়, তাদেরকে আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।

Sampath Bank engages and rewards Rangana Herath's fans | Daily FT

ব্যাংকের সাথে সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আমি কৃতজ্ঞ। সেই ২০০০ সাল থেকে আমি এই ব্যাংকে কাজ করছি, ২১ বছর হয়ে গেল। তবে তারা আমাকে এখনো সেই আগের মত সুযোগ সুবিধা দিয়ে আসছে। এইতো কিছুদিন আগেও আমি ব্যাংকের একটা ইভেন্টে যোগ দিয়ে এসেছি। অবসরের পর শুধু ব্যাংক জব নিয়ে ভাবলেও এখন আমি বলতে চাই আমি ব্যাংক জবটার সাথে কোচিংটাও চালিয়ে নিতে চাই।

ক্রিকেট৯৭: সম্প্রতি শ্রীলঙ্কান আরেক তারকা ক্রিকেটার লাসিথ মালিঙ্গা অবসরের ঘোষণা দিল। তার সাথে কোনো স্মৃতি…

হেরাথ: আমি তাকে অভিনন্দন জানাতে চাই তার দুর্দান্ত ক্যারিয়ারের জন্য। একই সাথে তার ভবিষ্যত ক্যারিয়ারের জন্যও শুভ কামনা জানাতে চাই। তার সাথে আমার সেরা স্মৃতি বললে ২০১৪ সালে তার অধীনে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার কথা বলতে হয়। ভাগ্যক্রমে আমি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ঐ আসরে শ্রীলঙ্কার হয়ে খেলার সুযোগ পাই । আর সে সময়টায় লাসিথ মালিঙ্গার সাথে কাটানো আমার কিছু ভালো স্মৃতি আছে।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

বিশ্বকাপে বিশ্বমানের খেলোয়াড়দের চ্যালেঞ্জ মানছেন শামীম

Read Next

পাকিস্তানে যাচ্ছে না ইংল্যান্ড, যারপরনাই হতাশ রমিজ রাজা

Total
13
Share