নীরবেই নিষেধাজ্ঞামুক্ত ক্লাব, কপাল পুড়লো দুই ক্রিকেটারের

বিসিবি লোগো

২০১৭ সালে আম্পায়ারের পক্ষপাতমূলক সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে অবস্থান নিয়ে চিরদিনের জন্য ঢাকার ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ হয় দ্বিতীয় বিভাগের লালমাটিয়া ও ফিয়ার ফাইটার্স ক্লাব। এই দুই ক্লাবের দুই ক্রিকেটার নিষিদ্ধ হন ১০ বছরের জন্য। তবে বছর দুয়েকের মাথায় অনেকটা নীরবেই নিষেধাজ্ঞা মওকুফ হয়ে যায় ক্লাবের। দুই ক্রিকেটার সুযোগ পেয়েও অবশ্য আপিল করেননি, এখনো অভিমানের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন তারা।

লাল মাটিয়া ও ফিয়ার ফাইটার্সকে আজীবন নিষিদ্ধ করার ঘটনা বেশ আলোড়ন তুলেই সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশ করেছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। তবে তাদের নিষেধাজ্ঞা মুক্তির খবর নজরেই আসেনি খুব একটা। ইতোমধ্যে ২০১৯-২০ মৌসুমে ক্লাব দুটি অংশগ্রহণও করে। ফিয়ার ফাইটার্স পয়েন্ট টেবিলে আছে সবার উপরে, ফলে আগামী মৌসুমে তাদের প্রথম বিভাগ খেলাও নিশ্চিত। লাল মাটিয়ার অবস্থান অবশ্য ১৪তম।

No description available.

তবে এত কিছু ঘটে গেলেও আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবি সেটি জানায়নি। যদিও সম্প্রতি ‘ক্রিকেট৯৭’ এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে ক্রিকেট কমিটি অব ঢাকা মেট্রোপলিস (সিসিডিএম) সদস্য সচীব আলি হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, ‘দুই বছর তারা (দুই ক্লাব) লিগে অংশ নেয়নি। এ সময়কালে তারা আপিল করেছে বিসিবির কাছে। তাদের আপিলের প্রেক্ষিতেই সাজা মওকুফ করে দেওয়া হয়। গত মৌসুমেই তারা মাঠে ফিরেছে। আর কোনো বিতর্ক না হলে ভবিষ্যতেও তারা এটা চালিয়ে নিবে। আর যে ক্রিকেটাররা নিষিদ্ধ হয়েছিল তারা আসলে পরে আর আবেদন করেনি, যে কারণে তাদের সাজা বহালই আছে।’

কি ঘটেছিল ২০১৭ সালে?

২০১৭ সালের ১১ এপ্রিল সিটি ক্লাব মাঠে এক্সিওম ক্রিকেটার্সের বিপক্ষে লাল মাটিয়ার বোলার সুজন মাহমুদ আম্পায়ারের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ওয়াইড ও নো দিয়ে ৪ বলে ৯২ রান খরচ করেন। আগেরদিন ইন্দিরা রোড ক্রীড়াচক্রের বিপক্ষে ফিয়ার ফাইটার্সের তাসনিম হাসান ৭ বলে দেন ৬৪ রান। যা দেশ ছাড়িয়ে বিদেশী সংবাদ মাধ্যমের শিরোনামেও ঠাই পেয়েছে।

300810 copy

আর পুরো বিষয়টিকে বিশ্বের সামনে বাংলাদেশকে নেতিবাচকভাবে তুলে ধরার ষড়যন্ত্র হিসেবে দেখেছিল বিসিবি। পরে তদন্ত কমিটি গঠন করে এই দুই বোলারকে ১০ বছর, তাদের ক্লাবকে আজীবন, দুই দলের কোচ, ম্যানেজার ও অধিনায়ককে ৫ বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়।

কোথায়, কেমন আছেন তাসনিম ও সুজন?

শাস্তি দিয়ে বিসিবি আপিল করার সুযোগও রেখেছিল তাসনিম হাসান রুবেল ও সুজন মাহমুদের জন্য। তবে শাস্তি দেওয়ার আগে শুনানিতে ক্ষমা চেয়েও ক্ষমা না পাওয়ায় অভিমানে আর আপিলই করেননি ফিয়ার ফাইটার্সের তাসনিম। পেশাদার ক্রিকেটকে বিদায় বলে বেছে নেন অন্য পেশা। বর্তমানে কাজ করছেন দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ঔষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানে। যদিও ব্যাট-বলের সাথে সম্পর্ক চুকাননি একেবারে।

বর্তমানে তাসনিমকে দেখা যায় বিভিন্ন কর্পোরেট ক্রিকেটে অংশ নিতে। এসব টুর্নামেন্টে মূলত প্রাণের খোরাক মিটিয়ে চলেছেন। নিজের জীবন নিয়ে অবশ্য আক্ষেপ নেই খুব একটা। প্রতিনিয়ত শুভ কামনা জানান বাংলাদেশ ক্রিকেটকে।

‘ক্রিকেট৯৭’ কে তিনি বলেন, ‘আমি এটা নিয়ে আর কিছু বলতে চাইনা। এখন আমি অনেক ভালো আছি। জব করছি, কর্পোরেট ক্রিকেট খেলছি, আল্লাহ অনেক ভালো রাখছে। আর কোন ইস্যুতে নিউজ হোক সেটা চাচ্ছিনা। অনেক অপমান হয়েছি আর না, দোয়া করবেন আমার জন্য। আল্লাহ ভালোই রাখছে, কর্পোরেট ক্রিকেটে একটু খোঁজ নেন তাহলেই বুঝতে পারবেন কেমন আছি।’

No description available.
অভিমান পুষে রেখেছেন তাসনিম হাসান রুবেল

‘বাংলাদেশের আম্পায়ারিং বিতর্ক থেকেই যাবে, সে যাই করা হোক না কেন। বাংলাদেশ ক্রিকেট দীর্ঘজীবি হোক। বাংলাদেশে প্রতিবাদ করলে উল্টো হাসির পাত্র হতে হয়। কি দরকার এসবের? এসব নিয়ে আর ঘাঁটাঘাঁটি না করাই ভালো, যে দেশে অপরাধীরা বুক ফুলিয়ে ঘুরে আর প্রতিবাদীরা মুখ লুকিয়ে বেড়ায় সে দেশে আর কোনো নিউজের প্রয়োজন আছে কি?’

সুযোগ থাকলেও নিষিদ্ধ হওয়ার পর কেন আপিল করেননি জানতে চাইলে বলেন, ‘কথাটা সত্য না আবার সত্যি (আপিল করা)। আমাকে যখন হেয়ারিংয়ে ডাকা হয় তখনই ক্ষমা চেয়েছিলাম কিন্তু তারপরও নিষিদ্ধের খবরে আমি। তারপর থেকে আর খেলার ইচ্ছে টা থাকে না তাই আবেদনের ফরমই নিইনি।’

অন্যদিকে লাল মাটিয়া ক্লাবের সুজন মাহমুদ যেন সব কিছু ছেড়ে আরও দূরে চলে গেছেন। এমনকি নিজের ঠিকানা বদলে ঢাকা ছেড়েছেন অনেক আগেই। কাজ করছেন একটি বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে। সেখান থেকে ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপে কোনভাবেই কথা বলতে চাননি আম্পায়ারিং বিতর্ক, নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ার নিয়ে। তবে জানালেন বর্তমানে নিজের জীবন নিয়ে ভালোই আছেন, পুরোনো অতীত আর টেনে আনতে চান না।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

আইপিএলে রিপ্লেসমেন্ট তালিকা চূড়ান্ত করল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো

Read Next

কক্সের ব্যাটে টি-টোয়েন্টি ব্লাস্টের চ্যাম্পিয়ন কেন্ট

Total
10
Share