সোহানের বিপদের বন্ধু মুশফিকই

সোহানের বিপদের বন্ধু মুশফিকই

নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে মুশফিকুর রহিম ও নুরুল হাসান সোহানের মধ্যে কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর উইকেট কিপিং ভাগাভাগি করে দেওয়া বেশ বড় বিতর্কই তৈরি করে। সিরিজের মাঝপথেই টি-টোয়েন্টিতে মুশফিকের কিপিং ছাড়ার পেছনেও অনেকে দায়ী করছেন বিষয়টিকে। তবে সিরিজ জুড়েই সোহানকে কিপিংয়ের নানা কৌশল শেখাতে দেখা যায় মুশফিককে।

প্রায় চার বছর পর জিম্বাবুয়ে সিরিজ দিয়ে জাতীয় দলে প্রত্যাবর্তন সোহানের। দেশের টেকনিক্যালি এক নম্বর কিপার বলা হয়ে থাকে তাকে। আর তার মত কিপার দলে আসার পরই মুশফিকের কিপিং নিয়ে বাড়তি আলোচনা শুরু হয়। বিশেষ করে মুশফিকের অনুপস্থিতিতে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে সোহানের কিপিং নজর কাড়ে সবারই।

কোচ ডোমিঙ্গো তাই নিউজিল্যান্ড সিরিজের আগে জানান প্রথম দুই ম্যাচ সোহান ও পরের দুই ম্যাচ মুশফিক কিপিং করবেন। আর এই চার ম্যাচের পারফরম্যান্স মূল্যায়ণ করে পঞ্চম ম্যাচে কিপার নির্ধারণ করা হবে। এমন সিদ্ধান্তে হতবাক করেছে অনেককেই, মুশফিক-সোহান দুজনের জন্যই এমন কিছু হতাশার বলেছেন বিশ্লেষকরা।

যদিও তৃতীয় ম্যাচের আগেই মুশফিক জানিয়ে দেন তিনি আর টি-টোয়েন্টিতে কিপিং করবেন না। এর পেছনে কোচের সাথে অভিমানকে সামনে আনেন ভক্ত সমর্থক থেকে বিশ্লেষকরা।

কিপিং ছাড়লেও অনুশীলনে অনুজ সোহানকে কিপিং তালিম দিতে দেখা যায় মুশফিককে। যে দৃশ্য নেট দুনিয়ায় ভাইরাল হয় মুহূর্তেই।

এদিকে সোহান বলছেন কেবল নিউজিল্যান্ড সিরিজ চলাকালীন নয় যেকোনো প্রয়োজনের সময়ই মুশফিকের কাছে ছুটে যান তিনি। জাতীয় দলের বাইরে থাকা সময়টাতেই বেশ সাহায্য করেছেন মিস্টার ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিক।

আজ (১৫ সেপ্টেম্বর) মিরপুরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে সোহান বলেন, ‘শুধু সিরিজের (নিউজিল্যান্ড) শেষ ম্যাচের আগে না। মুশফিক ভাই তো ১৬-১৭ বছর ধরে বাংলাদেশ দলে খেলছেন। শুধু বাংলাদেশ না বিশ্বের সেরা উইকেটরক্ষকদের একজন তিনি। তো আমি সবসময়ই চাই যে তার কাছ থেকে তার অভিজ্ঞতা ও যে জিনিসগুলো শেখার আছে।’

‘সবসময় সেসব নিয়ে কথা হয়। এমনকি যখন জাতীয় দলের বাইরে ছিলাম তখন ফিটনেস, ব্যাটিং ও উইকেটকিপিং নিয়ে সবসময় কথা হতো। তো সবসময়ই তার কাছ থেকে সমর্থন পেয়ে থাকি।’

এদিকে আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আগে উইকেট কিপিং ইস্যুতে সুরাহ হয়ে যাওয়াটা সোহানকে কতটা নির্ভার করছে এমন প্রশ্নও আসে। সোহান নিজে অবশ্য বলছেন নিজের মানসিকতায় পরিবর্তন এনেছেন আগেই। এখন আর এসব নিয়ে আলাদা করে ভাবেন না, দলে অবদান রাখাতেই বাড়তি মনযোগ।

এই উইকেট রক্ষক বলেন, ‘সবথেকে বড় হলো দুই-তিন বছর যখন জাতীয় দলের বাইরে ছিলাম তখন থেকে আমার মানসিকতা পরিবর্তন করতে পেরেছি। এখন খুব বেশি কিছু ম্যাটার করে না। মনে হয় যখন দলের হয়ে খেলছি তখন দলের জয়ে ভূমিকা রাখার জন্য যে দায়িত্ব থাকে সেটা পালন করাই আমার প্রথম দায়িত্ব।’

‘তো আমার কাছে কোন বিষয় এখন অতটা ম্যাটার করে না। বড় বিষয় হলো আমি পরিকল্পনা অনুযায়ী কঠিন পরিশ্রম করতে চাই, অনেক কিছু যেগুলো আমার আয়ত্বে নেই বা ভবিষ্যত বা অতীত নিয়ে খুব একটা ভাবিনা।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাকিস্তান সিরিজের প্রস্তুতি দুই মাস আগেই শুরু করছে শান্তরা

Read Next

দুই ফরম্যাটেই ডিপিএল নিয়মিত করতে চায় সিসিডিএম

Total
1
Share