শেষটা জয়ে রাঙাতে পারলো না বাংলাদেশ

শেষটা জয়ে রাঙাতে পারলো না বাংলাদেশ

এক ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ। ফলে আজ (১০ সেপ্টেম্বর) পঞ্চম ম্যাচে বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তন এনেছিল স্বাগতিকরা। সবচেয়ে বড় পার্থক্য এদিন খেলা হয়েছে সর্বশেষ ৯ ম্যাচে ব্যবহার হয়নি এমন উইকেটে। উইকেটের সাহায্য পেয়েই কিউই ব্যাটসম্যানরা দেখালেন ঝলক। আর তাতেই নিজেদের শক্তির জায়গা স্পিন নির্ভর উইকেট না পেয়ে আত্মসমর্পণ বাংলাদেশের।

২৭ রানে হেরে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ৩-২ ব্যবধানে শেষ করলো টাইগাররা। বিশ্বকাপের আগে শেষ সিরিজের শেষ ম্যাচটা জয়ে রাঙানো হলনা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলের।

টস জিতে আগে ব্যাট করে ফিন অ্যালেনের শুরুর ঝড়ের পর শেষদিকে অধিনায়ক টম লাথামের ফিফটিতে ৫ উইকেটে ১৬১ রানের পুঁজি নিউজিল্যান্ডের। যা এই ম্যাচ সহ সর্বশেষ ১১ ম্যাচে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। অ্যালেন ২৪ বলে ৪১ রান করেন, ৩৭ বলে ৫০ রানে অপরাজিত ছিলেন লাথাম।

জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে বাংলাদেশ। টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে আফিফ হোসেন ছিলেন কেবল উজ্জ্বল। যদিও আগে পরে যোগ্য সঙ্গের অভাবে বৃথা যায় তার অপরাজিত ৪৯ রানের ইনিংস।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে বিশ্রাম দিয়েছিল বাংলাদেশ। তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ হয় তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার, শরিফুল ইসলাম ও শামীম হোসেনের।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে যেমন শুরু দরকার তেমনটা পায়নি বাংলাদেশ। দুই ওপেনার লিটন দাস ও নাইম শেখ ধীরে লয়ে শুরু করেও উইকেট বাঁচাতে পারেনি। পঞ্চম ওভারেই আজেজ প্যাটেলের বলে পয়েন্টে স্কট কুগেলেইনের হাতে ধরা পড়েন লিটন (১২ বলে ১০)। পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ৩৫ রান।

সিরিজে প্রথম সুযোগ পেয়ে তিন নম্বরে নামা সৌম্য সরকার ব্যর্থ আরেক দফা। নিউজিল্যান্ড সিরিজের ব্যর্থতা টেনে এনে কোল ম্যাককঞ্চির বলে পয়েন্টে রাচিন রবীন্দ্রকে ক্যাচ দেন ৯ বলে ৪ রান করে। ১ রানের ব্যবধানে বেন সিয়ার্সের শিকার নাইম। ক্রিজে টিকে নাইমের ইনিংস লম্বা করতে না পারার সংখ্যা বেড়েই চলেছে।

এমন পরিস্থিতিতে মিস্টার ডিপেন্ডেবল মুশফিকুর রহিম হতে পারতের ত্রাণ কর্তা। তবে হতাশা করে লং অফে উড়িয়ে মারতে গিয়ে বাঁহাতি স্পিনার রবীন্দ্রের শিকার মাত্র ৩ রান করে। ৪৬ রানেই নেই ৪ উইকেট। ততক্ষণে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে প্রয়োজনীয় রানের সমীকরণ।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

সেখান থেকে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ৬৩ রানের জুটি আফিফ হোসেনের। যেখানে দায়িত্বটা যেন নিজের কাঁধে নিয়ে নিচ্ছিলেন তরুণ আফিফ। বেন সিয়ার্সের ওভার পিচড ডেলিভারিতে এক্সট্রা কাভার দিয়ে হাঁকান দারুণ এক চার, এক বল পরেই ফ্লিক শটে দুর্দান্ত ছক্কা।

১৪তম ওভারে ম্যাককঞ্চিকে ডিপ স্কয়ার লেগ দিয়ে মারেন আরও এক ছক্কা। পরের ওভারে আজেজ প্যাটেলকে পরপর দুই বলে হাঁকান চার ও ছক্কা। ১৬তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ (২১ বলে ২৩) ফিরলে ভাঙে জুটি। বেশিক্ষণ টিকেননি নুরুল হাসান সোহানও (৪)। ১১৩ রানে নেই বাংলাদেশের ৬ উইকেট, জয়ের জন্য শেষ ৩ ওভারে প্রয়োজন ৪৮ রান।

আফিফ এক পাশ আগলে রাখলেও লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারেনি দলকে। ৮ উইকেটে ১৩৪ রানেই থামতে হয় স্বাগতিকদের। ৩৩ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় আফিফ অপরাজিত ছিলেন ৪৯ রানে।

আগে ব্যাট করতে নেমে কিউই ব্যাটসম্যানরা দেখিয়েছে উইকেট সহায়ক হলে কতটা ভালো ব্যাট করতে পারেন তারা। যদিও শুরুর ঝড় মাঝে মন্থর না হলে সংগ্রহটা হতে পারতো আরও বড়।

চকচকে, ঝকঝকে উইকেট পেয়ে রাচিন রবীন্দ্রকে এক পাশে রেখে ৫.৪ ওভার স্থায়ী কিউই উদ্বোধনী জুটিতে ৫৮ রান তুলে ফেলেন ফিন অ্যালেন। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই জীবন পান রবীন্দ্র, নাসুমের বলে সহজ ক্যাচ ছাড়েন শামীম হোসেন। তবে সেসব পাশ কাটিয়ে অ্যালেন ঝড় চলতে থাকে।

চতুর্থ ওভারে বল হাতে নিয়ে এলোমেলো শরিফুল ইসলাম। মিড উইকেট দিয়ে তাকে হাঁকানো অ্যালেনের ছক্কাটি ছিল দেখার মত। ঐ ওভারে আরও ৩ বাউন্ডারিতে আসে ১৯ রান।

ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারের প্রথম বলেও অ্যালেনের কাছে ছক্কা হজম করেন শরিফুল। চার মারেন রবীন্দ্রও, তবে পরের বলেই ক্যাচ দেন মুশফিককে, ভাঙে জুটি। ৩৪ বলে ৫৮ রানের জুটিতে রবীন্দ্রের অবদান ১৭ রান। এক বল বিরতি দিয়ে অ্যালেনকেও ফেরান শরিফুল। ততক্ষণে ২৪ বলে ৪ চার ৩ ছক্কায় ৪১ রান তার ব্যাটে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

উইল ইয়াং (৬) ও কলিন ডি গ্র্যান্ড হোমও (৯) ফিরেছেন দ্রুত, ২৫ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারায় কিইউরা। এরপর টম লাথাম ও হেনরি নিকোলসের ৩৫ রানের জুটি। নিকোলস ২০ রান করে ফিরলেও লাথাম ছিলেন দৃঢ়। চলতি সিরিজেই প্রথম ফিফটির দেখা পেয়ে আজ তুলে নেন দ্বিতীয় ফিফটি।

কোল ম্যাককঞ্চিকে (১৭*) নিয়ে ২১ বলে অবিচ্ছেদ্য জুটিতে যোগ করেন ৪৩ রান। শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ৩৭ বলে ৫০ রানে। শেষ ৫ ওভারে ৫৪ রান তুলে দলীয় সংগ্রহ ৫ উইকেটে ১৬১।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

নিউজিল্যান্ড ১৬১/৫ (২০), অ্যালেন ৪১, রবীন্দ্র ১৭, লাথাম ৫০*, ইয়াং ৬, গ্র্যান্ডহোম ৯, নিকোলস ২০, ম্যাককঞ্চি ১৭*; তাসকিন ৪-০-৩৪-১, নাসুম ৩-০-২৫-১, শরিফুল ৪-০-৪৮-২, আফিফ ৩-০-১৮-১

বাংলাদেশ ১৩৪/৮ (২০), নাইম ২৩, লিটন ১০, সৌম্য ৪, মুশফিক ৩, আফিফ ৪৯*, মাহমুদউল্লাহ ২৩, নুরুল ৪, শামীম ২, তাসকিন ৯, নাসুম ৩*; ডুফি ৪-০-২৫-১, আজাজ ৪-০-২১-২, কুগেলেইন ৩-০-২৩-২, ম্যাককঞ্চি ৩-০-২৫-১, সিয়ার্স ৩-০-২১-১, রবীন্দ্র ৩-০-১৯-১

ফলাফলঃ নিউজিল্যান্ড ২৭ রানে জয়ী, বাংলাদেশ ৩-২ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

প্রোটিয়াদের বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন জেপি ডুমিনি

Read Next

পাকিস্তানের বিশ্বকাপ স্কোয়াড দেখে অবাক হয়েছেন আফ্রিদি

Total
9
Share