শেষ ম্যাচে এসে বড় স্কোরের দেখা পেল নিউজিল্যান্ড

শেষ ম্যাচে এসে বড় স্কোরের দেখা পেল নিউজিল্যান্ড

সিরিজ নিশ্চিত হয়েছে এক ম্যাচ হাতে রেখেই। ফলে পঞ্চম ও শেষ টি-টোয়েন্টি নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ অনেক কিছুতেই এনেছে পরিবর্তন। একাদশে চার পরিবর্তনের সাথে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন অস্ট্রেলিয়া সিরিজের পর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম চার ম্যাচেও ব্যবহার হয়নি এমন উইকেটে ম্যাচ আয়োজন। পিচের সাহায্য পেয়ে আগে ব্যাট করা নিউজিল্যান্ড ছুটছিল বড় সংগ্রহের দিকেই। তবে মাঝে খেই হারিয়েও পেয়েছে ১৬১ রানের পুঁজি।

শুরুতে ফিন অ্যালেনের ঝড়ো ৪১ ও শেষে অধিনায়ক টম লাথামের অপরাজিত ফিফটিতে চড়ে ৫ উইকেটে ১৬১ রানের সংগ্রহ পেয়েছে কিউইরা।

সাকিব আল হাসান, মুস্তাফিজুর রহমান, শেখ মেহেদী হাসান ও মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনকে বিশ্রাম দিয়েছে বাংলাদেশ। তাদের পরিবর্তে একাদশে সুযোগ হয় তাসকিন আহমেদ, সৌম্য সরকার, শরিফুল ইসলাম ও শামীম হোসেনের।

চকচকে, ঝকঝকে উইকেট পেয়ে ৫.৪ ওভার স্থায়ী কিউই উদ্বোধনী জুটিতেই আসে ৫৮ রান। যেখানে রাচিন রবীন্দ্রকে নিয়ে ফিন অ্যালেন ছিলেন শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে।

ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারের প্রথম বলেই ফিরতে পারতে রবীন্দ্র। নাসুম আহমেদের বলে মিড উইকেটে সহজ ক্যাচ ছাড়েন শামীম হোসেন। জীবন পেয়ে পরের দুই বলে হাঁকান চার ও ছক্কা। ওভার থেকে আসে ১২ রান।

ইনিংসের প্রথম ওভারে মাত্র ২ রান খরচ করা তাসকিন আহমেদ তৃতীয় ওভারে এসেও দেননি ৫ রানের বেশি। তবে চতুর্থ ওভারে নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই এলোমেলো বলে রান খরচে উদার শরিফুল ইসলাম।

তাকে মিড উইকেট দিয়ে হাঁকানো ফিন অ্যালেনের ছক্কাটি ছিল দেখার মত। ঐ ওভারে আরও দুইটি বাউন্ডারি হাঁকান কিউই ডানহানি, আরেক ওপেনার রবীন্দ্রও এক বল মোকাবেলা করে হাঁকান বাউন্ডারি। তাতে শরিফুলের প্রথম ওভারেই খরচ ১৯ রান।

ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে শরিফুল অ্যালেনের কাছ থেকে প্রথম বলেই ছক্কা হজম করেন। স্ট্রাইক পেয়ে চা হাঁকান রবীন্দ্রও, তবে পরে বলেই শর্ট বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন মুশফিকুর রহিমের হাতে। তাতে ভাঙে ৩৪ বলে ৫৮ রানের জুটি। ১২ বলে ১৭ রান আসে এই বাঁহাতির ব্যাট থেকে।

পরের বলেই খুনে মেজাজে ব্যাট করতে থাকা ফিন অ্যালেনের বিপক্ষে জোরালো এলবিডব্লিউর আবেদন। আম্পায়ার আঙুল তুলে দিলেও রিভিউ নিয়ে বেঁচে যান অ্যালেন। কিন্তু পরের বলেই বোল্ড করে সাজঘরের পথ দেখান শরিফুল। ২৪ বলে ৪ চার ৩ ছক্কায় ৪১ রান অ্যালেনের ব্যাটে। পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৫৮ রান কিউইদের।

এরপর উইল ইয়াংকে (৬) দ্রুত ফেরান আফিফ হোসেন। ভালো শুরু পেয়েও ৯ রানের বেশি করতে পারেননি কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, ফিরেছেন নাসুমের প্রথম শিকার হয়ে। ২৫ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ন্ত্রণ পায় বাংলাদেশ।

এরপর অধিনায়ক টম লাথাম ও হেনরি নিকোলসের ৩৫ রানের জুটি। ১৭তম ওভারে নিজের দ্বিতীয় স্পেল করতে আসেন তাসকিন। সহজ রান আউট থেকে বেঁচে যান নিকোলস, কিন্তু জীবন কাজে লাগাতে ব্যর্থ। পরের বলেই উইকেট রক্ষক নুরুল হাসান সোহানের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হয়ে ফেরেন ২০ রান করে।

তবে টম লাথামের দৃঢ়তায় শেষ পর্যন্ত ১৬১ রানের পুঁজি পায় কিউইরা। যা সর্বশেষ ১১ ম্যাচে মিরপুরে সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। কোল ম্যাককঞ্চিকে (১৭*) নিয়ে লাথামের ২১ বলে ৪৩ রানের জুটি। লাথাম পেয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটির দেখা, ৩৭ বলে অপরাজিত ছিলেন সমান দুইটি করে চার, ছক্কায় ৫০ রানে। শেষ পাঁচ ওভারে নিউজিল্যান্ড তোলে ৫৪ রান।

প্রথম ৩ ওভারে ১৬ রান খরচ করা তসকিন নিজের চতুর্থ ওভারে দেন ১৮ রান। শরিফুল দুই উইকেট নিলেও একটি করে শিকার তাসকিন, নাসুম ও আফিফের।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

নিউজিল্যান্ড ১৬১/৫ (২০), অ্যালেন ৪১, রবীন্দ্র ১৭, লাথাম ৫০*, ইয়াং ৬, গ্র্যান্ডহোম ৯, নিকোলস ২০, ম্যাককঞ্চি ১৭*; তাসকিন ৪-০-৩৪-১, নাসুম ৩-০-২৫-১, শরিফুল ৪-০-৪৮-২, আফিফ ৩-০-১৮-১।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সিলেটে লো স্কোরিং থ্রিলারে শেষ হাসি টাইগার যুবাদের

Read Next

প্রোটিয়াদের বিশ্বকাপ দলের সঙ্গে যুক্ত হলেন জেপি ডুমিনি

Total
5
Share