কিউইদের স্পিন বিষে নীল বাংলাদেশ

কিউইদের স্পিন বিষে নীল বাংলাদেশ

প্রথম ম্যাচে ৬০ রানে অলআউট হওয়া নিউজিল্যান্ড দ্বিতীয় ম্যাচে যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল তাতেই আভাস মিলেছে সিরিজে প্রতিদ্বন্দ্বিতা উপহার দিবে। অনভিজ্ঞ দল নিয়ে বাংলাদেশে আসলেও কন্ডিশন বিবেচনায় নিজেদের সেরা প্রস্তুতিই নিয়েছিল কিউইরা। প্রথম দুই ম্যাচ হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে তৃতীয় ম্যাচে এসে তুলে নিল দাপুটে জয়। বিশেষ করে কিউই স্পিনাররা যেভাবে টাইগার ব্যাটসম্যানদের খাবি খাইয়েছে তা ছিল দুর্দান্ত।

জিতলেই বাংলাদেশের সিরিজ নিশ্চিত, অন্যদিকে টিকে থাকতে নিউজিল্যান্ডের জন্য জয় আবশ্যক। এমন ম্যাচেই মিরপুরে আজ (৫ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশকে ৫২ রানের বিশাল ব্যবধানে হারালো সফরকারীরা। প্রথম বাংলাদেশী ও সব মিলিয়ে ৮ম ক্রিকেটার হিসেবে শততম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ দিনটি স্মরণীয় করতে পারেনি।

টস জিতে আগে ব্যাট করে বাংলাদেশকে ১২৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল নিউজিল্যান্ড। সর্বোচ্চ অপরাজিত ৩৬ রান হেনরি নিকোলসের ব্যাটে। ৩০ রানে অপরাজিত ছিলেন টম ব্লান্ডেল। জবাবে দুই কিউই স্পিনার আজেজ প্যাটেল ও কোল ম্যাককঞ্চির তোপে ৭৬ রানেই গুটিয়ে যায় টাইগাররা।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে যেমন শুরু দরকার তেমনই পেয়েছিল বাংলাদেশ। লিটন দাস ও নাইম শেখ ২.৫ ওভার স্থায়ী জুটিতেই তুলে ফেলে ২৩ রান। কিন্তু এরপরই ছন্দপতন, ৩৪ রানের ব্যবধানে হারায় ৭ উইকেট।

প্রথম আঘাতটা হানেন অফ স্পিনার কোল ম্যাককঞ্চি, এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়েন লিটন (১১ বলে ১৫)। বাঁহাতি স্পিনার আজেজ প্যাটেলের করা পরের ওভারে টাইগাররা হারায় ২ উইকেট।

৩ নম্বরে নামা শেখ মেহেদী হাসান (৪ বলে ১) লেংথ বলে ব্যাকফুটে খেলে ক্যাচ দেন শর্ট মিড উইকেটে। ক্রিজে এসেই সাকিব আল হাসান সুইপ খেলতে গিয়ে পরাস্ত। পরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে লং অনে ম্যাককঞ্চিকে ক্যাচ দেন কোনো রান না করে।

১৯ বলে ১৩ রান করা নাইমকে বোল্ড করেন রাচিন রবীন্দ্র। ১০ম ওভারে প্যাটেল আবারও হানেন জোড়া আঘাত। এবার শিকার মাহমুদউল্লাহ (৩) ও আফিফ হোসেন (০)। ম্যাককঞ্চিকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ৮ রানেই থামেন নুরুল হাসান সোহান। ৭ উইকেটে ৫৭ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। শঙ্কা জাগে নিজেদের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জার।

শেষ পর্যন্ত সে লজ্জায় পড়তে না হলেও ৭৬ রানেই গুটিয়ে যেতে হয়েছে, যা যৌথভাবে দ্বিতীয় সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ টাইগারদের। মিরপুরে এটিই বাংলাদেশের সর্বনিম্ন সংগ্রহ। মুশফিকুর রহিম অপরাজিত ছিলেন ৩৭ বলে ২০ রানে।

ম্যাচসেরা প্যাটেল ৪ ওভারে ১৬ রান খরচায় নেন ৪ উইকেট। ম্যাককঞ্চি ১৫ রানে নেন ৩ উইকেট।

এর আগে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরু পায় কিউই ওপেনার ফিন অ্যালেন ও রাচিন রবীন্দ্র। বিশেষ করে করোনা মুক্ত হয়ে সিরিজে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা অ্যালেন টাইগার স্পিনারদের বিপক্ষে ছিলেন সাবলীল।

কিন্তু তৃতীয় ওভারেই মুস্তাফিজুর রহমানকে ডেকে এনে জুটি ভাঙেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। অ্যালেন (১০ বলে ১৫) ফেরার পরও পথেই ছিল কিউইরা। ওপেনার রবীন্দ্রকে নিয়ে ৩ নম্বরে নামা উইল ইয়াংয়ের ৩০ রানের জুটি। পাওয়ার প্লেতে স্কোরবোর্ডে ৪১ রান।

তবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন এক ওভারে দুই উইকেট তুলে নিয়ে সফরকারীদের লাইনচ্যুত করেন। ৭ম ওভারে ইয়াংয়ের (২০ বলে ২০) সাথে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে (০) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলেন।

একপাশ আগলে রাখা রবীন্দ্রকে বোল্ড করে ২০ রানেই থামান মাহমুদউল্লাহ। শেখ মেহেদীকে ফিরতি ক্যাচ দেন আগের ম্যাচে দারুণ এক ইনিংস খেলা টম লাথাম (৫)। ১৬ রানের ব্যবধানে ৪ উইকেট হারিয়ে ৫ উইকেটে ৬২ রানে পরিণত হয় নিউজিল্যান্ড।

সেখান থেকে টম ব্লান্ডেল ও হেনরি নিকোলসের অবিচ্ছেদ্য ৬৬ রানের জুটি। শেষ দিকে চড়াও হয়ে দলীয় সংগ্রহ দাঁড় করান ১২৮। শেষ ৩ ওভারে আসে ৩৩ রান।

শেষ পর্যন্ত ব্লান্ডেল ৩০ বলে ৩০ ও নিকোলস অপরাজিত ছিলেন ২৯ বলে ৩৬ রানে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট সাইফউদ্দিনের। একটি করে নেন শেখ মেহেদী, নাসুম ও মাহমুদউল্লাহ।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

নিউজিল্যান্ড ১২৮/৫ (২০), অ্যালেন ১৫, রবীন্দ্র ২০, ইয়াং ২০, গ্র্যান্ডহোম ০, ল্যাথাম ৫, নিকোলস ৩৬*, ব্লান্ডেল ৩০*; মেহেদী ৪-০-২৭-১, মুস্তাফিজ ৪-১-২৯-১, সাইফউদ্দিন ৪-০-২৮-২, মাহমুদউল্লাহ ২-০-১০-১

বাংলাদেশ ৭৬/১০ (১৯.৪), নাইম ১৩, লিটন ১৫, মেহেদী ১, সাকিব , মুশফিক ১৯*, মাহমুদউল্লাহ ৩, আফিফ ০, নুরুল ৮, সাইফউদ্দিন ৮, নাসুম ১, মুস্তাফিজ ৪; আজাজ ৪-০-১৬-৪, ম্যাককঞ্চি ৪-০-১৫-৩, রবীন্দ্র ৪-০-১৩-১, কুগেলেইন ৩-০-১৪-১, গ্র্যান্ডহোম ০.৪-০-৩-১

ফলাফলঃ নিউজিল্যান্ড ৫২ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ আজাজ প্যাটেল (নিউজিল্যান্ড)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

কামরান আকমলের পছন্দের পাকিস্তান বিশ্বকাপ স্কোয়াড

Read Next

শুরুর ছন্দপতনকেই দায়ী করছেন টাইগার অধিনায়ক

Total
19
Share