মালানের শতরান, শামসির পাঁচ; সিরিজ ফিরল সমতায়

মালানের শতরান, শামসির পাঁচ; সিরিজ ফিরল সমতায়

কলম্বোতে বৃষ্টিবিঘ্নিত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৬৭ রানে জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। তিন ম্যাচের সিরিজে এখন ১-১ সমতা। ইয়ানেমান মালানের সেঞ্চুরির তাব্রাইজ শামসির স্পিন বিষে নীল স্বাগতিকরা। একাই ৫ উইকেট দখলে নিয়ে লঙ্কান ব্যাটসম্যানদের ধ্বংসস্তূপ বানিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন শামসি। তবে ১২১ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলা মালান জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কার।

কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বৃষ্টি বাগড়ায় খেলা শুরু হয় নির্ধারিত সময়ের ১ ঘন্টা পর। ম্যাচ নেমে আসে ৪৭ ওভারে। টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা দক্ষিণ আফ্রিকার শুরুটা হয়নি তেমন ভালো। ২১ রানে থাকা ওপেনার এইডেন মার্করামকে ফিরিয়ে শ্রীলঙ্কাকে প্রথম ব্রেকথ্রু এনে দেন চামিকা করুণারত্নে।

রেজা হেনড্রিকসকে নিয়ে এগোতে থাকেন ইয়ানেমান মালান। এরমধ্যে দু’জনই পেয়ে যান ফিফটি রানের দেখা। তবে হেনড্রিকস ফিফটি পূর্ণ করার পর বেশিক্ষণ টেকেনি এই জুটি। ৫১ রানের ইনিংসে থামেন হেনড্রিকস, ভাঙে মালানের সঙ্গে গড়া ৯৬ রানের জুটি।

১২৬ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন মালান। ভ্যান ডার ডুসেনের ব্যাট থেকে আসে ১৬ রান। তবে ফিফটির পথে থেকেও হল না হেনরিখ ক্লাসেনের, আউট হয়ে ফেরেন ৪৩ রানে। একই ওভারে দুশমান্থ চামিরা প্যাভিলিয়নে পাঠান ইয়ানেমান মালানকেও। লেগ বিফোরের ফাঁদে পড়ে ফেরার আগে ১৩৫ বলে এক ছক্কা ও ৯ চারে ১২১ রানের ইনিংস খেলেন মালান।

রান পাননি আন্দিলে ফেলুকওয়ায়ো (৪)। এছাড়া মুল্ডার ৫ ও লিন্ডে ৯ রানে অপরাজিত থাকে। বৃষ্টি বাধায় ৪৭ ওভারে নেমে আসা ম্যাচে ৬ উইকেটে ২৮৩ রান করে সফরকারীরা।

শ্রীলঙ্কার ইনিংসের মাঝপথে আবার বৃষ্টি হানা দিলে লক্ষ্য দাঁড়ায় ৪১ ওভারে ২৬৫ রান। রান তাড়া করতে নেমে লঙ্কানদের শুরুতেই পড়তে হয় কাগিসো রাবাদার তোপের সামনে। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান রাবাদা এ ম্যাচে করেন কেবল ৮। কোন রানই পাননি ভানুকা রাজাপাকশে। পরের ওভারে মিনোদ ভানুকাকে (৭) ফেরালেন উইয়ান মুল্ডার। ১৯ রান করতেই শ্রীলঙ্কার নেই শুরুর ৩ উইকেট।

উইকেটে থিতু হয়েও ইনিংস বড় করতে পারলেন না ধনঞ্জয়া ডি সিলভা (১২)। চারিথ আসালাঙ্কা সচল থাকেন উইকেটের অপর প্রান্তে। মাঝে ৩০ রানের ইনিংস খেলে ফেরেন অধিনায়ক দাসুন শানাকা। হাসারাঙ্গা করতে পারেননি ৩ রানের বেশি।

অর্ধশত রান পূর্ণ করে দলকে একাই টানতে থাকেন আসালাঙ্কা। তবে তাঁকে ফিরতে হয় ব্যক্তিগত ৭৭ রানে তাব্রাইজ শামসির শিকার হয়ে। ২৩ বলে ৩৬ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলা চামিকা করুণারত্নেকে বোল্ড করেন প্রোটিয়া অধিনায়ক কেশব মহারাজ। এক ওভারে দুশমান্থ চামিরা (১১) ও আকিলা ধনঞ্জয়াকে আউট করে পাঁচ উইকেট দখলে নেন তাব্রাইজ শামসি। ৪৯ রান খরচায় ৫ উইকেট তুলে নিয়ে শামসি স্বাগতিকদের থামিয়ে দেন ১৯৭ রানে। ফলে ৬৭ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

দক্ষিণ আফ্রিকাঃ ২৮৩/৬ (৪৭ ওভার) মালান ১২১, মার্করাম ২১, হেনড্রিকস ৫১, ডার ডুসেন ১৬, ক্লাসেন ৪৩, ফেলুকওয়ায়ো ৪, মুল্ডার ৫*, লিন্ডা ৯*; চামিরা ৭-০-৫২-২, চামিকা ৫-০-২৪-২, হাসারাঙ্গা ১০-০-৬৩-১, ধনাঞ্জয়া ৭-০-৩০-১

শ্রীলঙ্কাঃ ১৯৭/১০ (৩৬.৪ ওভার) আভিষ্কা ৮, মিনোদ ৭, ধনাঞ্জয়া ১২, আসালাঙ্কা ৭৭, শানাকা ৩০, হাসারাঙ্গা ৩, চামিকা ৩৬, চামিরা ১১; রাবাদা ৬-০-১৬-২, মুল্ডার ৫-০-৩০-১, মহারাজ ৮-০-৩২-১, শামসি ৭.৪-০-৪৯-৫, লিন্ডা ৫-০-৪০-১

ফলাফলঃ বৃষ্টি আইনে ৬৭ রানে জয়ী দক্ষিণ আফ্রিকা

সিরিজঃ ৩ ম্যাচের সিরিজ ১-১ সমতায়

ম্যাচ সেরাঃ ইয়ানেমান মালান (দক্ষিণ আফ্রিকা)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

টস করতে নেমেই মাহমুদউল্লাহর অনন্য রেকর্ড

Read Next

করোনা পজিটিভ হয়ে আইসোলেশনে রবি শাস্ত্রী

Total
13
Share