রোমাঞ্চকর ম্যাচে শেষ হাসি হাসল বাংলাদেশ

জয়

বাংলাদেশ টানা জয়ের মধ্যে ছিল, অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ঐতিহাসিক সিরিজ জিতেছে ৪-১ ব্যবধানে। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও দাপুটে জয়। তবে কোথাও যেন একটা আক্ষেপ, অতৃপ্তি ছিল টাইগার ভক্ত সমর্থকদের। প্রতিপক্ষ যে নূন্যতম লড়াইটুকুও করতে পারছিল না। অবশেষে অমন এক ম্যাচের দেখাই মিলল মিরপুরে। জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ হলেও আজ (৩ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষায় রেখেছিল নিউজিল্যান্ড।

টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ দুই ওপেনার নাইম শেখ ও লিটন দাসের গড়ে দেওয়া ভীতের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ব্যাটে ১৪১ রানের পুঁজি পায়। নাইমের ৩৯ রানের সাথে লিটনের ৩৩ রান। ৩৭ রানে অপরাজিত ছিলেন রিয়াদ।

জবাবে অধিনায়ক টম লাথামের ৬৫ রানের অপরাজিত ইনিংসের পরও রোমাঞ্চ ছড়িয়ে হেরেছে নিউজিল্যান্ড। কিউইরা থেমেছে ৫ উইকেটে ১৩৭ রান তুলে। ফলে ৪ রানের জয়ে পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজটি ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল বাংলাদেশ।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ভালো কিছুর আভাস দিয়েও আরেক দফা ব্যর্থ নিউজিল্যান্ড উদ্বোধনী জুটি। প্রথম ওভারেই শেখ মেহেদীর বলে আউট হতে হতে বেঁচে যান রাচিন রবীন্দ্র। তৃতীয় ওভারে সাকিবকে হাঁকান দারুণ এক ছক্কা।

কিন্ত পরের বলেই পুল করতে গিয়ে হয়েছেন বোল্ড। আগের ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের পর এ দিন থেমেছেন ১০ রানে। ২ রানের ব্যবধানে আরেক ওপেনার টম ব্লান্ডেলকে (৬) স্টাম্পড করেন শেখ মেহেদী। তাতে ১৮ রানেই ২ উইকেট হারায় সফরকারীরা।

সেখান থেকে অধিনায়ক টম লাথাম ও উইল ইয়াংয়ের ৪৭ রানের জুটি। ইয়াংকে থার্ড ম্যানে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ক্যাচে পরিণত করে জুটি ভাঙেন সাকিব। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমকে নিয়ে পরের পথটা পাড়ি দেওয়ার চেষ্টা লাথামের।

১৪তম ওভারে ডিপ স্কয়ার লেগে সাইফউদ্দিনকে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান লাথাম। কিন্তু নাসুমের বলে আউট হয়ে যোগ্য সঙ্গ দিতে পারেননি গ্র্যান্ডহোম (৮)। হেনরি নিকোলস ৬ রান করে ফেরেন শেখ মেহেদীর দ্বিতীয় শিকার হয়ে। ৯২ রানে ৫ উইকেট হারায় কিউইরা।

শেষ ৪ ওভারে জয়ের জন্য প্রয়োজন পড়ে ৪৮ রান। একপাশ আগলে রাখা লাথাম ৩৮ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম ফিফটি। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ২৮। সাইফউদ্দিনের করা ১৯তম ওভারে রান আউটের সুযোগ পেলেও উইকেট রক্ষক নুরুল হাসান সোহানের নির্বুদ্ধিতায় বেঁচে যান কিউই দলপতি। তবে ঐ ওভারে আসেনি ৮ রানের বেশি।

মুস্তাফিজের করা শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ২০ রান। আর ঐ ওভারেই যত নাটকীয়তা। প্রথম ৪ বলে এসেছে মাত্র ৭ রান। তবে পঞ্চম বলেই হাই নো দিয়ে বসেন মুস্তাফিজ, যে বলে লাথামের ব্যাট থেকে আসে বাউন্ডারিও।

ফলে শেষ দুই বলে সমীকরণ তৈরি হয় ৮ রানের। কিন্তু শেষ দুই বলেই মুস্তাফিজ দেখান কারিশমা, আসেনি ৪ রানের বেশি। ৪ রানে হারা ম্যাচে কিউই অধিনায়ক লাথামের ৪৯ বলে অপরাজিত ৬৭ রানের ইনিংসটি বৃথা যায়। ৪৫ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটীতে ম্যাককঞ্চি অপরাজিত ছিল ১৫ রানে।

আগে ব্যাট করতে নামা বাংলাদেশকে শক্ত ভীত গড়ে দেন দুই ওপেনার লিটন-নাইম। ৮ ম্যাচ পর ওপেনিংয়ে এসেছে ৫০ পেরোনো জুটি। তবে এদিনও উদ্বোধনী জুটি থামতে পারতো ৪ রানে।

কোল ম্যাককঞ্চির করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই খালি হাতে ফিরতে পারতেন লিটন। স্কয়ার লেগে তার সহজ ক্যাচ ছেড়েছে কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম।

সময়ের সাথে সাবলীল ব্যাটিংয়ে পাওয়ার প্লেতে ৩৬ রান তুলে ফেলে নাইম-লিটন। ৮.৩ ওভারেই জুটিতে যোগ হয় ৫০ রান। রাচিন রবীন্দ্রের করা ১০ম ওভারের প্রথম বলেই স্লগ সুইপে দারুণ এক ছক্কা লিটনের ব্যাটে।

তবে একই ওভারে পরপর দুই বলে লিটন ও মুশফিকুর রহিমকে ফেরান রবীন্দ্র। বাইরের বল স্টাম্পে টেনে লিটন ফিরেছেন ২৯ বলে ৩৩ রান করে, ভাঙে ৫৯ রানের উদ্বোধনী জুটি। ক্রিজে এসে প্রথম বলেই স্টাম্পড মুশফিকুর রহিম।

ভালো শুরু পেয়েও বেশিক্ষণ টিকেননি সাকিবও। ৭ বলে ১২ রান করে ফিরেছেন ম্যাককঞ্চির বলে। মিড অফে দুইবারের চেষ্টায় ক্যাচ তালুবন্দী করেন অভিষিক্ত বেন সিয়ার্স।

এরপর অধিনায়ক রিয়াদের সাথে নাইমের ৩৪ রানের জুটি। ১৫ ওভারে দলীয় সংগ্রহ পেরোয় ১০০ রান। তবে রবীন্দ্রের তৃতীয় শিকার হয়ে নাইম ফেরেন ৩৯ বলে ৩৯ রান করে।

ক্রিজে এসে ব্যর্থ আফিফ হোসেনও (৩ বলে ৩)। রানের গতি মন্থর হয়ে পড়লেও শেষ দুই ওভারে রিয়াদ ও নুরুল হাসান সোহান ২৪ রান তুলে দলীয় সংগ্রহ ১৪১ দাঁড় করান।

রিয়াদ ৩২ বলে ৩৭ ও সোহান ৯ বলে ১৩ রানে অপরাজিত ছিলেন। কিউইদের হয়ে রাচিন রবীন্দ্র নেন সর্বোচ্চ ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১৪১/৬ (২০), নাইম ৩৯, লিটন ৩৩, মুশফিক ০, সাকিব ১২, মাহমুদউল্লাহ ৩৭*, আফিফ ৩, সোহান ১৩; আজাজ ৪-০-২০-১, ম্যাককঞ্চি ৪-০-২৪-১, হামিশ ৪-০-৩২-১, রবীন্দ্র ৪-০-২২-৩

নিউজিল্যান্ড ১৩৭/৫ (২০), ব্লান্ডেল ৬, রবীন্দ্র ১০, লাথাম ৬৫*, ইয়াং ২২, গ্র্যান্ডহোম ৮, নিকোলস ৬, ম্যাককঞ্চি ১৫*; মেহেদী ৪-০-১২-২, নাসুম ৩-০-১৭-১, সাকিব ৪-০-২৯-২

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৪ রানে জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টাইগার যুবাদের বিপক্ষে আফগানদের স্কোয়াড ঘোষণা

Read Next

মুস্তাফিজে আস্থা হারাননি মাহমুদউল্লাহরা

Total
41
Share