নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়া টাইগারদের ‘প্রথম’

নিউজিল্যান্ডকে উড়িয়ে দেওয়া টাইগারদের 'প্রথম'

সিরিজ শুরুর আগে নিজেদের প্রস্তুতি নিয়ে সন্তুষ্ট ছিল নিউজিল্যান্ড। বাংলাদেশের আসার আগে লিংকন ও মাউন্ট মাউঙ্গানুইতে মন্থর উইকেটে অনুশীলন করেছিল কিউইরা। এমনিতে দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে সফরে আসলেও কন্ডিশন বোঝার সকল সুবিধাই নিয়েছিল টম লাথামের দল। পাশাপাশি অস্ট্রেলিয়াকে টাইগারদের বিপর্যস্ত করার ভিডিও ফুটেজতো ছিলই। কিন্তু লাভের লাভ কিছুই হলনা, ৭ উইকেটে হেরে সিরিজ শুরু করেছে সফরকারীরা।

এর আগে ১০ বার টি-টোয়েন্টিতে দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে একবারও জিতেনি বাংলাদেশ। ফলে আজকের নিউজিল্যান্ড বধ নিশ্চিতভাবেই ঐতিহাসিক টাইগারদের জন্য। যেখানে আগে ব্যাট করা কিউইদের পুড়তে হয়েছে যৌথভাবে নিজেদের সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জায়।

মিরপুরে টাইগার বোলারদের তোপে গুটিয়ে গেছে মাত্র ৬০ রানে। শুরুতে শেখ মেহেদী হাসান, সাকিব আল হাসান, নাসুম আহমেদের স্পিন জাদুতে টপ অর্ডার দাঁড়াতেই পারেনি। পরে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মুস্তাফিজুর রহমান যোগ দিয়ে কিউই ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতার ষোলকলা পূর্ণ করেন।

জবাবে শুরুতে বাংলাদেশও হারায় দুই ওপেনারকে। তবে সাকিবের ২৫ রানের ইনিংসের পর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও দুই সিরিজ পর দলে ফেরা মুশফিকুর রহিমের ব্যাটে ৩০ বল ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে টাইগাররা।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আরেক দফা ব্যর্থ বাংলাদেশের ওপেনিং জুটি। অস্ট্রেলিয়া সিরিজে নাইম শেখের সাথে সৌম্য সরকার, শেখ মেহেদীকে পাঠিয়েও ব্যর্থতার বৃত্ত ভাঙেনি। এবার নিয়মিত ওপেনার লিটন দাস ফিরলেও উন্নতি হয়নি। ৭ রানেই হারাতে হয় দুই ওপেনারকে। নাইম (১) কোল ম্যাককঞ্চি ও লিটন (১) আজেজ প্যাটেলের স্পিনে পরাস্ত হন।

এরপর সাকিব আল হাসান ও মুশফিকুর রহিমের ৩০ রানের জুটি। ৩৩ বলে ২৫ রান করে সাকিব শিকার হন বাঁহাতি অভিষিক্ত স্পিনার রাচিন রবীন্দ্রের। ছোট লক্ষ্য বলে এরপর দেখেশুনে ধীর গতিতে এগিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিক।

দুজনে ২৫ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিতে জয়ের বন্দরে পৌঁছাতে আর কোনো সমস্যায় পড়েনি স্বাগতিকরা। ম্যাককঞ্চিকে মিড উইকেট দিয়ে জয় সূচক চার মারেন মুশফিক। ২৬ বলে ১৬ রানে মুশফিক ও ২২ বলে ১৪ রানে অপরাজিত ছিলেন রিয়াদ।

আগে ব্যাট করতে নেমে নিউজিল্যান্ড টপ অর্ডারকে স্পিন ঘূর্ণিতে খাবি খাওয়ান শেখ মেহেদী, সাকিব ও নাসুমরা। নতুন বলে ইনিংস শুরু করে প্রথম ওভারেই সাফল্য এনে দেন অফ স্পিনার শেখ মেহেদী। অভিষিক্ত রাচিন রবীন্দ্র কোনো রান না করেই ফিরতি ক্যাচ দেন।

মেহেদীর দেখানো পথে হেঁটেছে বাংলাদেশের দুই বাঁহাতি স্পিনার সাকিব আল হাসান ও নাসুম আহমেদ। রবীন্দ্রকে অনুসরণ করেছে নিউজিল্যান্ডের টপ অর্ডার। তাতেই স্পিন বিষে পুড়ে ছারখার সফরকারীরা।

৯ রানেই ৪ উইকেট হারায় টম লাথামের দল। দলীয় ৭ রানে উইল ইয়াং (১১ বলে ৫) সাকিবের বেশ বাইরের নিচু হওয়া বল টেনে আনেন স্টাম্পে। নাসুমের করা চতুর্থ ওভারে ১ রানের ব্যবধানে ফেরেন কলিন ডি গ্রান্ডহোম (৪ বলে ১) ও টম ব্লান্ডেল (৬ বলে ২)।

৬ষ্ঠ ওভারে আক্রমণে আসা মুস্তাফিজুর রহমান ৮ রান খরচ করলে পাওয়ার প্লেতে ৪ উইকেট হারিয়ে কিউদের সংগ্রহ ১৮ রান।

অধিনায়ক লাথাম ও হেনরি নিকোলস ৩৪ রানের জুটিতে পথ দেখানোর চেষ্টা করেন। তবে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে লাথাম ফাইন লেগে ক্যাচ দেন নাসুমকে। ২৫ বলে ১৮ রান আসে কিউই দলপতির ব্যাট থেকে।

পরের ওভারেই সাকিব খালি হাতে ফেরান আরেক অভিষিক্ত কোল ম্যাককঞ্চিকে। ক্রিজে থিতু হয়ে ফিরেছেন হেনরি নিকোলসও (১৮), ৪৯ রানে ৭ উইকেট নেই সফরকারীদের।

এরপর নিজের দ্বিতীয় স্পেল করতে এসে সফরকারীদের শেষ ৩ উইকেট নিজের পকেটে পুরেন মুস্তাফিজ। তাতে ৬০ রানেই থামতে হয় টম লাথামদের। ১৩ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট মুস্তাফিজের। ৪ ওভারে ১০ রান খরচায় সাকিবের শিকার ২ টি, সাইফউদ্দিন ও নাসুমও তুলে নেন সমান সংখ্যক উইকেট।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

চমক রেখে পাকিস্তানের ওয়ানডে দল ঘোষণা

Read Next

বিশ্বকাপের আগেই বিসিবি নির্বাচন, আছে পাপনের থেকে যাওয়ার আভাস

Total
1
Share