খুটিয়ে খুটিয়ে উইকেট দেখা, তবুও কি স্পিন বিষে নীল হওয়ার অপেক্ষা?

খুটিয়ে খুটিয়ে উইকেট দেখা, তবুও কি স্পিন বিষে নীল হওয়ার অপেক্ষা?

মিরপুরের আকাশে শরতের শুভ্র মেঘেদের উড়াউড়ি দেখে বোঝার উপায় নেই মিনিট বিশেক আগেও ঝুম বৃষ্টি হয়েছে। মেঘ বেধ করে উঁকি দিচ্ছে শেষ দুপুরের সূর্য্য। ততক্ষণে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কাভারে ঢাকা পিচও খুটিয়ে খুটিয়ে দেখা শেষ সফরকারী নিউজিল্যান্ডের। কন্ডিশন বিরুদ্ধ, তার উপর নিজেদের দ্বিতীয় সারির দল নিয়ে আসা কিউইরা কতটা পড়তে পেরেছে উইকেট সেটা সময় বলে দিবে।

মিরপুরের উইকেট এমনিতেই আনপ্রেডিক্টেবল, স্বাগতিক দলের কোচ, অধিনায়ক, খেলোয়াড়েরাও বিভ্রান্ত হয় নিয়মিত। তবে পিচের ধরণে যতই পার্থক্য হোক সেটা স্পিন বেশি ধরেছে নাকি মোটামুটি ধরেছে সেটাতেই সীমাবদ্ধ থাকে। জোরে বল করে পেসারদের সাফল্য পাওয়ার সম্ভাবনা থাকে ক্ষীণই।

আগামীকাল (১ সেপ্টেম্বর) মাঠে গড়াচ্ছে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজের প্রথমটি। সিরিজের সব ম্যাচই শুরু হবে বিকেল ৪ টায়।

পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশে এসেও সর্বশেষ ৭ ওয়ানডে হেরেছে কিউইরা। সর্বশেষ বাংলাদেশে এসেছে ২০১৩ সালে, এবার ফরম্যাট ভিন্ন তবে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে বাংলাদেশই।

বাংলাদেশের এবারের সফরটা যে আরও কঠিন হতে যাচ্ছে নিউজিল্যান্ডের সেটা ভালো জানা তাদের। দলের অধিনায়ক টম লাথাম সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন প্রায় ৪ বছর আগে। তবে মজার বিষয় নিজেই সে হিসেবে বেমালুম ভুলে বসেছেন।

সিরিজের প্রথম ম্যাচের আগে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে আজ সকালেই এমনটা জানান কিউই দলপতি। স্কোয়াডের একজন ক্রিকেটারও নেই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দলে। এ থেকেই বোঝা যায় কতটা আনকোরা দল নিয়ে বাংলাদেশে এসেছে নিউজিল্যান্ড।

সফরকারীদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার কলিন ডি গ্র্যান্ডহোম, খেলেছেন ৩৬ ম্যাচ। গ্র্যান্ডহোম ছাড়া স্কোয়াদের মাত্র ৩ জন ক্রিকেটারের আছে ১০ বা তার বেশি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা। তারা হলেন টম লাথাম (১৩), স্কট কুগেলেইন (১৬) ও ডগ ব্রেসওয়েল (১৮)।

স্কোয়াডে আন্তর্জাতিক অভিষেকের অপেক্ষায় আছেন রাচিন রবীন্দ্র, কোল ম্যাককনচি ও বেন সিয়ার্স। বাংলাদেশে এসে ফিন অ্যালেন করোনা পজিটিভ হওয়ায় স্কোয়াডে যুক্ত করা হয় ম্যাট হেনরিকে।

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)

বাংলাদেশ সফরে আসার আগে থেকেই কিউইরা জানান দিয়েছে প্রস্তুতির দিক থেকে তারা আছে সেরা অবস্থায়। নিউজিল্যান্ডে থাকাকালীনই লিংকন ও মাউন্ট মঙ্গুনোইতে করেছে দুই সপ্তাহের ক্যাম্প। বাংলাদেশে পৌঁছে ২৭ আগস্ট থেকে করা অনুশীলনে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার কাজটা ভালোই হচ্ছে বলেছে কিউইরা।

সাথে অস্ট্রেলিয়ার নাকানি চুবানি খাওয়া দেখেও শিক্ষা নিয়েছিল টম লাথামের দল। তবে মাঠে সেটার কতটা প্রয়োগ করতে পারবে তার নিশ্চয়তা অবশ্য দিতে পারেনি কোচ, অধিনায়ক কেউই।

আজ সিরিজ শুরুর আগে শেষ অনুশীলন সেশনেও স্পিন খেলার নানা কৌশল রপ্ত করার চেষ্টা করেছে। বিকেলে একাডেমি মাঠের নেটে স্পিনার সংকটে ব্যাটসম্যানরা স্পিন খেলেছে সাপোর্ট স্টাফদের ছোঁড়া বল থেকে।

প্যাড পরে ব্যাটিংয়ে নামার আগে দুই একজন ব্যাটসম্যানও হাত ঘুরিয়ে স্পিন করেছে সতীর্থ ব্যাটসম্যানদের। স্বীকৃত স্পিনার আজেজ প্যাটেল ও রাচিন রবীন্দ্র যে তখনো মূল মাঠে সেন্টার উইকেটে অনুশীলনে ব্যস্ত। তাতে কতটা স্পিন ভীতি কাটানো সম্ভব সেটা কেবল ঐ ব্যাটসম্যানরাই জানে!

বিশ্বকাপের আগে এটি বাংলাদেশের শেষ সিরিজ। ফলে প্রস্তুতির শেষ সুযোগও বলা যায়। তবে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের মত স্পিন নির্ভর উইকেট হচ্ছে বলে সে প্রস্তুতি কতটা কাজে আসবে এ নিয়ে আছে সংশয়। যদিও জয়ের ধারায় থেকে বিশ্বকাপে আত্মবিশ্বাস নিয়ে যেতে চায় বাংলাদেশ।

উইকেট ইস্যুতে আজ সংবাদ সম্মেলনে টাইগার দলপতি মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ অবশ্য দিয়েছেন কৌশলী উত্তর, ‘উইকেট নিয়ে আমি সব সময় বলি যে উইকেট অনুমান করা কঠিন। আমার মনে হয় পজিটিভ ফ্রেম অফ মাইন্ডে যাওয়াটা ভালো। আমরা ভালো উইকেট প্রত্যাশা করব। সেভাবেই ম্যাচে যাব। পরে গিয়ে যেটা পাব সেভাবে আমাদের মানিয়ে নিতে হবে।’

এর আগে দুই দল ১০ বার টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছে যার সবকটিতেই পরাজিত দলে বাংলাদেশ। বাংলাদেশের মাটিতে মাত্র একবার দুদলের টি-টোয়েন্টি লড়াই হয়েছে। ২০১৩ সালে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গড়ানো ম্যাচে বাংলাদেশ হেরেছে ১৫ রানে।

এদিকে সর্বশেষ ১০ টি-টোয়েন্টি বাংলাদেশের জয় ৬ টি। মিরপুরে শেষ ১০ টি-টোয়েন্টিতেও সাফল্যের হার বেশ সন্তোষজনক, জিতেছে ৮ টিতেই। নিউজিল্যান্ড শেষ ১০ ম্যাচে জিতেছে ৭ টিতে।

কিউইদের বিপক্ষে এখনো টি-টোয়েন্টি না জেতা বাংলাদেশের সামনে এবার সুবর্ণ সুযোগ সিরিজ জয়েরই। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তামিম ইকবাল, লিটন দাস, মুশফিকুর রহিমকে ছাড়াই ৪-১ ব্যবধানে জিতেছে।

চোট পুনর্বাসনে তামিম না ফিরলে লিটন-মুশফিক ফিরেছে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে। এতে পূর্ণ শক্তির দলই পাচ্ছে টাইগাররা, যেখানে বিনয়ী না হলে নিজেদের ফেভারিট না ভাবার কোনো কারণই নেই।

টাইগার দলপতি অবশ্য বাস্তবতা তুলে ধরে নিজেদের সরাসরি ফেভারিট বলতে রাজি হননি, ‘আমি সব সময় বলি, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটটাই এমন আপনি নিজেকে ফেভারিট ভাবতেও পারেন, আবার অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী হয়ে যান তাহলে আপনার জন্য নেতিবাচক হয়ে যায়। এই ফরম্যাটটা এমন নির্দিষ্ট কন্ডিশন, উইকেট বিশ্লেষণসহ ভালো ক্রিকেট খেলার উদ্দীপনা থাকা দরকার।’

‘যেহেতু আমার জিম্বাবুয়ে সিরিজে ভালো খেলেছি, অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও ভালো খেলেছি ওটার কন্টিনিউ থাকা উচিত এবং ওভাবেই চিন্তা করা উচিত। তাহলে আমাদের জন্য বেটার হবে ইতিবাচক রেজাল্ট আনার ক্ষেত্রে।’

‘আমার মনে হয় ওরা খুব ভাল একটা দল। একটু আগে যেটা বললাম, নিউজিল্যান্ড এমন একটা দল যারা খুব ভাল হোমওয়ার্ক করে। এবং খুব ডিসিপ্লিনিড। ওরা যে প্লান করে সেই প্ল্যানেই সব সময় ঠিক থাকার চেষ্টা করে। ওদের সঙ্গে আমাদের ভাল খেলতে হলে ডিসিপ্লিনিড ক্রিকেট খেলতে হবে।’

এদিকে অনভিজ্ঞ দল নিয়ে নেতৃত্ব দিতে আসা টম লাথাম হাল ছাড়ছেন না। সতীর্থদের দিলেন নির্ভার খেলার বার্তা। প্রস্তুতিও ভালো হয়েছে বলছেন কিউই কাপ্তান।

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ সদস্যই এই পর্যায়ে খেলার অভিজ্ঞতা রাখে। কয়েকজন আগে স্কোয়াডে ছিল না। তাদের জন্য দলে জায়গা পাওয়া রোমাঞ্চকর। যত সম্ভব নির্ভার থাকা উচিৎ। গত ৫ দিন ভালো অনুশীলন হয়েছে। আজ অনুশীলনে তুলির শেষ আঁচড় দিব। বাংলাদেশে আমাদের সময়টা ভালো যাচ্ছে।’

‘দলের চারপাশে ভালো পরিবেশ বিরাজ করছে। ক্রিকেটে নিজেদের উজাড় করে দিতে ছেলেরা মুখিয়ে আছে। আমরা এই সিরিজের আগে দুটি ক্যাম্প করেছি। তাই প্রস্তুতির দিক থেকে চিক্তা করলে এটা দীর্ঘ সময়। কাল মাঠে নামার জন্য মুখিয়ে আছে সবাই।’

বাংলাদেশের একাদশ সাজাতে কিছু জায়গায় লড়াই হবে দুই-তিনজনের মধ্যে। বিশেষ করে ওপেনিংয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজে ব্যর্থ হওয়া সৌম্য সরকার নাকি নাইম শেখকে দেখা যাবে লিটন দাসের সাথে তা নিয়ে আছে সংশয়। যদিও পারফরম্যান্স বিবেচনায় নাইমের এগিয়ে থাকার কথা।

তিন নম্বরে যথারীতি সাকিব আল হাসান, চারে ফিরবেন মুশফিকুর রহিম। এরপর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও আফিফ হোসেন। এরপর উইকেট রক্ষক নুরুল হাসান সোহান ও শেখে মেহেদী হাসান।

উইকেটের পেছনে অবশ্য প্রথম দুই ম্যাচে সোহান ও পরের দুই ম্যাচে মুশফিককে দেখা যাবে বলে জানান কোচ রাসেল ডোমিঙ্গো।

একাদশে বাঁহাতি স্পিনাত নাসুম আহমেদের থাকাটাও অনেকটা নিশ্চিত। দুই পেসার মুস্তাফিজুর রহমান ও শরিফুল ইসলাম।

বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশঃ

লিটন দাস, নাইম শেখ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (অধিনায়ক), আফিফ হোসেন, নুরুল হাসান সোহান (উইকেট রক্ষক), শেখ মেহেদী হাসান, শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ ও মুস্তাফিজুর রহমান।

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ভারতীয় সংবাদপত্রের ওপর চটেছেন ওয়াসিম আকরাম

Read Next

রাজস্থান রয়্যালস দলে টানল এভিন লুইসকে

Total
1
Share