লর্ডসে জো রুটময় এক দিন

লর্ডসে রুটময় এক দিন

লর্ডস টেস্টের প্রথম দুইদিন ভারত এগিয়ে থাকলেও তৃতীয় দিন শেষে লাগাম টেনে ধরেছে ইংল্যান্ড। যেখানে ব্যাট হাতে অসাধারণ এক সেঞ্চুরি অধিনায়ক জো রুটের। তার রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরিতে অলআউট হওয়ার আগে ইংলিশদের লিড ২৭ রানের।

প্রথম ইনিংসে ভারতের ৩৬৪ রানের জবাবে ৩ উইকেটে ১১৯ রানে দ্বিতীয় দিন শেষ করেছিল ইংল্যান্ড। অধিনায়ক জো রুট ৪৮ ও জনি বেয়ারস্টো অপরাজিত ছিলেন ৬ রানে।

গতকাল (১৪ আগস্ট) তৃতীয় দিন রুট তুলে নেন সেঞ্চুরি, শেষ পর্যন্ত অপরাজিত ছিলেন ১৮০ রানে। বেয়ারস্টো আউট হন ৫৭ রান করে। এরপর জস বাটলার ২৩ ও মইন আলির ব্যাটে ২৭ রান। তাতেই দিনের শেষ ভাগে অল আউট হয় ৩৯১ রানে।

দিনের শুরুর সেশনে দাপট ইংল্যান্ডের। কোনো উইকেট হারায়নি স্বাগতিকরা, ততক্ষণে ফিফটির দেখা পেয়ে যায় রুট-বেয়ারস্টো। ৩ উইকেটে ২১৬ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় ইংল্যান্ড। ৮৯ রানে রুট ও ৫১ রানে অপরাজিত ছিলেন বেয়ারস্টো।

লাঞ্চের পর অবশ্য বেশিক্ষণ টিকেননি বেয়ারস্টো। মোহাম্মদ সিরাজ টানা শর্ট বলে বেকায়দায় ফেলেন, এরপর অ্যাঙ্গেল পরিবর্তন করে দেওয়া শর্ট বলে এজে পরিণত করেন। তাতে ভিরাট কোহলির হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১০৭ বলে ৭ চারে ৫৭ রান করে। ভাঙে রুটের সাথে ১২১ রানের জুটি।

বেয়ারস্টোর বিদায়ের পর ২০০ বলে ৯ চারে সেঞ্চুরি ছুঁয়েছেন ইংলিশ দলপতি রুট। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হিসেবে এক পঞ্জিকা বর্ষে ৫ সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে আছেন সবার উপরে। পেছনে ফেলেছেন ৪ টি করে হাঁকানো গ্রাহাম গুচ (১৯৯০), মাইকেল আথারটন (১৯৯৪) ও অ্যান্ড্রু স্ট্রসকে (২০০৯)।

৮৬তম ওভারের দ্বিতীয় বলে ওয়াইড ফাইন লেগ দিয়ে ফ্লিক শটে চার মেরে বিশ্বের ১৬তম ও ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে ৯ হাজার রানের মাইলফল স্পর্শ করেন রুট। ৯ হাজারি ক্লাবে প্রবেশ করতে অভিষেকের পর দিনের হিসেবে সবচেয়ে কম সময় লেগেছে তারই (৩১৬৭ দিন)।

বয়সের হিসেবে তার চাইতে কম বয়সে এই মাইলফলক স্পর্শ করেছে আরেক ইংলিশ অ্যালিস্টার কুক (৩০ বছর ১৫৯ দিন)। যেখানে রুট ছুঁয়েছেন ৩০ বছর ২২৭ দিন বয়সে।

রুটের কীর্তির রেশ কাটতে না কাটতে আউট হন তাকে সঙ্গ দেওয়া জশ বাটলারও। ইশান্ত শর্মার স্লটে ফেলা ইনসুইং ডেলিভারিতে বোল্ড হন ২৩ রান করে। এই নিয়ে ৬ষ্ঠবার টেস্টে ইশান্তের শিকার বাটলার, যা কোনো বোলারকে দেওয়া তার সর্বোচ্চ উইকেট।

বাটলারের সাথে ৫৪ রানের জুটির পর মইন আলিকে নিয়েও স্বপ্ন দেখেন জো রুট। ৫ উইকেটে ৩১৪ রান তুলে চা বিরতিতে গিয়েছিল ইংলিশরা। রুট ১৩২ ও মইন ২০ রানে অপরাজিত ছিলেন।

চা বিরতির পরও ভালোই সঙ্গ দেন মইন। তাকে এক পাশে রেখে ১৫০ ছুঁয়েছেন ইংলিশ দলপতি। ইশান্তের করা ১০৭তম ওভারে চার মেরে ২৬৬ বলে ১৫০ আসে রুটের ব্যাটে। আর তাতেই লর্ডসে হাঁকানো তার চার সেঞ্চুরিই ১৫০ পেরোনো ইনিংসে রূপ পায়। লর্ডসে সবচেয়ে বেশি ১৫০ পেরোনো ইনিংস এখন তার অধীনে।

তবে ইশান্তের টানা দুই বলে দুই উইকেট শিকারে ভাঙে মইনের সাথে রুটের ৫৮ রানের জুটি। ১১১তম ওভারের পঞ্চম বলে ২৭ রান করা মইনের পর স্যাম কারেনকে খালি হাতে ফেরান ইশান্ত।

সেশনের বাকি সময়টা একাই লড়েছেন রুট। এই এক সেশনেই ইংল্যান্ড হারায় ৭৭ রানে ৫ উইকেট। ওলি রবিনসন (৬), মার্ক উড (৫) ও জিমি অ্যান্ডারসনকে (০) নিয়ে ডাবল সেঞ্চুরির পথেই ছিলেন ইংলিশ দলপতি। তবে মোহাম্মদ শামির দ্বিতীয় শিকার হয়ে অ্যান্ডারসন বোল্ড হলে ৩২১ বলে ১৮ চারে ১৮০ রানেই অপরাজিত থাকতে হয় রুটকে।

তার আগেই ২৭ রানে লিড পেয়ে যায় স্বাগতিকরা। ভারতের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট মোহাম্মদ সিরাজের, ৩ টি শিকার ইশান্ত শর্মার। দিনের কয়েক ওভার বাকি থাকলেও এদিন আর নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামেনি ভারত।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

মাঠে জার্সি পরে খেলতে নেমে পড়লেন দর্শক!

Read Next

বাবরের ব্যাটে বড় লিডের স্বপ্ন দেখছে পাকিস্তান

Total
1
Share