লো স্কোরিং ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া

লো স্কোরিং ম্যাচে জয়ের মুখ দেখল অস্ট্রেলিয়া

১০৪ রানের পুঁজি নিয়ে ফিল্ডিং করতে নামে বাংলাদেশ। সাকিব আল হাসান এক ওভারে পাঁচ ছক্কা হজমের পরও অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে টাইগার বোলাররা। সাকিব ৪ ওভারের স্পেলে খরচ করেন অজিদের প্রয়োজনীয় রানের প্রায় অর্ধেক (৫০)। ফলে লড়াই করেও লো স্কোরিং ম্যাচটি জিততে পারেনি বাংলাদেশ। টানা তিন জয়ের পর পরাজয়ের স্বাদ পেল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল।

প্রথম তিন ম্যাচ হেরে সিরিজ খুইয়ে বসা সফরকারী অস্ট্রেলিয়া আজ (৭ আগস্ট) চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে মিরপুরে পেল ৩ উইকেটের জয়। যে পথে নায়ক বলতে হয় সাকিবের এক ওভারে পাঁচ ছক্কা হাঁকিয়ে ১৫ বলে ৩৯ রান করা ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ানকে।

টস জিতে আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ অস্ট্রেলিয়ার জন্য মাত্র ১০৫ রানের লক্ষ্য দিতে পেরেছে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ২৮ রান ওপেনার নাইম শেখের ব্যাটে। শেষদিকে আফিফ হোসেনের ২১ ও শেখ মেহেদীর ২৩ রানে লজ্জা এড়ায় টাইগাররা।

অ্যাডাম জাম্পার বিশ্রামে সিরিজে প্রথম খেলতে নামা লেগ স্পিনার মিচেল সুইপসন নিয়েছেন কঠিন পরীক্ষা। ১৩ রান খরচায় নেন ৩ উইকেট।

জবাবে ক্রিশ্চিয়ানের ঝড়ের পরও টাইগার বোলারদের ঝলকে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ার উপক্রম অজিদের। শেষদিকে অ্যাশটন আগার (২৭) ও অ্যাশটন টার্নারের (৯*) ব্যাটে ৬ বল ও ৩ উইকেত হাতে রেখে জয় পায় অজিরা। বাঁহাতি পেসার মুস্তাফিজুর রহমান এদিনও ছিলেন দুর্দান্ত, ৪ ওভারে ১ মেডেনসহ ৯ রান খরচায় তুলে নেন ২ উইকেট।

ছোট লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শেখ মেহেদীর করা প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় অজিরা। ব্যর্থতার বৃত্ত থেকে বের হতে না পারা অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড বোল্ড হন ২ রান করে। তবে এরপরের গল্পজুড়ে ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ানের নাম।

প্রথম ৩ ওভারে অজি স্কোরবোর্ডে ১৫ রান। সাকিব আল হাসানের করা চতুর্থ ওভারেই আসে ৩০! ক্রিশ্চিয়ান হাঁকান পাঁচ ছক্কা, প্রথম তিনটি টানা, পরে এক বল ডট দিয়ে আরও দুইটি।

প্রথব বলে পায়ের দারুণ ব্যবহারে লং অন দিয়ে, দ্বিতীয় বলে স্লগ শটে একই অঞ্চলে, তৃতীয় বলেও স্লগ তবে এবার বল সীমানা পার হয় মিড উইকেট অঞ্চল দিয়ে।

চতুর্থ বলে অফ স্টাম্পের বাইরে ফেলে টার্ন করান সাকিব, পরাস্ত হয় অজি ডানহাতি। তবে ফুলার লেংথের পরের বলে আবারও ঠিকানা লং অন দিয়ে সীমানার বাইরে, একই লেংথের শেষ বলে পুল করে লং অন দিয়েই হাঁকান পঞ্চম ছক্কাটি।

নাসুম আহমেদের করা পঞ্চম ওভারে ওপেনার বেন ম্যাকডারমেট ফিরেছেন এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ে। ভাঙে ক্রিশ্চিয়ানের সাথে ৪৪ রানের জুটি, যেখানে ম্যাকডারমেটের অবদান ১২ বলে ৫।

এরপর মুস্তাফিজ ঝলকে বাংলাদেশ ম্যাচে ফেরে দুর্দান্ত প্রতাপে। ৬ষ্ঠ ওভারে আক্রমণে এসেই রুদ্রমূর্তি ধারণ করার অপেক্ষায় থাকা ক্রিশ্চিয়ানকে ফেরান। স্লোয়ারে বিভ্রান্ত হয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে ক্যাচ দেন ক্রিশ্চিয়ান, থামেন ১৫ বলে ১ চার ৫ ছক্কায় ৩৯ রান করে। ওভারে কোনো রান খরচ করেননি মুস্তাফিজ।

৭ম ওভারে সাকিব মিচেল মার্শের হাতে আরও এক ছক্কা হজম করেও শেষ বলে রান আউট করান ময়সেস হেনরিকসকে (৯ বলে ৪ রান)। মিচেল মার্শের স্ট্রেইট ড্রাইভ সাকিবের হাত ছুঁয়ে ভাঙে স্টাম্প, ততক্ষণে নন স্ট্রাইক প্রান্তের হেনরিকস পপিং ক্রিজের বাইরে।

১০ম ওভারে স্লোয়ারে বোকা বানিয়ে অ্যালেক্স ক্যারিকে ( ৬ বলে ১) সাঝঘরের পথ দেখান মুস্তাফিজ। ওভারে মাত্র ২ রান খরচ করেন। পরের ওভারেই শেখ মেহেদী বোল্ড করেন মিচেল মার্শকে (১৫ বলে ১১)। ১ উইকেটে ৪৭ থেকে ৬ উইকেটে ৬৫ সফরকারীদের।

তবে সেখান থেকে অ্যাশটন আগার ও অ্যাশটন টার্নারের ৩৪ রানের জুটিতে জয়ের পথ মসৃণ হয় অস্ট্রেলিয়ার। দলকে জয় থেকে ৬ রান দূরে রেখে আগার ২৭ রান করে ফিরেছেন শামীম হোসেনের অসাধারণ এক ক্যাচে।

অ্যান্ড্রু টাইকে (৭ বলে ৪) নিয়ে বাকি কাজ অনায়েসেই সারেন ২০ বলে ৯ রান করা টার্নার। ৬ বল ও ৩ উইকেট হাতে রেখে জয় নিশ্চিত করে ম্যাথু ওয়েডের দল। মুস্তাফিজ ছাড়াও শেখ মেহেদী নেন ২ টি করে উইকেট।

টানা তিন ম্যাচে ব্যর্থ হওয়া বাংলাদেশ ওপেনার সৌম্য সরকার ও নাইম শেখ আরেক দফা সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হয়েছেন এদিন। তবে আভাস দিয়েছিলেন ভালো কিছুর, ৩.৩ ওভার স্থায়ী জুটিতে ২৪ রান তুলেও ফেলেন।

জশ হ্যাজেলউডের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে টানা দুই চার হাঁকান নাইম। প্রথমটি পুল শটে স্কয়ার লেগে, পরেরটি ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে। পরের ওভারে অ্যাশটন টার্নারকে লং অফ দিয়ে ছক্কা হাঁকান সৌম্য।

হ্যাজেলউডের করা চতুর্থ ওভারেই অবশ্য সৌম্য (১০ বলে ৮) ফিরেছেন টপ এজ হয়ে। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে সাকিব আল হাসান ও নাইমের ২৪ রানের জুটি। কাট করতে গিয়ে উইকেটের পেছনে সাকিব (২৬ বলে ১৫) ক্যাচ দিলে ভাঙে জুটি।

১১তম ওভারে লেগ স্পিনার মিচেল সুইপসন টানা দুই বলে তুলে নেন উইকেট। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও নুরুল হাসান সোহান দুজনেই ফিরেছেন খালি হাতে।

১ উইকেটে ৪৮ থেকে ৪ উইকেটে ৫১ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ। ক্রিজে টিকেও ওপেনার নাইম করতে পারেননি আসল কাজ। সুইপসনের টানা স্পেলের শেষ ওভারে ফিরেছেন গুগলিতে। স্লগ সুইপ করে ক্যাচ দেন উইকেট রক্ষক ম্যাথু ওয়েডকে। ৩৬ বলে ২ চারে সাজান ২৮ রানের ইনিংস।

এরপর বাংলাদেশ ১০০ পেরোয় আফিফ হোসেনের ১৭ বলে ২১ ও শেখ মেহেদীর ১৬ বলে ২৩ রানের ইনিংসে। বাংলাদেশ থামে ৯ উইকেতে ১০৪ রানে। অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি করে উইকেট টাই ও সুইপসনের। জশ হ্যাজেলউড নেন ২ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১০৪/৯ (২০), নাইম ২৮, সৌম্য ৮, সাকিব ১৫, মাহমুদউল্লাহ ০, নুরুল ০, আফিফ ২০, শামীম ৩, মেহেদী ২৩, নাসুম ২, শরিফুল ০; হ্যাজেলউড ৪-০-২৪-২, অ্যাগার ৪-০-২২-১, টাই ৩-০-১৮-৩, সুইপসন ৪-০-১২-৩

অস্ট্রেলিয়া ১০৫/৭ (১৯), ম্যাকডারমট ৫, ওয়েড ২, ক্রিশ্চিয়ান ৩৯, মার্শ ১১, হেনরিকস ৪, ক্যারি ১, টার্নার ৯*, অ্যাগার ২৭, টাই ৪*; মেহেদী ৪-০-১৭-২, নাসুম ৪-০-১৭-১, মুস্তাফিজ ৪-১-৯-২, শরিফুল ২-০-৮-১

ফলাফলঃ অস্ট্রেলিয়া ৩ উইকেটে জয়ী।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মন্থর উইকেটে মুখ থুবড়ে পড়ল টাইগাররা

Read Next

সাকিবের ভূতুড়ে ওভার নয়, মাহমুদউল্লাহর কাঠগড়ায় ব্যাটসম্যানরা

Total
1
Share