নাসুমের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং, টাইগারদের অজি বধ

নাসুমের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং, টাইগারদের অজি বধ

আজ (৩ আগস্ট) প্রথম টি-টোয়েন্টি মাঠে গড়ানোর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া সিরিজ নিয়ে যত আলোচনা তার বেশিরভাগই ছিল মাঠের বাইরের। স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিতে অজিদের দেওয়া কঠিন সব শর্ত নিয়েই এতদিন হচ্ছিল কাটা ছেঁড়া। তবে জয় দিয়ে মাঠের লড়াই শুরু করা বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই এক পশলা স্বস্তি এনে দিচ্ছে জনমনে।

২৩ রানে তুলে নেওয়া বাংলাদেশের জয়টি অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি প্রথম জয়। অথচ বাংলাদেশ ইনিংস শেষেও এমন কিছুর স্বপ্ন দেখেছে খুব কম সংখ্যক লোক।

এর আগে টি-টোয়েন্টিতে চার বার মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। চারবারই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে, সবকটিতেই পরাজিত দল বাংলাদেশ। দুই দলের দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজ এবারই প্রথম। পাঁচ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজে বাংলাদেশ এগিয়ে গেল ১-০ ব্যবধানে।

মিরপুরে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরু থেকে ধুঁকে ধুঁকে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৭ উইকেটে ১৩১। ক্রিজে টিকেও কার্যকর ইনিংস খেলতে পারেননি নাইম শেখ (২৯ বলে ৩০), সাকিব আল হাসান (৩৩ বলে ৩৬) অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ (২০ বলে ২০)। শেষদিকে আফিফ হোসেনের ১৬ বলে ২৫ রান।

জবাবে টাইগারদের স্পিন ঘূর্ণিতে নাজেহাল সফরকারীরা। পুরো ২০ ওভার খেলে অলআউট হয়েছে ১০৮ রানে। বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদের ক্যারিয়ার সেরা বোলিংয়ে দাঁড়াতে পারেনি অজিদের অনভিজ্ঞ ব্যাটিং লাইনআপ। সর্বোচ্চ ৪৫ রান করা মিচেল মার্শ আশা দেখিয়েও শিকার হন নাসুমের।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে বাংলাদেশের চেয়ে বাজে শুরু অস্ট্রেলিয়ার। টাইগারদের স্পিন ঘূর্ণিতে ১১ রানেই হারায় ৩ উইকেট। ইনিংসের প্রথম বলেই ওপেনার অ্যালেক্স ক্যারিকে বোল্ড করেন শেখ মেহেদী হাসান।

পরের ওভারে বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদ স্টাম্পড করান আরেক ওপেনার জশ ফিলিপকে (৫ বলে ৯)। ইনিংসের তৃতীয় ও নিজের প্রথম ওভার করতে এসে সাকিব আল হাসান বোল্ড করেন ময়সেস হেনরিকসকে (১)।

সেখান থেকে অধিনায়ক ম্যাথু ওয়েড ও মিচেল মার্শ দলকে বিপর্যয় মুক্ত করার চেষ্টায় ছিলেন। পাওয়ার প্লেতে স্বাগতিকদের সংগ্রহ ৩ উইকেটে ২৮ রান। তবে দুজনের ৩৮ রানের জুটি ভাঙে নাসুম আহমেদের নিরীহ এক ডেলিভারিতে ওয়েড শর্ট ফাইন লেগে মুস্তাফিজুর রহমানকে ক্যাচ দিলে। ২৩ বলে থামে তার ১৩ রানের ইনিংস। ১০ ওভারে অজিদের বোর্ডে ৪ উইকেটে ৫২ রান।

দলের কঠিন সময়ে দাঁড়িয়ে যাওয়া মিচেল মার্শ নতুন ব্যাটসম্যান অ্যাশটন আগারকে নিয়ে জয়ের পথে হাঁটতে চাইলেও দুর্ভাগ্য হানা দেয়। হিট আউট হয়ে আগার (১২ বলে ৭) পরিণত হন নাসুমের তৃতীয় শিকারে। নাসুমের চতুর্থ শিকার হয়ে এরপর ফিরেছেন মার্শও।

স্লগ সুইপ খেলতে গিয়ে স্কয়ার লেগে শরিফুল ইসলামের দারুণ এক ক্যাচে পরিণত হন বাংলাদেশের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ানো মার্শ। ৪৫ বলে ৪ চার ১ ছক্কায় খেলেন ৪৫ রানের ইনিংসটি। তার বিদায়ে অজিদের স্কোরবোর্ড ৬ উইকেটে ৮৪! ৪ ওভারের স্পেল শেষে নাসুমের ফিগার ৪-০-১৯-৪। তখনো জয়ের জন্য প্রয়োজন ২৭ বলে ৪৮।

মুস্তাফিজ, শরিফুলদের তোপে সেই সমীকরণ আর মেলানো হয়নি সফরকারীদের। অ্যাশটন টার্নার (৮), অ্যান্ড্রু টাই (০), অ্যাডাম জাম্পা (০) ব্যর্থ হলে ১০৮ রানেই থামে অজিরা। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে মিচেল স্টার্কের ব্যাটে ১৪ বলে ১৪ রান।

নাসুমের ৪ উইকেট ছাড়াও বাংলাদেশের হয়ে সমান ২ টি করে উইকেট মুস্তাফিজ ও শরিফুলের।

এর আগে ৮ জন স্বীকৃত ব্যাটসম্যান নিয়ে একাদশ সাজানো বাংলাদেশের শুরুটাও হয়েছে বাজে। শুরুর মন্থর গতি আর বাড়াতেই পারেনি স্বাগতিকরা।

দুই ওপেনার নাইম শেখ ও সৌম্য সরকারের জুটিতে এসেছে ১৫ রান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে বাংলাদেশ তুলেছে মাত্র ৩৩ রান। যেখানে নাইমের অবদানই ২৭।

মিচেল স্টার্কের প্রথম ওভারেই ফ্লিক করে মিড উইকেট দিয়ে দারুণ ছক্কা হাঁকিয়ে ভালো কিছুর আভাস দিয়েছিলেন নাইম। তবে পরে জশ হ্যাজেলউড, অ্যাডাম জাম্পারা চেপে ধরলে খোলস বন্দী হয়ে পড়তে হয়।

ইনিংসের চতুর্থ ওভারে হ্যাজেলউড অস্বস্তিতে ফেলে সৌম্যকে (৯ বলে ২) বোল্ড করেন। জিম্বাবুয়ে সফরের ফর্ম টেনে আনতে পারেননি এই বাঁহাতি। ওভারের দ্বিতীয় বলে হ্যাজেলউডের দেওয়া শর্ট বলে আপার কাট খেলতে চেয়ে শেষ মুহূর্তে বিভ্রান্ত হন। পরের বলে জায়গা বানিয়ে আবারও কাট খেলার চেষ্টা, এবার ব্যাট হয়ে বল ভাঙে স্টাম্প।

ক্রিজে টিকেও বাজেভাবে আউট হন আরেক ওপেনার নাইম। জাম্পার করা ৭ম ওভারে আগে থেকে স্থির হয়ে রিভার্স সুইপ খেলতে গিয়ে হয়েছেন বোল্ড। ২৯ বলে সমান ২ চার, ছক্কায় ৩০ রান করে আউট হলে ভাঙে সাকিবের সাথে ২২ রানের জুটি।

৩৭ রানে ২ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে আশা দেখায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও সাকিব আল হাসানের ৩৬ রানের জুটি। জীবন পেয়েও ২০ রানের বেশি করতে পারেননি মাহমুদউল্লাহ।

ফিরেছেন হ্যাজেলউডকে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে, দারুণ এক ক্যাচ নেন ময়েসেস হেনরিকস। বাজে শটে আউট হওয়া নুরুল হাসান সহান এদিন করতে পারেননি ৩ রানের বেশি।

এক পাশ আগলে রেখে দলকে পথ দেখানোর চেষ্টা করা সাকিবও স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে দ্রুত রান তুলতে ব্যর্থ। সহজ রান আউট থেকে বেঁচে গিয়েও হ্যাজেলউডের নিচু হওয়া বলে বোল্ড হয়ে থেমেছেন ৩৩ বলে ৩৬ রানে।

১৭তম ওভারে দলীয় ১০০ পেরোনো বাংলাদেশ সাকিবের বিদায়ে পরিণত হয় ৫ উইকেটে ১০৪ রানে। ইনিংসের শেষ বলে আউট হওয়ার আগে আফিফের ব্যাট থেকে আসে ১৭ বলে ৩ চারে ২৩ রান।

আর তাতে ৭ উইকেটে ১৩১ রান পর্যন্ত যেতে পারে টাইগাররা। আফিফকে বোল্ড করে ক্যারিয়ারের ৫০তম আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি উইকেট পূর্ণ করেন স্টার্ক।

অজিদের হয়ে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এই বাঁহাতি পেসারই প্রথম এই মাইলফলক ছুঁলেন। ৩৩ রানে তার শিকার ২ উইকেট। ২৪ রান খরচায় সর্বোচ্চ ৩ উইকেট অবশ্য হ্যাজেলউডের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ১৩১/৭ (২০), নাইম ৩০, সৌম্য ২, সাকিব ৩৬, মাহমুদউল্লাহ ২০, নুরুল ৩, আফিফ ২৩, শামীম ৪, মেহেদী ৭*; স্টার্ক ৪-০-৩৩-২, হ্যাজেলউড ৪-০-২৪-৩, জাম্পা ৪-০-২৮-১, টাই ৪-০-২২-১

অস্ট্রেলিয়া ১০৮/১০ (২০), ক্যারি ০, ফিলিপ ৯, মার্শ ৪৫, হেনরিকস ১, ওয়েড ১৩, অ্যাগার ৭, টার্নার ৮, স্টার্ক ১৪, টাই ০, জাম্পা ০, হ্যাজেলউড ২*; মেহেদী ৪-০-২২-১, নাসুম ৪-০-১৯-৪, সাকিব ৪-০-২৪-১, মুস্তাফিজ ৪-০-১৬-২, শরিফুল ৩-০-১৯-২

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ২৩ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ নাসুম আহমেদ (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মিরপুরে অল্পতেই থামল টাইগাররা

Read Next

নাসুমের ক্যারিয়ার সেরা বোলিং ও সাকিব-রিয়াদের সমর্থন

Total
1
Share