আলোর ঝলকানিতেও নিস্প্রাণ অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলন

আলোর ঝলকানিতেও নিস্প্রাণ অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলন

সকালে বাংলাদেশের অনুশীলন ছিল, ছিল বৃষ্টির বাগড়া। সকালের কাঁচা রোদে দারুণ শুরুর পরও বৃষ্টি বাধায় অনুশীলন বানচাল হয় টাইগারদের। বৃষ্টি থামে, অনুশীলন চলে তবে ছিলনা সে উত্তাপ। কিন্তু বিকেলে অস্ট্রেলিয়ার অনুশীলন শুরু হতেই পশ্চিম আকাশে হেলে পড়া সূর্য্যের নরম আলো ছুঁয়ে যায় মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের সবুজ গালিচা। সন্ধ্যায় ফ্লাডলাইটও জ্বলেছে, তবে ছিল না উৎসবের আমেজ, ছিলনা অনেক কিছুই।

সিরিজ চলাকালীন কোনো বিদেশি দলের বাংলাদেশে আসা মানেই কর্ম চাঞ্চল্য মিরপুর শের-ই-বাংলা। এবারও কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট সবাই, তবে সেটার ধরণে এসেছে বদল। চিরচেনা অনেক কাজেই এসেছে ভিন্নতা। আর সেটি সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার চাহিদা মোতাবেকই হয়েছে। মূলত কোভিড পরিস্থিতিতে নিজেদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিসিবিকে দেওয়া ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কঠিন সব শর্তের অংশ এসব।

এই কোভিড পরিস্থিতিতেই বিসিবি আয়োজন করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে আন্তর্জাতিক সিরিজ। তবে বায়ো-বাবলের মধ্যে আয়োজিত সেসব সিরিজে ছিল কিছুটা হলেও শিথিলতা, অন্তত মাঠের বাইরের কার্যক্রমগুলোতে। এবার যেখানে সবকিছুতেই কড়াকড়ি।

অস্ট্রেলিয়া দল অনুশীলন করার কথা বিকেল চারটায়। তার আগেই মিরপুরে হাজির ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার কোভিড প্রোটোকল পর্যবেক্ষণ কর্মকর্তা। সফরকারীদের অনুশীলনের জন্য নির্ধারিত মূল মাঠ, একাডেমি মাঠ সহ সবকিছু পর্যবেক্ষণ শেষে সবুজ সংকেত দিলে মাঠে আসে অস্ট্রেলিয়ার টিম বাস।

বিকেল চারটার বেশ আগেই হাজির অজিরা। ম্যাথু ওয়েড, অ্যালেক্স ক্যারি, মিচেল স্টার্করা আসার আগেই অবশ্য মাঠ থেকে দূরে গ্রাউন্ডসম্যানরা। আগের দুই সিরিজে তারা বায়ো-বাবলে থাকায় সফরকারী দলের অনুশীলনের সময়ও মাঠেই থাকতে পেরেছেন। এবার অজিদের শর্ত অনুসারেই অনুশীলনের সময় গ্যালারিতে চলে যেতে হয় গ্রাউন্ডসম্যানদের।

মাঠে খানিক রানিং, রাগবি বলে গা গরম, হালকা শরীর চর্চার পর পাশের একাডেমি মাঠের নেটে চলে যায় ক্রিকেটাররা। যেখানে অ্যাডাম জাম্পা, মিচেল সুইপসন, ড্যানিয়েল ক্রিশ্চিয়ান, অ্যাশটন আগার, অ্যাশটন টার্নাররা বল ছুঁড়েছেন অ্যালেক্স ক্যারি, জশ ফিলিপ, ম্যাথু ওয়েডদের জন্য। তবে দলের বোলিং আক্রমণের অন্যতম অস্ত্র পেসার মিচেল স্টার্ক ও জশ  হ্যাজেলউড এদিন বল করেননি।

এদিন মিরপুরে দেখা মিলেছে দারুণ এক দৃশ্যের। মিচেল স্টার্ক যখন মিরপুরে তখন তার ছোট ভাই ব্রেন্ডন স্টার্ক টোকিও অলিম্পিকে হাই জাম্পে পদক জয়ের মিশনে নেমেছে। ছোট ভাইয়ের খেলা দেখতে মাঠেই মিচেল স্টার্ক সহ সতীর্থ অজি ক্রিকেটাররা বসে পড়েন ল্যাপটপের সামনে। যদিও শেষ পর্যন্ত পদক জেতা হয়নি ব্রেন্ডনের, ২.৩৫ মিটার নিয়ে শেষ করেছেন পঞ্চম স্থানে থেকে।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যা নামতেই জ্বলে উঠে মিরপুরের ফ্লাডলাইট। তবে তাতেও খুব একটা সিরিয়াস অনুশীলনের দেখা মেলেনি অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটারদের। মিনিট বিশেক পুরো মাঠ জুড়ে ক্যাচ অনুশীলনেই সীমাবদ্ধ ছিল প্রথমদিনের অনুশীলন। সূচি অনুসারে সাড়ে সাতটায় শেষ হওয়ার কথা ছিল তাদের অনুশীলন, তবে সাতটার আগেই মাঠ থেকে উঠে যায় সফরকারীরা।

ফ্লাডলাইটের আলোয় আলোকিত মিরপুর শের-ই-বাংলা শূন্য পড়ে রয়। তবে মাঠকর্মীরা তবুও মাঠে নামার সাহসটুকু যেন পাচ্ছিলেন না। এরপর বৃষ্টি নামে, অজিরা হোটেলে ফিরে যায়, উইকেট ডেকে দেওয়া হয় কাভারে। যে বৃষ্টি ঝরছিল এই প্রতিবেদন লেখার সময়ও…

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

সাকিবের উইকেট দেখা দিয়ে অস্ট্রেলিয়া সিরিজের অনুশীলন শুরু বাংলাদেশের

Read Next

আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্কোয়াড ঘোষণা

Total
4
Share