প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে খুশি অস্ট্রেলিয়া

প্রত্যাশার চেয়ে বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে খুশি অস্ট্রেলিয়া

বাংলাদেশে সফরের আগে অস্ট্রেলিয়া দল যেসব শর্ত দিয়েছে তাতে মনে হতেই পারে অনেকটা চেপেই ধরেছে দলটি। তবে তাদের দেওয়া সব কঠিন শর্ত পূরণ করেও বিসিবি বলছে সবকিছু স্বাভাবিক। এদিকে অজিদের শর্ত এত নিখুঁতভাবে পূরণ করা হয়েছে যে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার দাবি প্রত্যাশার চাইতেও বেশি সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়েছে। আর এ নিয়ে সফরকারীরা দারুণ সন্তুষ্টও।

করোনা প্রভাবে এমনিতেই এখন সকল আন্তর্জাতিক সিরিজ হয়ে পড়েছে দারুণ চ্যালেঞ্জিং। বায়ো-বাবল, কোয়ারেন্টাইন সহ স্বাস্থ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে আয়োজক দেশক সামলাতে হয় কঠিন পরিস্থিতি। তবে ৫ ম্যাচ টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে ২৯ জুলাই বাংলাদেশে আসা অস্ট্রেলিয়া যেন আরও এক কাঠি উপরে। সফরে আসার আগে থেকেই দিয়ে রেখেছে সব কড়া শর্ত।

পুরো হোটেলে দুই দল ছাড়া থাকছেনা কোনো অতিথি, বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ ও ম্যাচ অফিশিয়ালদের জন্য বায়ো-বাবল শুরুর আগে অন্তত ১০ দিনের কোয়ারেন্টাইন, বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন না করেই সরাসরি হোটেলে প্রবেশ সহ সব শর্তই পূরণ করেছে বিসিবি।

তাদের শর্ত পূরণ করতে গিয়ে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের প্রধান কিউরেটর গামিনি ডি সিলভা সিরিজ চলাকালীন মাঠেই থাকতে পারছেনা। জিম্বাবুয়ে সফরের মাঝপথে পারিবারিক কারণে দেশে ফেরা মুশফিকুর রহিম ছিটকে গেছেন টাইগার স্কোয়াড থেকে। টিম হোটেলের জিমনেশিয়াম ব্যবহার করছে শুধু অস্ট্রেলিয়া।

এত সব শর্তে কোণঠাসা হয়েও সিরিজ যথাসময়ে মাঠে গড়াচ্ছে বলে কোনো আক্ষেপ নেই বিসিবির। বরং এ নিয়ে ভক্ত সমর্থক ও সংবাদ মাধ্যমের আলোচনা সমালোচনাকেও বাড়তি বলছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজাম উদ্দিন চৌধুরী সুজন। আজ (৩০ জুলাই) সংবাদ মাধ্যমকে তিনি বলেন,

‘এখন যে পরিস্থিতি, স্ট্যান্ডার্ড বায়োবাবল প্রটোকল আছে। এই প্রটোকলের বাইরে অস্ট্রেলিয়া দল বাড়তি কিছু চাহিদার কথা জানিয়েছে, আমরা সেগুলো পূরণের চেষ্টা করেছি। এর বাইরে কিন্তু তেমন কিছু না। বিষয়টাকে বেশি ইয়ে করে (অতিরঞ্জিত করে) দেখার সুযোগ নেই। বর্তমান পরিস্থিতিতে এটাই নিউ নরমাল এবং আমাদেরকে এভাবেই ইভেন্টগুলো আয়োজন করতে হবে।’

প্রত্যাশার চাইতে বেশি সুযোগ সুবিধা পেয়ে অজিরা খুশি বলেও জানান নিজাম উদ্দিন চৌধুরী,

‘আমার মনে হয় তারা যেসব সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে তা তাদের প্রত্যাশারও বেশি। তাদের যে ইনফরমেশন পাচ্ছি তাতে মনে হচ্ছে তারা এখন পর্যন্ত সবকিছু নিয়ে খুশি। বিশেষ করে ওদের প্রথম যে শর্ত ছিল- এয়ারপোর্ট থেকে হোটেলে যাওয়া পর্যন্ত এবং হোটেলের পরিবেশ সবকিছু নিয়ে খুশি আছে আমি মনে করি।’

ইতোমধ্যে দুইটি আন্তর্জাতিক সিরিজ ও বেশ কিছু ঘরোয়া টুর্নামেন্ট বায়ো-বাবল প্রোটোকলে আয়োজন করে আত্মবিশ্বাসী বিসিবি ভবিষ্যতের জন্য আসন্ন এই সিরিজকে বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে।

বিসিবির প্রধান নির্বাহী বলেন,

‘এটা যদি সবার সহযোগিতায় সফলভাবে করতে পারি সামনের সফরগুলো আয়োজনেও ভূমিকা রাখবে। আমাদের আত্মবিশ্বাসও অনেক বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে দুইটা আন্তর্জাতিক ইভেন্ট ও তিনটি ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজন করে আমরা পরীক্ষিত টিম, আমি মনে করি। সর্বশেষ টুর্নামেন্ট (ডিপিএল) ১২ দলের ছিল। এটাও সফলভাবে করেছি। এর পেছনে আমাদের যে অভিজ্ঞ জনবল তৈরি হয়েছে তা কাজে লাগাচ্ছি এবং আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

যে কারণে পরিবার সাথে রাখতে পারছেনা টাইগার ক্রিকেটাররা

Read Next

জিম্বাবুয়েতে প্রিন্সের মন কেড়েছেন আফিফ-সোহান

Total
92
Share