শামীম-শরিফুলদের উত্থান, নৈপথ্যে আছে ক্লেমন

শামীম-শরিফুলদের উত্থান, নৈপথ্যে আছে ক্লেমন

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের ক্রিকেটে তৃণমূল পর্যায়ে কাজ করাদের মাঝে অন্যতম আকিজ গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি। জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক খালেদ মাসুদ পাইলটের তত্বাবধানে দেশজুড়ে পরিচালিত হয়ে ক্লেমনের বেশ কিছু ক্রিকেট একাডেমি। বর্তমান জাতীয় দলে খেলা শরিফুল ইসলাম ও শামীম হোসেন উঠে এসেছেন এখান থেকেই। নিয়মিত জাতীয় দলে ক্রিকেটার সরবরাহের প্রত্যয় নিয়েই তাদের পথ চলা।

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি অভিষেক শামীম হোসেনের। অভিষেকটা রাঙিয়েছেন নিজের সহজাত ব্যাটিংয়ে। তার ক্রিকেট শুরুর প্রথম যাত্রাটা ক্লেমন চাঁদপুরের কোচ শামীম ফারুকির মাধ্যমে।

তার আগেই জাতীয় দলের জার্সি গায়ে চাপিয়েছেন যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের সতীর্থ শরিফুল ইসলাম। কাকতালীয়ভাবে শরিফুলের শুরুটাও ক্লেমন দিনাজপুর হয়ে ক্লেমন রাজশহীর কোচ আলমগীর কবিরের অধীনে।

সম্প্রতি ‘ক্রিকেট৯৭’ এর সাথে আলাপ হয়েছে শামীম-শরিফুলের দুই শৈশব কোচ শামীম ফারুকি ও আলমগীর কবিরের। বিসিবির জেলা ও বিভাগীয় কোচিং প্যানেলের অংশ এই দুই কোচ ক্লেমন একাডেমির অবদানও তুলে ধরেন ক্রিকেটার তৈরির ক্ষেত্রে।

ক্লেমন চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমির কোচ শামীম ফারুকি বলেন, ‘ক্লেমনের অবদানের কথা বলে বুঝানো যাবেনা। কারণ আমার কাছে যখন প্রস্তাব আসে যে আপনার একাডেমিকে আকিজ গ্রুপ স্পন্সর করতে চায় আমি নিজেই শুরুতে বিশ্বাস করছিলাম না। কারণ এখান থেকে প্রতিষ্ঠানগুলো সেভাবে আয় বের করে নিতে পারবেনা। ফলে একাডেমিতে বিনিয়োগে আগ্রহী হবেনা কেউই।’

‘কিন্তু পরে দেখলাম শুধু আমাদের চাঁদপুর নয়, সারা দেশেই বেশ কয়েকটি একাডেমিতে স্পন্সর করেছে ক্লেমন। তাদের স্পন্সরশিপের পর যে সুযোগ সুবিধা দিতে পারছি ছেলেদের তা আগে দেওয়া সম্ভব হতনা। আধুনিক সব সুযোগ সুবিধার পাশাপাশি সরঞ্জামের পর্যাপ্ততাও বেড়েছে। ছোট উদাহরণ দিয়েও যদি বলি আগে বিসিবি ১২ টা বল দিত এখন যদিও ২৪ টা দেয়, তবে তাতেও সারা বছর অনুশীলন চালিয়ে যাওয়া অসম্ভব। সে ক্ষেত্রে ক্লেমন পৃষ্ঠপোষকতার পর অন্তত এসব জিনিস নিয়ে ভাবতে হয়না।’

শামীম জাতীয় দলে জার্সি গায়ে চাপিয়েছে ইতোমধ্যে, তবে তার যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের আরেক সতীর্থ মাহমুদুল হাসান জয় আছেন অপেক্ষায়। জয়ের সাথে শামীমের যোগ সূত্র আরও আগে থেকে, কারণ দুজনেই শুরুটা করেছেন ক্লেমন চাঁদপুর থেকে।

কোচ শামীম ফারুকি বলেন, ‘শামীম এখন জাতীয় দলে খেলছে, শুরুটা এই ক্লেমন চাঁদপুর ক্রিকেট একাডেমিতে। যুব বিশ্বকাপ জয়ী দলের মাহমুদুল হাসান জয়ের ব্যাপারেও আমি বেশ আশাবাদী আজ না হোক কাল সেও জাতীয় দলে খেলবে। এই যে এখন সে চাঁদপুরে, এখনো সে আমার অধীনেই একাডেমিতে অনুশীলন করে যাচ্ছে।’

‘কোভিড পরিস্থিতিতে বাকিদের নিয়ে ঢালাওভাবে একাডেমি কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হলেও জয় সহ কয়েকজনকে যতটা সম্ভব সুযোগ সুবিধা দিচ্ছি। কারণ দারুণ একটা ডিপিএল শেষ করেছে সে, এখন বিরতি পড়লে সমস্যা হতে পারে।’

‘এর বাইরে এবারে অনূর্ধ্ব-১৯ দলেও একজন বাঁহাতি পেসার ছিল। অন্যান্য বয়সভিত্তিক দলেও নিয়মিত একাডেমির ক্রিকেটার থাকছে। অনূর্ধ্ব-১৭ দলের হয়ে সর্বশেষ পাকিস্তান সফরেও গিয়েছে একজন। সব মিলিয়ে ক্লেমন তৃণমূল থেকে ক্রিকেটার তুলে আনার যে কার্যক্রম হাতে নিয়েছে তা নিশ্চিতভাবেই প্রশংসার দাবিদার।’

এদিকে জাতীয় দলের সাবেক ক্রিকেটার ও বর্তমান ক্লেমন রাজশাহী ক্রিকেট একাডেমির কোচ আলমগীর কবির জানালেন বাঁহাতি পেসার শরিফুলের সাথে সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি।

ক্লেমন দিনাজপুর থেকে শরিফুলকে ক্লেমন রাজশাহীতে নিয়ে আসা ও আজকের অবস্থা তৈরির গল্প শোনাচ্ছেন আলমগীর কবির, ‘আকিজ গ্রুপের ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি নামে দেশে বেশ কয়েকটি একাডেমি আছে। তারা প্রতি বছরই কিছু ক্যাম্প পরিচালনা করে থাকে, যেমন দিনাজপুর, যশোর, চাঁদপুর, ঢাকা, রাজশাহী। এরকম একটা ৬-৭ দিনের ক্যাম্প করতে ২০১৫-১৬ সালে দিনাজপুর গিয়েছি। আমি আর হান্নান সরকার গিয়েছিলাম, ক্লেমন একাডেমিতে।’

‘আমার কাজ ছিল ফিটনেস ও পেস বোলিংটা দেখা, স্কিল নিয়ে কাজ করা। আমাকে ৫০-৬০ জন পেসার দেওয়া হয়, সেখান থেকে বাছাই করতে হবে। যেখানে কয়েকজন নতুন পেসার ছিল। জিজ্ঞেস করলাম কতদিন বয়স, ক্রিকেট বলে কতদিন খেলে। তো শরিফুল ছিল তাদের একজন, বলল মাত্র ৫-৬ দিন হয়েছে ক্রিকেট বলে অনুশীলন করছে। ওকে দেখেই মনে হয়েছে ন্যাচারাল কিছু ওর মধ্যে সৃষ্টিকর্তা দিয়েছে। ওকে ঘাষামাঝা করলে ভালো একটা জায়গায় যেতে পারে।’

‘ওখান থেকে ওকে নিয়ে আসা। যেহেতু ও ক্লেমন দিনাজপুরের ছাত্র ছিল, ওখানকার পরিচালক সাবেক জাতীয় দলের ক্রিকেটার ধীমান ঘোষ। তার সাথে কথা বলি যে আমি যদি শরিফুলকে রাজশাহী ক্লেমন একাডেমিতে নিয়ে যাই তাহলে সে সবচেয়ে সেরা সুযোগ সুবিধাটা পাবে। সে রাজি হয়েছে, ওকে রাজশাহী দিয়ে দিতে। এ ছাড়া আমি যেহেতু বিসিবির কোচ, তারও বয়স আছে সেহেতু তাকে বয়সভিত্তিকে আরও ২-৩ বছর খেলানো যাবে।’

‘ধীমানের অনুমতি নিয়ে আমি তাকে রাজশাহী নিয়ে আসি। তার ভর্তি ফি, থাকা সব ফ্রি করে দিয়েছিলাম খালেদ মাসুদ পাইলট ভাইয়ের মাধ্যমে। উনিতো ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর। শুধু খাওয়ার খরচটা সে (শরিফুল) ম্যানেজ করেছে।’

শরিফুল-শামীমদের মত ক্রিকেটার তৈরিতে ক্লেমনের ভূমিকা তুলে ধরে আলমগীর কবির যোগ করেন, ‘আমরা (ক্লেমন) একদম তৃণমূল থেকে কাজ করি। আমরা যখন যেখানে যাই, বয়সভিত্তিকে, ভালো খেলোয়াড় চোখে পড়লে তাদের পরিবারের কথা জিজ্ঞেস করি। তারা কোথায় অনুশীলন করে, তাদের বাবা-মা কি করে…?’

‘পাইলট ভাই ক্লেমনের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর, উনি আমাকে সরাসরি বলেছে তুই যেহেতু বিভিন্ন জায়গায় কাজ করিস যখন যেখানে ভালো খেলোয়াড় দেখবি, একদম ফ্রি স্কলারশিপে নিয়ে আসবি (ক্লেমন একাডেমিতে)।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ভারতীয় বুকির কাছে ৫০ কোটি রুপির প্রস্তাব পেয়েছিলেন রাজ্জাক!

Read Next

ব্রিজটাউনের উইকেটকে ‘বিব্রতকর’ বললেন পোলার্ড

Total
85
Share