সৌম্য’র ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে জিতল বাংলাদেশ

সৌম্য'র ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে জিতল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়ে সফরের শেষ ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের অলিখিত ফাইনাল। এমন ম্যাচেই বাংলাদেশকে কঠিন লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। রেকর্ড গড়ে এই ম্যাচই জিতে নিল টাইগাররা। ফলে টেস্ট, ওয়ানডের পর জিম্বাবুয়ে থেকে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শিরোপা নিয়েই দেশে ফিরবে বাংলাদেশ।

সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ম্যাচে দারুণ এক ইনিংস খেলেও দলকে জেতাতে পারেননি শামীম হোসেন। তবে আজ ১৯৪ রানের লক্ষ্য তাড়ার পথে দারুণভাবে ম্যাচ শেষ করে এসেছেন।

টস জিতে হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ওয়েসলি মাধেভ্রের ফিফটির (৫৪) সাথে রেজিস চাকাবভার ঝড়ো ৪৮, রায়ান বার্লের (৩১*) শেষের ক্যামিওতে ৫ উইকেটে ১৯৩ রান জিম্বাবুয়ের স্কোরবোর্ডে।

জবাবে সৌম্য সরকারের ফিফটি (৬৮), অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ৩৪ ও শেষদিকে শামীম হোসেনের ঝোড়ো ৩১* রানে ৪ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখেই জয় পেল বাংলাদেশ। ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিশ্চিত মাহমদুউল্লাহ রিয়াদের দলের।

টি-টোয়েন্টিতে সবমিলিয়ে দ্বিতীয় ও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড। হারারেতে এটি সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড, আগের সর্বোচ্চ ১৮৩। ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া এই রান তাড়া করেছিল পাকিস্তান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে টাইগারদের উদ্বোধনী জুটি টিকেনি ২.২ ওভারের বেশি। নিজের প্রথম ওভার করতে এসে ব্লেসিং মুজারাবানি ফেরান নাইম শেখকে (৭ বলে ৩)। তবে প্রথম ওভার থেকে আক্রমণাত্মক ব্যাট করা আরেক ওপেনার সৌম্য ছিলেন সাবলীল।

সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ৩২ বলে জুটিতে যোগ করেন ৫০ রান। পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৫০ রান। তার আগেই অবশ্য ব্যক্তিগত ২৫ রানে জীবন পান সৌম্য। যদিও টেন্ডাই চাতারার বলে সিকান্দার রাজার জন্য বেশ কঠিন ক্যাচই ছিল।

৮ম ওভারে লুক জঙ্গের উপর চড়াও হন সাকিব। হাঁকান টান দুই ছক্কা, কিন্তু নিজেকে নিয়ন্ত্রণ না করে আরও বেশি আক্রমণাত্মক হতে গিয়ে ক্যাচে পরিণত হন বদলি ফিল্ডার মুসাকান্দার। ১৩ বলে ১ চার ২ ছক্কায় সাজান ২৫ রানের ইনিংসটি।

ব্যক্তিগত ৩৭ রানে আরেক দফা জীবন পান সৌম্য। ওয়েলিংটন মাসাকাদজার করা ১১তম ওভারে স্টাম্পিং মিস করে উইকেট রক্ষক রেজিস চাকাবভা। জীবন পেয়ে ঐ ওভারে টানা দুই চার মারেন। দলীয় ১০০ পেরোয় ঐ ওভারেই।

৫৪ বলে প্রয়োজন ৯২। এমন সমীকরণ মেলাতে গিয়ে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে দারুণ ভূমিকা সৌম্যের। ৪০ বলে ছুঁয়েছেন পঞ্চম টি-টোয়েন্টি ফিফটি।

দুজনের ৬৩ রানের জুটি ভাঙে লুক জঙ্গেকে সৌম্য উড়িয়ে মারতে গিয়ে মুসাকান্দার তালুবন্দী হলে। ৪৯ বলে ৯ চার ১ ছক্কায় সাজান ৬৮ রানের ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসটি। ক্রিজে এসে নিজের মোকাবেলা করা প্রথম বলেই ছক্কা আফিফ হোসেনের। তবে তাকে বোল্ড করে দ্রুতই ফেরান মাসাকাদজা (৫ বলে ১৪)।

এরপর শামীমকে নিয়ে রিয়াদের ৩৭ রানের জুটি। ১৯তম ওভারে রিয়াদকে উইকেটের পেছনে চাকাবভার অসাধারণ এক ক্যাচে পরিণত করেন মুজারাবানি। ২৮ বলে টাইগার কাপ্তানের ব্যাটে ৩৪ রান।

বাকি পথ পাড়ি দিয়ে অবশ্য কোনো সমস্যাই হয়নি শামীমের, নুরুল হাসান সোহানকে (১*) নিয়ে ৪ বল আগেই কাজ শেষ করেন। তরুণ শামীমের ব্যাটে ১৫ বলে ৬ চারে অপরাজিত ৩১ রান।

টস জিতে আগে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়েকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও ওয়েসলি মাধেভ্রে। দুজনে পাওয়ার প্লের ৬ ওভারে তুলে ফেলেন ৬৩ রান।

তাসকিন আহমেদের করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারে টানা ৫ চারে ২০ রান নেন আগের ম্যাচে ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস খেলা মাধেভ্রে। ২৬ বলেই ৫০ রান স্কোরবোর্ডে।

জুটি ভাঙে ৬ষ্ঠ ওভারে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে মারুমানি বোল্ড হলে। ২০ বলে দুইটি করে চার, ছক্কায় মারুমানির ব্যাটে ২৭ রান।

মারুমানির বিদায়ের পর মাধেভ্রেকে এক পাশে রেখে ঝড় তোলেন রেজিস চাকাবভা। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে আসে ৩১ বলে ৫৯ রান। যেখানে তার অবদান ২২ বলে ৪৮।

অবশ্য ফিরতে পারতেন ব্যক্তিগত ২৭ রানে, সৌম্যের বলে স্টাম্পিংয়ের আবেদন হলেও বেনেফিট অব ডাউটে বেঁচে যান। ১০ ওভারে স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ১০১ রান।

বেঁচে গিয়ে চাকাবভা যেন আরও ভয়ঙ্কর। নাসুমের করা ১১তম অভারে টানা তিন ছক্কা, যার দুইটিতে আবার বলই হারিয়ে যায়। তবে সৌম্যের করা ১২তম ওভারে থেমেছে ঝড়, যেখানে দারুণ ভূমিকা ফিল্ডার নাইম ও শামীম।

চাকাবভা মিস করলেও ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন মাধেভ্রে। ৩১ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। তবে এরপর টিকেননি বেশিক্ষণ, সাকিবের বলে রিভার্স খেলতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে শরিফুলকে ক্যাচ দেন ৩৬ বলে ৬ চারে ৫৪ রান করে।

শেষদিকে জিম্বাবুয়ে ইনিংসের রানের গতি ধরে রাখার কাজটা করেন আগের ম্যাচের মত এদিনও ক্যামিও ইনিংস খেলা রায়ান বার্ল। ১৫ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩১ রানে অপরাজিত বার্ল।

৫ উইকেটে ১৯৩ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। যা টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার সৌম্য, ৪ ওভারে ৫০ রানে ১ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে খরুচে সাইফউদ্দিন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

জিম্বাবুয়ে ১৯৩/৫ (২০), মারুমানি ২৭, মাধেভ্রে ৫৪, চাকাবভা ৪৮, সিকান্দার ০, মায়ের্স ২৩, বার্ল ৩১*, জঙ্গে ১*; সাইফউদ্দিন ৪-০-৫০-১, শরিফুল ৪-০-২৭-১, সাকিব ৪-০-২৪-১, সৌম্য ৩-০-১৯-২

বাংলাদেশ ১৯৪/৫ (১৯.২), নাইম ৩, সৌম্য ৬৮, সাকিব ২৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৪, আফিফ ১৪, শামীম ৩১*, নুরুল ১*; মুজারাবানি ৪-০-২৭-২, জঙ্গে ৩-০-৪২-২, মাসাকাদজা ৩.২-০-৩৭-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ম্যাচে জয়ী, ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জয়ী

ম্যাচ ও সিরিজসেরাঃ সৌম্য সরকার (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হারারেতে চাকাবভা-বার্লদের ব্যাটে ঝড়

Read Next

দলীয় প্রচেষ্টায় খুশি রিয়াদ তাকিয়ে সামনের সিরিজে

Total
7
Share