হারারেতে চাকাবভা-বার্লদের ব্যাটে ঝড়

হারারেতে চাকাবভা-বার্লদের ব্যাটে ঝড়

আগের দুই ম্যাচে দারুণ শুরু পেয়েও শেষ পর্যন্ত টেনে নিতে পারেনি জিম্বাবুয়ে। ফলে শুরু আর শেষের অমিলে বড় সংগ্রহ পাওয়া হয়নি স্বাগতিকদের। আজ (২৫ জুলাই) সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে অবশ্য দাপট দেখিয়েছে সিকান্দার রাজার দল। জিততে হলে বাংলাদেশকে করতে হবে ১৯৪ রান।

টাইগারদের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দেওয়ার পথে ফিফটি হাঁকালেন ওয়েসলি মাধেভ্রে। সিরিজে মাধেভ্রের টানা দুই ফিফটির সাথে এদিন ঝড়ো ইনিংস খেলেছেন রেজিস চাকাবভা (২২ বলে ৪৮)। সাথে তাদিওয়ানাশে মারুমানি, ডিওন মায়ের্সের ছোট ছোট ইনিংসের সাথে রায়ান বার্লের ১৫ বলে অপরাজিত ৩১ রানের ক্যামিও।

এদিন জিম্বাবুয়ে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নামলেও বাংলাদেশ একাদশে এক পরিবর্তন। শেখ মেহেদী হাসানের বদলে একাদশে আছেন নাসুম আহমেদ।

জিম্বাবুয়েকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি ও ওয়েসলি মাধেব্রে। পাওয়ার প্লের সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন দারুণভাবে। শরিফুল ইসলামের করা দ্বিতীয় ওভারে মারুমানি হাঁকিয়েছেন একটি করে চার, ছক্কা।

তাসকিন আহমেদের করা পরের ওভারে আরও আক্রমণাত্মক আগের ম্যাচে ফিফটি হাঁকানো মাধেব্রে। টানা ৫ চারে ওভার থেকে নেন ২০ রান। ইনিংসের পঞ্চম ও নিজের প্রথম ওভার করতে এসে সাকিব দিয়েছেন ৩ রান।

সাইফউদ্দিনের করা ৬ষ্ঠ ওভারে একটি করে চার, ছক্কা হাঁকান মারুমানি। তবে একই ওভারের শেষ বলে তাকে বোল্ড করেন সাইফউদ্দিন। ২৬ বলে জুটির ফিফটি, পাওয়ার প্লের ৬ ওভার স্থায়ী জুটিতে আসে ৬৩ রান। ২০ বলে দুইটি করে চার, ছক্কায় মারুমানির ব্যাটে ২৭ রান।

মারুমানির বিদায়ের পর মাধেব্রের সাথে যোগ দিয়ে রানের চাকা সচল রাখেন রেজিস চাকাবভা। নিজের মোকাবেলা করা ৬ষ্ঠ ও ৮ম বলে নাসুম আহমেদ ও সাকিবকে হাঁকিয়েছেন ছক্কা। ১০ম ওভারে সৌম্য সরকারকে রিভার্স সুইপে হাঁকিয়েছেন আরও এক ছক্কা।

অবশ্য ঐ ওভারেই ফিরতে পারতেন, তৃতীয় বলে স্টাম্পিংয়ের আবেদন হলেও বেনেফিট অব ডাউটে বেঁচে যান। ১০ ওভারে স্বাগতিকদের স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ১০১ রান।

বেঁচে গিয়ে চাকাবভা যেন আরও ভয়ঙ্কর। নাসুমের করা ১১তম অভারে টানা তিন ছক্কা, যার দুইটিতে আবার বলই হারিয়ে যায়। তবে সৌম্যের করা ১২তম ওভারে থেমেছে ঝড়, যেখানে দারুণ ভূমিকা ফিল্ডার নাইম শেখ ও শামীম হোসেনের।

স্লগ সুইপ খেলে বল উড়িয়ে পাঠান ডিপ স্কয়ার লেগে, সেখানে বাউন্ডারি দড়ির ঠিক আগে হাতে নিতে নিতেও শেষ মুহূর্তে নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে না পেরে পাশে থাকা আরেক ফিল্ডার শামীমের দিকে বল ছুঁড়ে দেন নাইম। যা সহজেই লুফে নেন শামীম, আর তাতেই ভাঙে ৫৯ রানের জুটি।

২২ বলে ৬ ছক্কায় চাকাবভার নামের পাশে ৪৮ রান। একই ওভারে সৌম্য খালি হাতেই ফেরান অধিনায়ক সিকান্দার রাজাকে।

চাকাবভা মিস করলেও ক্যারিয়ারের চতুর্থ ফিফটি তুলে নেন মাধেভ্রে। ৩১ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। তবে এরপর টিকেননি বেশিক্ষণ, সাকিবের বলে রিভার্স খেলতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যানে শরিফুলকে ক্যাচ দেন ৩৬ বলে ৬ চারে ৫৪ রান করে।

তবে রানের গতি কমেনি জিম্বাবুয়ে ইনিংসে, সাইফউদ্দিনের করা ১৮তম ওভারে রায়ান বার্ল ও ডিওন মায়ের্স মিলে ৩ চার ১ ছক্কায় নেন ১৯ রান। ১৯তম ওভারের প্রথম বলেই অবশ্য মায়ের্সকে (২১ বলে ২৩) ফেরান শরিফুল।

আগের ম্যাচের মত ১৫ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় ৩১ রানের অপরাজিত ক্যামিও ইনিংস রায়ান বার্লের। ৫ উইকেটে ১৯৩ রানে থামে জিম্বাবুয়ে। ২ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের সেরা বোলার সৌম্য, ৪ ওভারে ৫০ রানে ১ উইকেট নিয়ে সবচেয়ে খরুচে সাইফউদ্দিন।

আজকের ৫ উইকেটে ১৯৩ টি-টোয়েন্টিতে জিম্বাবুয়ের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। হারারে স্পোর্টস ক্লাবে এই রান তাড়া করে জিত্তে হলে বাংলাদেশকে গড়তে হবে রেকর্ড। এর আগে এই মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বোচ্চ রান তাড়া করেছে পাকিস্তান, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ার দেওয়া ১৮৩ তাড়া করেছিল তারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

জিম্বাবুয়ে ১৯৩/৫ (২০), মারুমানি ২৭, মাধেভ্রে ৫৪, চাকাবভা ৪৮, সিকান্দার ০, মায়ের্স ২৩, বার্ল ৩১*, জঙ্গে ১*; সাইফউদ্দিন ৪-০-৫০-১, শরিফুল ৪-০-২৭-১, সাকিব ৪-০-২৪-১, সৌম্য ৩-০-১৯-২।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অলিখিত ফাইনালে আগে বোলিংয়ে বাংলাদেশ

Read Next

সৌম্য’র ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসে জিতল বাংলাদেশ

Total
1
Share