কোহলি-বাবর বিতর্কে পানি ঢাললেন শোয়েব আখতার

কোহলি-বাবর বিতর্কে পানি ঢাললেন শোয়েব আখতার

ভিরাট কোহলি নাকি বাবর আজম; কে সেরা, এমন বিতর্কে এবার পানি ঢেলে দিলেন পাকিস্তানের সাবেক স্পিড স্টার শোয়েব আখতার। তার মতে কোহলির সাথে বাবরের তুলনাটা একদমই ভুল। কোহলির অনেক সেঞ্চুরি রয়েছে। শোয়েবের মতে, যদি কোহলিকে পরাস্ত করতে হয়, তবে রান চেজে কোহলির মত বাবরকেও অনেক সেঞ্চুরি করে দলকে জয়ী করতে হবে।

‘দেখুন, ওয়ানডেতে ভিরাটের ৪৫টি সেঞ্চুরি রয়েছে। আমার মনে হয়, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তার ৭০-৮০টি সেঞ্চুরি রয়েছে। আগামী ৫ বছরে সে আরও ৩০টি সেঞ্চুরি করবে। আমি চাই তার অন্তত ১২০টি সেঞ্চুরি থাকুক। যার অন্তত ১১০টি সেঞ্চুরি থাকতে পারে এবং ক্যারিয়ার জুড়ে অসংখ্য রান যে করেছে, তার সাথে অন্যের কীভাবে তুলনা করবেন? তাই এ বিতর্ক একদমই ভুল,’ স্পোর্টস তাকের একটি এক্সক্লুসিভ চ্যাটে এসব বলেন শোয়েব।

‘বর্তমানে কোহলির সাথে পাল্লা দিয়ে চলছেন বাবর। এমন সুস্থ প্রতিযোগিতা অবশ্যই ভালো। যদি ভিরাটকে পরাজিত করতে হয়, তবে কোন সন্দেহ ছাড়াই দলের রান চেজে বাবরকে যেতে হবে, কোহলির মত ঐ অবস্থায় অনেকগুলো সেঞ্চুরি করতে হবে। নিঃসন্দেহে পাকিস্তানের সর্বকালের সেরা ব্যাটসম্যান বাবর আজম হতে পারে। এর কোন বিকল্প নেই, তবে সময়ই বলে দেবে।’

‘আগামী ১০ বছর পরে আমরা এ দুইজনকে বিবেচনায় আনবো। স্কিল ম্যানেজমেন্ট, রান চেজ ম্যানেজমেন্ট, ম্যান ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার আছে এখানে। একজন অধিনায়ক ও একজন খেলোয়াড় হিসেবে কীভাবে বিকশিত হবে, চাপে থাকা অবস্থায় কীভাবে উপস্থাপন করে, এ সমস্ত বিষয়াদি দেখতে হবে। আমি নিশ্চিত, দুইজনই মহান ক্রিকেটারদের কাতারে নাম লেখাবে। সাম্প্রতিককালে ভিরাট অবশ্য ফর্মে নেই। তবে আমি জানি, সে শক্তিশালী হয়ে ফিরবে, কেননা এখন তাকে ভীষণ প্রয়োজন।’

এছাড়াও শোয়েব আরও বলেন যে, কোহলি যদি ১৯৯২-১৯৯৯ এর সময় খেলতো, তবে পাকিস্তানের একাদশের সব খেলোয়াড়ের কাছ থেকে স্লেজিংয়ের শিকার হতো। ‘ যদি শচীন টেন্ডুলকার ও সাঈদ আনোয়ার বর্তমান সময়ের পাওয়ারপ্লে এবং ফিল্ডিং কড়াকড়ির নিয়মে ব্যাটিং করতো, তবে সৃষ্টিকর্তার কসম, ওরা দুইজন প্রতিপক্ষ বোলারদের ছাতু বানিয়ে দিতো।’

‘কোহলি যদি ১৯৯২-১৯৯৯ এর সময়ে ব্যাটিং করতো, যখন প্রতি দলেই চারজন করে গুরুত্বপূর্ণ ফাস্ট বোলার ছিল। তাদের সাথে টেক্কা দিয়ে হয় ওর সেরাটা খেলতে হতো, অথবা বাজেভাবে আউট হতে হতো। তবে তখনকার পাকিস্তান কোহলিকে বিন্দুমাত্র ছাড় দিতো না। ১১ জন খেলোয়াড়ই স্লেজিং করে কোহলির মাথা বিগড়ে দিতো। আমি ভারতের সাথে ১৯৯৯ সালে কোলকাতা টেস্ট এবং ওয়ানডে ম্যাচগুলো খেলেছিলাম। তখনকার সময় আমাদের অনেক বাদানুবাদ হতো। এমনকি ম্যাচ রেফারির অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল আমাদের হস্তক্ষেপ করতে।’

‘তখন যদি কোহলি খেলতো, তবে কি হতো? সে হয়তো বড়জোর ৩০টি সেঞ্চুরি করতো। ঐ ৩০টি সেঞ্চুরিই পরবর্তী জেনারেশনের আদর্শ উদাহরণ হতো। শচীন টেন্ডুলকার, সাঈদ আনোয়ার, ইনজামাম-উল-হক, মার্টিন ক্রো, স্যার ভিভিয়ান রিচার্ডস- এরা আমার প্রিয় ব্যাটসম্যান ছিল। এরা তখন প্রতিপক্ষের বোলারদের ঘুম হারাম করে দিতো।’

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

পিএসএলের ৭ম আসরের দিনক্ষণ চূড়ান্ত

Read Next

শামীমকে নিয়ে জাতীয় দলে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে চান শরিফুল

Total
1
Share