ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরে বসল বাংলাদেশ

ব্যাটিং ব্যর্থতায় হেরে বসল বাংলাদেশ

লক্ষ্য ১৬৭, আধুনিক ক্রিকেট কিংবা হারারে স্পোর্টস ক্লাবের উইকেট বিবেচনায় খুব বড় কোন পথ নয়। তবে এই রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের যে তাড়াহুড়ো, অসময়ে অপ্রয়োজনীয় শট খেলার প্রবণতা দেখা গেল তা অবাক করার মত। আউট হওয়া বাংলাদেশের ১০ ব্যাটসম্যানের ৯ জনই ফিরেছেন এলোমেলো শটে ক্যাচ দিয়ে, ম্যাচ হেরেছে ২৩ রানে।

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেটের বড় জয়, ফলে আজ জিতলেই নিশ্চিত হত সিরিজও। তবে টাইগারদের সে অপেক্ষাটা অন্তত পরের ম্যাচ পর্যন্ত টেনে নিল স্বাগতিক জিম্বাবুয়ে। সফরকারী বাংলাদেশকে টেস্ট, ওয়ানডেতে না পারলেও টি-টোয়েন্টিতে এসে পরাজয়ের স্বাদ দিল সিকান্দার রাজার দল।

টস জিতে আগে ব্যাট করে ৬ উইকেটে ১৬৬ রানের সংগ্রহ জিম্বাবুয়ের। তরুণ ওয়েসলি মাধেব্রের ৭৩ রানের ইনিংসের সাথে রায়ান বার্লের অপরাজিত ১৯ বলে ৩৪ রানের ক্যামিও।

জবাবে তাড়াহুড়ো করতে গিয়ে ক্রিজে থিতুই হতে পারেনি বাংলাদেশের কোনো ব্যাটসম্যান। অভিষিক্ত শামীম হোসেন অবশ্য অভিষেক ম্যাচেই দেখিয়েছেন দারুণ ঝলক। তবে তার ১৩ বলে ২৯ রানের ইনিংসের আগে পরে কেউই ম্যাচ বের করে আনার মত ব্যাটিং করতে পারেনি। ১৪৩ রানে অল আউট হতে হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দলকে।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে দুই দলই একাদশে দুইটি করে পরিবর্তন নিয়ে নামে। চোটের কারণে বাংলাদেশ একাদশের বাইরে লিটন দাস, বিশ্রাম দেওয়া হয় মুস্তাফিজুর রহমানকে। টি-টোয়েন্টি অভিষেক হয় শামীম হোসেনের, একাদশে ফেরেন তাসকিন আহমেদ।

আগের ম্যাচে শতরানের রেকর্ড উদ্বোধনী জুটিতে দল জেতানো সৌম্য সরকার ও নাইম শেখ আজ খুব বেশি কিছু করতে পারেনি। ব্লেসিং মুজারাবানির স্টাম্পের বাইরের বল টেনে এনে বোল্ড হন নাইম (৫), ২ বলের ব্যবধানে সিকান্দার রাজার ক্যাচে পরিণত করান সৌম্যকে। ১৭ রানেই সাজঘরে টাইগারদের দুই ওপেনার।

এরপর শেখ মেহেদী হাসান ও সাকিব আল হাসানের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেটে ৪২ রান স্কোরবোর্ডে। তবে ওয়েলিংটন মাসাকাদজার ৪ ওভারের টানা স্পেলেই এলোমেলো টাইগারদের মিডল অর্ডার। যদিও ব্যাটসম্যানদের অতি মাত্রার তাড়াহুড়োই উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার পেছনে মূল কারণ।

ইনিংসের ৭ম ওভারে তার শিকার সাকিব, সিকান্দার রাজাকে ক্যাচ দেন ১০ বলে ১২ রান করে। ৯ম ওভারে তুলে নেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও শেখ মেহেদীকে। দুজনেই পরিস্থিতি সামাল না দিয়ে বড় শটে মনযোগ দেন। লং অনে ক্যাচ দেওয়া রিয়াদ ৪ ও লং অফে ক্যাচ দেওয়া মেহেদী ১৫ রানে থামেন। ১২ তম ওভারে টেন্ডাই চাতারা ফেরান নুরুল হাসান সোহানকে (৯)। ৬ উইকেটে ৬৮ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

ততক্ষণে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়ে যায় প্রয়োজনীয় রানের সমীকরণও। অভিষিক্ত শামীম হোসেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের মোকাবেলা করা প্রথম বলেই হাঁকান চার। দারুণ এক সুইপ শটে হাঁকান ছক্কা।

আফিফ হোসেনকে নিয়ে ৭ম উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৪১ রান। যেখানে তার অবদান ১৩ বলে ২৯! ১৫ তম ওভারে ওয়েসলি মাধেব্রেকে এক ছক্কা, দুই চার হাঁকান। শেষ ৫ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ৫৮, শামীম যেভাবে খেলছিলেন তাতে কঠিন কিছু মনে হচ্ছিল না।

কিন্তু ১৬তম ওভারেই লুক জঙ্গেকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে কাউ কর্ণার অঞ্চলে ক্যাচ দেন মাধেব্রের হাতে। তাকে দলে নেওয়ার যে লক্ষ্য সেটা অবশ্য অভিষেক ম্যাচে ভালোই প্রমাণ করেছেন। ৩ চার ২ ছক্কায় ২২৩.০৮ স্ট্রাইক রেটে খেলা ইনিংসে ফুটে উঠেছিল ভয়ডরহীন ক্রিকেটের ছাপ।

চাতারা দ্বিতীয় শিকার হয়ে আফিফ ফেরেন ২৫ বলে ২৪ রান করে। শেষ ৩ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৪১। সেই সমীকরণ আর মেলানো সম্ভব হয়নি মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (১৪ বলে ১৯), তাসকিন আহমেদদের(৩)। ইনিংসের ১ বল আগেই অল আউট হতে হয় ১৪৩ রানে। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি করে উইকেট লুক জঙ্গে ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজার।

এর আগে জিম্বাবুয়ের উদ্বোধনী জুটি টিকেছে মাত্র ১.৫ ওভার, রান এসেছে ১৫। শেখ মেহেদী হাসানের করা ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফিরতে হয় তাদিওয়ানাশে মারুমানিকে (৩)।

এরপর রেজিস চাকাবভা ও ওয়েসলি মাধেব্রের চেষ্টা। চতুর্থ ওভারে আক্রমণে আসা শরিফুলকে চার, ছক্কা দিয়ে অভ্যর্থনা জানায় দুজনে। তবে ৬ষ্ঠ ওভারে বল হাতে নিয়ে সাকিব ফেরান চাকাবভাকে (১৪)। ২ উইকেট হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে ৪৮ রান তোলে স্বাগতিকরা।

চাকাবভা অবশ্য ফিরতে পারতেন খালি হাতেই, তাসকিনের বলে পুল করতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন। দৌড়ে আসা শরিফুল ও শেখ মেহেদী কেউই কল করেনি, চেষ্টা করেনি ধরারও।

পাওয়ার প্লেতে ২ উইকেট হারালেও মাধেব্রের ব্যাটে পথেই ছিল জিম্বাবুয়ে। ডিওন মায়ের্সকে নিয়ে ৫৭ রানের জুটি। তাসকিনের করা ১১তম ওভারে অবশ্য জুটি ভাঙার সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ।

নাইম শেখ সরাসরি থ্রোতে স্টাম্প ভাঙতে পারেননি। ১ বলের ব্যবধানে আরও একবার দোটানায় ভুগে রান আউট থেকে বেঁচে যায় মাধেব্রে।

২১ বলে ২৬ রান করে শরিফুলের বলে শেখ মেহেদীকে পয়েন্টে ক্যাচ দেন মায়ের্স, তাতে ভাঙে জুটি। এর আগেই অবশ্য ৪৫ বলে ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটির দেখা পান মাধেব্রে।

সাকিবের দারুণ কৌশলী চেষ্টায় সিকান্দার রাজা রান আউটে ফিরেছেন ৪ রান করে। শরিফুলের করা ১৮তম ওভারে ফিরেছেন মাধেব্রেও, ৫৭ বলে ৫ চার ৩ ছক্কায় ক্যারিয়ার সেরা ৭৩ রানের ইনিংস খেলে ক্যাচ দেন আফিফকে।

শেষ ২ ওভারে ২৬ রান নিয়ে জিম্বাবুয়ে ৬ উইকেটে ১৬৬ রানের বড় সংগ্রহ পেল। যেখানে রায়ান বার্ল ১৯ বলে অপরাজিত ৩৪ রানে রাখেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

ইনিংসের শেষ বলে লুইক জঙ্গেকে (২) সাকিবের ক্যাচে পরিণত করে টাইগারদের সেরা বোলার শরিফুল। ৩৩ রানে তার শিকার ৩ উইকেট।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

জিম্বাবুয়ে ১৬৬/৬ (২০), মারুমানি ৩, মাধেভ্রে ৭৩, চাকাবভা ১৪, মায়ের্স ২৬, রাজা ৪, বার্ল ৩৪*, জঙ্গে ২; মেহেদী ১-০-১১-১, শরিফুল ৪-০-৩৩-৩, সাকিব ৪-০-৩২-১

বাংলাদেশ ১৪৩/১০ (১৯.৫), নাইম ৫, সৌম্য ৮, মেহেদী ১৫, সাকিব ১২, মাহমুদউল্লাহ ৪, আফিফ ২৪, নুরুল ৯, শামীম ২৯, সাইফউদিন ১৯, তাসকিন ৫, শরিফুল ০*; চাতারা ৪-০-২৪-২, মুজারাবানি ৪-০-২১-২, জঙ্গে ৩.৫-০-৩১-৩, মাসাকাদজা ৪-০-২০-৩

ফলাফলঃ জিম্বাবুয়ে ২৩ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ ওয়েসলি মাধেভ্রে (জিম্বাবুয়ে)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

বাংলাদেশকে বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল জিম্বাবুয়ে

Read Next

আরব আমিরাতে ভারত-পাকিস্তান ফাইনাল দেখছেন শোয়েব

Total
23
Share