শুরুর জড়তা কাটাতে সৌম্য কথা বলেছেন নিজের সাথে

জোড়া ফিফটিতে বাংলাদেশের জয়

জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে হেসে খেলেই জিতেছে বাংলাদেশ। ব্যাট হাতে সৌম্য সরকার ও নাইম শেখের জোড়া ফিফটি ও উদ্বোধনী জুটিতে রেকর্ড শতরানে ৮ উইকেটের জয়। অথচ সৌম্য সরকারের নামার কথা ছিল তিন নম্বরে, লিটন দাসের চোটে ওপেন করার সিদ্ধান্ত জানলেন ফিল্ডিং শেষে। শুরুর জড়তা কাটাতে কথা বলেছেন নিজের সাথে, লক্ষ্য ঠিক করেছেন একটা বাউন্ডারির।

তামিম ইকবাল হাঁটুর চোটে লম্বা সময়ের জন্য বিশ্রামে যাওয়ায় লিটন দাস ও নাইম শেখ ইনিংস গোড়া পত্তন করবেন এমনটা নিশ্চিত ছিল। সেভাবেই একাদশ সাজানো হয়েছিল। কিন্তু জিম্বাবুয়ে ইনিংসের ৭ম ওভারে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন লিটন। আর ফিল্ডিং করতে নামেননি, ব্যাট করার মত অবস্থায়ও ছিলে না।

যে কারণে নাইমের সাথে ওপেন করতে হয় তিন নম্বরের সৌম্যকে। আর তাতেই ১০২ রানের জুটিতে গড়েছেন রেকর্ড, বাংলাদেশের পক্ষে উদ্বোধনী জুটিতে এটিই প্রথম শতরান।

লিটনের পরিবর্তে ওপেন করা প্রসঙ্গে ম্যাচ শেষ সৌম্য বলেন, ‘প্রথমে তো আমার ৩ নম্বরে ব্যাট করার কথা ছিল। মাঠ থেকে যখন বাইরে আসলাম তখনই কোচ বলল যে আমি ওপেন করবো। তখন নিজেকে ঐ ভাবে প্রস্তুত করেছিলাম মানসিকভাবে যে নতুন পার্টনার, উইকেটে গিয়ে কথা বলে সময় নিয়ে ব্যাট করার।’

শুরুতে অবশ্য কিছুটা জড়তা কাজ করেছিল নাইম-সৌম্যের। ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান, ছিল না কোনো বাউন্ডারি। তবে পরের ৩ ওভারে আসে ৩৪ রান, চতুর্থ ওভারেই ৩ চার হাঁকিয়ে নিজেদের আত্মবিশ্বাস বাড়ান নাইম।

সৌম্য বলছেন এমন পরিস্থিতিতে একটা নির্দিষ্ট ওভারে পুশিয়ে নেওয়ার ভাবনা ছিল দুজনের।

এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান বলেন, ‘প্রথম দিকে যখন রান আসছিল না, নাইমের সাথে কথা বলছিলাম যে একটা ওভার ১০-১২ পেলে আমরা কাভার করে ফেলবো। নাইম একটা ওভারে ৩ টা চার মারে এর পর ফ্লো আমাদের কাছে আসে। তখন কন্টিনিউ করেছিলাম।’

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বশেষ জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন সৌম্য। ৪ মাস পর আবারও খেলতে নেমে বল হাতে ১ উইকেটের সাথে ব্যাট হাতে ৫০ রানে জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরষ্কার।

প্রথম ১১ বলে ৪ রান, এরপর ১২তম বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ছন্দে ফিরলেন। শেষ পর্যন্ত ৪৫ বলে ফিফটি ছুঁয়ে রান আউট হলেন, তার আগে হাঁকালেন ৬ চার, ২ ছক্কা।

নিজের শুরুর জড়তা কীভাবে কাটালেন জানাতে গয়ে সৌম্য বলেন, ‘৪ মাস পর খেলতে নেমেছি, আজকে প্রথম দিকে একটু অস্বস্তি লাগছিল। পরে উইকেটে গিয়ে দেখলাম শুরুর দিকে যেসব বল মারছিলাম তার বেশিরভাগই হাতে চলে যাচ্ছিল। এরপর নিজের সাথে নিজে কথা বলেছি যে আমার একটু সময় নেওয়া উচিৎ।’

‘কয়েকটা বল খেলে চার বা ছক্কা মারলে নিজের মত যাওয়া যাবে। তো ওটার জন্যই অপেক্ষা করেছি, যখন আমার পছন্দের জায়গায় একটা বল পেলাম, বাউন্ডারি মারলাম তখন আত্মবিশ্বাস পেয়েছি।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

শততম ম্যাচ জয়ে রাঙাল বাংলাদেশ

Read Next

বাবা হারালেন বিপ্লব, ফিরছেন দেশে

Total
1
Share