শততম ম্যাচ জয়ে রাঙাল বাংলাদেশ

শততম ম্যাচ জয়ে রাঙাল বাংলাদেশ

উপলক্ষ্যটা ছিল দারুণ, নিজেদের শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ! হারারে স্পোর্টস ক্লাবে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি জয় দিয়ে রাঙিয়েছে বাংলাদেশ। ফলে ৩ ফরম্যাটেই নিজেদের শততম ম্যাচে জয় পেল টাইগাররা।

সফরে একমাত্র টেস্ট ও ৩ ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের সবকটি ম্যাচেই জিতেছে বাংলাদেশ। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজও শুরু হল জয় দিয়ে। যে পথে সৌম্য সরকার ও নাইম শেখ গড়েছেন শতরানের রেকর্ড উদ্বোধনী জুটি।

আগে ব্যাট করে বড় সংগ্রহের আভাস দিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। বিশেষ করে রেজিস চাকাবভা যেভাবে ঝড়ো ব্যাটিং করছিলেন তাতে কপালে চিন্তার ভাঁজই পড়েছিল মাহমুদউল্লাহ রিয়াদদের। তবে ২২ বলে তার ৪৩ রানের সাথে ডিওন মায়ের্সের ৩৫ রানের পর অন্য কেউ দাঁড়াতে না পারায় ১৫২ রানেই অল আউট হতে হয়।

জবাবে লিটন দাস চোট পেয়ে মাঠ ছাড়ায় ওপেন করতে নেমেই বাজিমাত সৌম্য-নাইমের। উদ্বোধনী জুটিতে ১০২ রান তুলে মাঝারি মানের লক্ষ্যটাকে করে দেন মামুলি। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা, ৭ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয় বাংলাদেশের।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে কোনো তাড়াহুড়ো দেখায়নি বাংলাদেশের দুই ওপেনার সৌম্য সরকার ও নাইম শেখ। প্রথম ৩ ওভারে ছিল না কোনো বাউন্ডারি, রান সাকূল্যে ৯। কিন্তু পাওয়ার প্লের পরে ৩ ওভারেই চিত্র বদলে যায়, ৩ ওভারে রান উঠে ৩৪।

রিচার্ড এনগারাভার করা চতুর্থ ওভারেই নাইম হাঁকান ৩ চার, ৬ ওভারের পাওয়ার প্লেতে উঠে ৪৩ রান। এরপর সৌম্য-নাইমের জুটি পেরিয়েছে অর্ধশতক, শতকও। ১২.৪ ওভারেই দলীয় সংগ্রহ পেরোয় ১০০, প্রথম ৫০ এসেছে ৪৪ বলে, ৩৪ বলে পরের ৫০।

১৪তম ওভারে দুই রান নিতে গিয়ে দুই রকম অভিজ্ঞতা সৌম্যের। প্রথম রান নিয়ে ৪৫ বলে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের চতুর্থ টি-টোয়েন্টি ফিফটি। কিন্তু দ্বিতীয় রান নিতে গিয়ে কাটা পড়েন রান আউটে। ৪৫ বলে ৪ চার, ২ ছক্কায় ৫০ রানে সৌম্য থামলে নাইমের সাথে ভাঙে ১০২ রানের জুটি।

এটিই টি-টোয়েন্টিতে ওপেনিংয়ে বাংলাদেশের প্রথম ও যেকোনো উইকেট বিবেচনায় ৬ষ্ঠ শতরানের জুটি। এর আগে ওপেনিংয়ে সর্বোচ্চ ছিল তামিম ইকবাল ও লিটন দাসের ৯২ রান।

আজ ৫ম বাংলাদেশি ব্যাটসম্যান হিসাবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করে সৌম্য। 

 

View this post on Instagram

 

A post shared by cricket97 (@cricket97bd)


সৌম্যের বিদায়ের পর নাইমও পেয়েছেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ফিফটির দেখা। তবে তিন নম্বরে নামা অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ১২ বলে ১৫ রান করে রান আউট হলে ভাঙে ২৩ রানের জুটি।

এরপর সাড়ে চার বছর পর টি-টোয়েন্টি খেলতে নামা নুরুল হাসান সোহানকে নিয়ে বাকি কাজ অনায়েসেই সারেন নাইম। শেষ পর্যন্ত নাইম ৫১ বলে ৭ চারে ৬৬ ও সোহান ৮ বলে ১৬ রানে অপরাজিত ছিল।

৭ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই নিজেদের শততম টি-টোয়েন্টি ম্যাচে জয় পেল বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ২০০৬ সালে নিজেদের প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছিল টাইগাররা, ঐ ম্যাচেও জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ।

জিম্বাবুয়ে ইনিংসের দ্বিতীয় ওভাররেই ব্রেক থ্রু এনে দেন মুস্তাফিজুর রহমান। ওপেনার তাদিওয়ানাশেকে (৭ বলে ৭) সৌম্য সরকারের ক্যাচে পরিণত করেন।

দলীয় ১০ রানে প্রথম উইকেট হারালেও ওপেনার ওয়েস্লি মাধেব্রেকে নিয়ে তিন নম্বরে নামা রেজিস চাকাবভা মোটামুটি একট ঝড় বইয়ে দেন। ৩৭ বলের জুটিতে যোগ করেন ৬৪ রান, যার ৪৩ এসেছে তার ব্যাট থেকে।

আউট হওয়ার আগে জুটিতে চাকাবভা নিয়মিত হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি। ৮ম ওভারে স্পিনার শেখ মেহেদী হাসানকে হাঁকান ১ চার ও টানা ২ ছক্কা। তবে সাকিবের করা পরের ওভারেই ২৩ রান করা মাধেব্রে ফিরতি ক্যাচ দিলে ভাঙে জুটি।

নতুন ব্যাটসম্যান ডিওন মায়ের্স ক্রিজে এসেও সাবলীল ব্যাট করেন। ১০ ওভারেই জিম্বাবুয়ের স্কোরবোর্ডে ৯১ রান। শরিফুল ইসলামের করা ১১তম ওভারে দুই উইকেট হারিয়ে স্বাগতিকদের বিপর্যয়ের শুরু।

ওভারের প্রথম বলে উইকেট রক্ষক নুরুল হাসান সোহানের দারুণ এক থ্রোতে ফিরতে হয় ভয়ঙ্কর রূপ নেওয়ার অপেক্ষায় থাকা চাকাবভাকে। তার আগে ২২ বলে ৫ চার, ২ ছক্কায় ৪৩ রান করেন। সিকান্দার রাজা টিকেছেন ৩ বল, কোনো রান না করেই ক্যাচ দেন সোহানকে।

রান তোলার গতিতে পড়ে ভাটা, এক পর্যায়ে ১১৯ রানেই ৬ উইকেট নেই জিম্বাবুয়ের। ২২ বলে ৩৫ ডিওন মায়ের্সের ব্যাটে।

এরপর নিয়মিত বিরতিতে হারিয়েছে উইকেট। ১৯ ওভারে অলআউট হয়ে থেমেছে ১৫২ রানে। ৬১ রানে পড়েছে শেষ ৮ উইকেট।

শেষদিকে লুক জঙ্গের ১৬ বলে ১৮ ছাড়া বলার মত কোনো স্কোর নেই কারও।

বাংলাদেশের পক্ষে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট মুস্তাফিজের, ২ টি করে নেন সাইফউদ্দিন, শরিফুল, একটি করে শিকার সাকিব ও সৌম্যের।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

জিম্বাবুয়ে ১৫২/১০ (১৯), মাধেভ্রে ২৩, মারুমানি ৭, চাকাবভা ৪৩, মায়ের্স ৩৫, রাজা ০, মুসাকান্দা ৬, বার্ল ৪, জঙ্গে ১৮, মাসাকাদজা ৪*, এনগারাভা ০, মুজারাবানি ৮; সাইফউদ্দিন ৪-০-২৩-২, মুস্তাফিজ ৪-০-৩১-৩, সাকিব ৪-০-২৮-১, শরিফুল ৩-০-১৭-২, সৌম্য ২-০-১৮-১

বাংলাদেশ ১৫৬/২ (১৮.৫), নাইম ৬৬*, সৌম্য ৫০, মাহমুদউল্লাহ ১৫, নুরুল ১৬*

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ৮ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ সৌম্য সরকার (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মুশফিক ইস্যুতে ছাড় দিল না ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া

Read Next

শুরুর জড়তা কাটাতে সৌম্য কথা বলেছেন নিজের সাথে

Total
2
Share