তিন ফিফটিতে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ২৯৮

তিন ফিফটিতে জিম্বাবুয়ের সংগ্রহ ২৯৮

প্রথম দুই ম্যাচে ব্যর্থ বাংলাদেশের টপ ও মিডল অর্ডার। তবে প্রতিপক্ষ জিম্বাবুয়ে আরও বেশি ব্যর্থ হওয়াতে কোনো বিপদের মুখে পড়তে হয়নি বাংলাদেশকে। ১ ম্যাচ হাতে রেখেই সিরিজ নিশ্চিত করেছিল বাংলাদেশ, অধিনায়ক তামিম ইকবাল অবশ্য চিন্তিত দলের ব্যাটসম্যানদের নিয়ে। আজ তৃতীয় ওয়ানডেতে সে চিন্তা যেন আরও বাড়লো, আগে ব্যাট করে ২৯৯ রানের বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিল জিম্বাবুয়ে।

শেষদিকে ব্যাটিং বিপর্যয় না হলে লক্ষ্যটা হতে পারতো আরও বড়। এই লক্ষ্য তাড়াতেও খারাপ সময় কাটানো বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের দিতে হবে কঠিন পরীক্ষাই।

টস হেরে ব্যাট করতে নামা জিম্বাবুয়েকে বড় পুঁজির ভীত গড়ে দেন ওপেনার রেজিস চাকাবভা। তার ক্যারিয়ার সেরা ৮৪ রানের ইনিংসের সাথে সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্লের শতরানের জুটি। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা। দাপুটে ব্যাটিং করতে থাকা জিম্বাবুয়েকে ৩০০ এর নিচে আটকানোর কৃতিত্বটা টাইগারদের খরুচে বোলার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের। নিজের শেষ ওভারে তুলে নেন ৩ উইকেট।

৮.৪ ওভার স্থায়ী জুটিতে রেজিস চাকাবভা ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি তুলেছেন ৩৬ রান। নিজের প্রথম ওভার করতে এসেই মারুমানিকে (১৯ বলে ৮ রান) এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে ফেরান সাকিব আল হাসান।

মারুমানির বিদায়ের পর অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরকে নিয়ে ৪২ রানের জুটি চাকাবভার। ১৮তম ওভারে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ভাঙেন জুটি। ৩৯ বলে ২৮ রান করা টেইলর ফিরেছেন সফট ডিসমিসালে। ইনসাইড আউট শটে উড়িয়ে মারতে চাইলেও কাভারে ক্যাচ দিয়েছেন তামিমকে।

ডিওন মায়ের্সকে নিয়ে চাকাবভা দলীয় সংগ্রহ ১০০ রানে পৌঁছে দেন ২২ ওভারেই। ২৪তম ওভারে ছুঁয়েছেন ব্যক্তিগত ফিফটিও, ৬২ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের তৃতীয় অর্ধ শতক। মায়ের্সের সাথে জুটি টেনে নেন ৭১ রান পর্যন্ত।

এ জুটিও ভাঙেন রিয়াদ, নিজের ৮ম ওভার করতে এসে সরাসরি বোল্ড করেন মায়ের্সকে। ৩৮ বলে ৪ চারে ৩৪ রানে থামে এই ডানহাতি।

পরের ওভারে মুস্তাফিজুর রহমান ফেরান নতুন ব্যাটসম্যান ওয়েস্লি মাধেব্রেকে। প্রথম দুই ম্যাচে চোটে পড়ে একাদশে না থাকা এই বাঁহাতি পেসার মাধেব্রেকে (৩) বোকা বানান কাটারে। ঠিকঠাক পড়তে না পেরে শর্ট মিড উইকেটে ক্যাচ দেন সাকিবকে।

দারুণ খেলতে থাকা চাকাবভা ছুটছিলেন সেঞ্চুরির দিকেই। তবে তাসকিন আহমেদের অসাধারণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হয়েছেন ক্যারয়ার সেরা ইনিংস খেলে। ৯১ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় সাজান ৮৪ রানের ইনিংসটি। ২ উইকেতে ১৪৯ থেকে ৫ উইকেটে ১৭২ রানে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে।

সেখান থেকে রায়ান বার্লকে নিয়ে সিকান্দার রাজার ৮০ বলে ১১২ রানের জুটি। দুজনে জুটিতে রান তুলেছেন সাবলীলভাবে। তাসকিনের করা ৪৫তম ওভারে ক্যারিয়ারের ১৭তম ও বাংলাদেশের বিপক্ষে চতুর্থ ফিফটির দেখা রাজার।

সময়ের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তোলার গতি বাড়ান বার্লও। ৪৬ তম ওভারে মুস্তাফিজকে হাঁকান একটি করে চার, ছক্কা। বড় ঐ ছক্কার পর তো বলই হারিয়ে যাওয়ার উপক্রম। পরের ওভারে সাইফউদ্দিনকেও হাঁকান টানা দুই ছক্কা। একই ওভারে ডিপ স্কয়ার লেগে তার ক্যাচ ছাড়েন সাকিব, হয় চার। আর তাতেই ৩৮ বলে রায়ান বার্ল পৌঁছে যান ক্যারিয়ারের তৃতীয় ফিফটিতে।

মুস্তাফিজের করা ৪৮তম ওভারের তৃতীয় বলে রাজা ক্যাচ দেন মোসাদ্দেক হোসেনকে। আর তাতেই ভাঙে শতরানের জুটিটি, ৫৪ বলে ৭ চার ১ ছক্কায় ৫৭ রান তার ব্যাটে। বেশিক্ষণ টিকেননি বার্লও, ৪৩ বলে সমান ৪ টি করে চার, ছক্কায় ৫৯ রান করে সাইফউদ্দিনের বলে ক্যাচ দেন লিটন দাসকে।

ঐ ওভারে সাইফউদ্দিন তুলে নেন আরও দুই উইকেট। প্রথম ৭ ওভারে ৭৯ রান খরচায় উইকেট শূন্য সাইফউদ্দিনের ইনিংস শেষে বোলিং ফিগার ৮-০-৮৭-৩!

রাজা-বার্লের বিদায়ের পর বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা জাগানো জিম্বাবুয়ে অলআউট হয়েছে ২৯৮ রানে। ১৪ রানে শেষ ৫ উইকেট হারিয়েছে স্বাগতিকরা। শেষ ৯.৩ ওভারে তাদের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় ৯৪ রান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

জিম্বাবুয়ে ২৯৮/১০ (৪৯.৩), চাকাবভা ৮৪, মারুমানি ৮, টেইলর ২৮, মায়ের্স ৩৪, মাধেভ্রে ৩, রাজা ৫৭, বার্ল ৫৯, জঙ্গে ৪*, টিরিপানো ০, চাতারা ১, মুজারাবানি ০; তাসকিন ১০-১-৪৮-১, সাইফউদ্দিন ৮-০-৮৭-৩, মুস্তাফিজ ৯.৩-০-৫৭-৩, মাহমুদউল্লাহ ১০-০-৪৫-২, সাকিব ১০-০-৪৬-১।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

অস্ট্রেলিয়ার ২৬ তম ওয়ানডে অধিনায়ক অ্যালেক্স ক্যারি

Read Next

শেষ ম্যাচ খেলার জন্য ফিট হাসান আলি

Total
2
Share