জিম্বাবুয়েকে অল্পতে আঁটকে দিল বাংলাদেশ

জিম্বাবুয়েকে অল্পটে আঁটকে দিল বাংলাদেশ

আগের ম্যাচে লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১৫৫ রানের বড় হার সঙ্গী হয়েছিল জিম্বাবুয়ের। বাংলাদেশের বিপক্ষে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে আজ টস জিতে ব্যাটিংই নেন স্বাগতিক অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। তবে ক্রিজে টিকেও জুটি ও ব্যক্তিগত ইনিংস লম্বা করতে না পারায় টাইগারদের জন্য বড় লক্ষ্য ছুঁড়ে দিতে পারেনি।

ওয়েসলি মাধেব্রের ফিফটির (৫৬) সাথে দলপতি টেইলরের ৪৬, ডিওন মায়ের্স ও সিকান্দার রাজার ত্রিশোর্ধ্ব দুই ইনিংসে ৯ উইকেটে ২৪০ রানের পুঁজি স্বাগতিকদের।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে অপরিবর্তিত একাদশ নিয়ে মাঠে নেমেছে বাংলাদেশ, স্বাগতিকদের একাদশে দুই পরিবর্তন। বাদ পড়েছেন টিমিসেন মারুমা ও রায়ান বার্ল। একাদশে ঢুকেছেন তিনাশে কামুনুকামে ও সিকান্দার রাজা।

ইনিংসের প্রথম ওভারেই দলকে ব্রেক থ্রু দেন তাসকিন আহমেদ। ওপেনার তিনাশে কামুনুকামে (৫ বলে ১ রান) তাসকিনের নিরীহ ডেলিভারিকে কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দেন পয়েন্টে আফিফ হোসেনকে।

হারারের উইকেটে প্রথম ঘন্টায় বাড়তি সুবিধা পেয়ে থাকে পেসাররা। তাসকিন গতির সাথে মুভমেন্টের মিশেলে অস্বস্তিতে ফেলেন জিম্বাবুয়ে ব্যাটসম্যানদের।

পঞ্চম ওভারেই পেতে পারতেন দ্বিতীয় শিকারের দেখা। কিছুটা আক্রমণাত্মক ভঙিতে খেলতে চেয়েছেন আরেক ওপেনার তাদিওয়ানাশে মারুমানি। দ্বিতীয় বলে মিড অন দিয়ে হাঁকান চার, ফিল্ডার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ লাফ দিয়ে বলে হাত ছোঁয়ালেও তালুবন্দী করতে পারেননি, ছিলনা অতটা সহজও।

তবে ফুলার লেংথের পরের বলে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ক্যাচ দেন থার্ড ম্যানে, খানিক দৌড়ে এসে শেষ মুহুর্তে হাতে জমাতে ব্যর্থ হন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। ওভারে আরও দুইবার হাফ চান্স দিয়েছিল মারুমানি।

পরের ওভারে আক্রমণে এসেই অবশ্য মারুমানিকে বোল্ড করেন স্পিনার মেহেদী হাসান মিরাজ। তার আড়াআড়ি লেংথের ডেলিভারিতে ক্রস ব্যাটে খেলতে গিয়ে বোল্ড হন জিম্বাবুয়ে ওপেনার। জীবন পেয়েও ১৮ বলে ১৩ রানের বেশি করতে পারেনি।

৩৩ রানে ২ উইকেট হারানোর পর রেগিস চাকাবভাকে নিয়ে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলরের ৪৭ রানের জুটি। সাকিবের বলে চাকাবভা বোল্ড হলে ভাঙে জুটি, ৩২ বলে ২৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে।

টেইলর অবশ্য নিজের সহজাত ব্যাটিংই করছিলেন। তবে শরিফুল ইসলামের করা ২৫তম ওভারে আউট হন দূর্ভাগ্যজনক হিট উইকেটে। আপার কাট করতে চেয়েছিলেন, ব্যাটে-বলে সংযোগ হয়নি, পরে শ্যাডো করতে গিয়ে ব্যাত লাগান স্টাম্পে। টিভি রিপ্লে দেখে আম্পায়ার দেয় আউটের সংকেত। ৫৭ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় খেলেন ৪৫ রানের ইনিংস।

এরপর ওয়েসলি মাধেব্রেকে নিয়ে আরও ৩৫ রানের জুটি ডিওন মায়ের্সের। সাকিবের নিচু হওয়া বল তুলে মারতে গিয়ে মায়ের্স (৫৯ বলে ৩৪ রান) ধরা পড়েন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের হাতে। জিম্বাবুয়ে পরিণত হয় ৫ উইকেটে ১৪৬ রানে।

এর আগে দুর্ভাগ্যজনকভাবে চোটে পড়ে ওভার অসমাপ্ত রেখে মাঠ ছাড়তে হয় মিরাজকে। নিজের করা ইনিংসের ৩০ তম ওভারে স্ট্রাইকে থাকা মাধেব্রের বল ফেরত এসেছে তার দিকেই, তবে নন স্ট্রাইকার মায়ের্স ব্যাট সামনে বাড়ালে বল-ব্যাটের মাঝে পড়ে কেটে যায় মিরাজের আঙুল। যদিও ৬ ওভার পরেই ফিরে এসে বল হাতে নেন।

ক্যান্সারের ঝুঁকি ও শারীরিক অসুস্থতাকে পেছনে ফেলে মাঠে ফেরা সিকান্দার রাজা সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছেন গত বছর পাকিস্তানের বিপক্ষে। রাজাকে নিয়ে মাধেব্রে ৬ষ্ঠ উইকেট জুটিতে যোগ করেন ৬৩ রান।

৫২ বলে ফিফটি তুলে অবশ্য বেশিক্ষণ টিকেননি মাধেব্রে, শরিফুলের বলে লং অফ থেকে দৌড়ে আসা তামিম ইকবালের দুর্দান্ত এক কায়চে পরিণত হন। ৬৩ বলে ৫ চার ১ ছক্কায় ৫৬ রান করেন এই তরুণ ব্যাটসম্যান। নিজের পরের ওভারে শরিফুল ফেরান লুক জঙ্গে (৮) ও ব্লেসিং মুজারাবানিকে (০)।

সাইফউদ্দিনের বলে রাজাও ৩০ রান করে আউট হলে জিম্বাবুয়ে থামে ৯ উইকেটে ২৪০ রানে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৪ টি উইকেট শরিফুলের (ক্যারিয়ার সেরা), ২ টি নেন সাকিব। একটি করে শিকার তাসকিন, সাইফউদ্দিন ও মিরাজের।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

জিম্বাবুয়ে ২৪০/৯ (৫০), কামুনুকামে ১, মারুমানি ১৩, চাকাবভা ২৬, টেইলর ৪৬, মায়ের্স ৩৪, মাধেভ্রে ৫৬, সিকান্দার ৩০, জঙ্গে ৮, মুজারাবানি ০, চাতারা ৪*, এনগারাভা ৭*; তাসকিন ১০-০-৩৮-১, সাইফউদ্দিন ১০-০-৫৪-১, মিরাজ ৭.২-০-৩৪-১, শরিফুল ১০-০-৪৬-৪, সাকিব ১০-০-৪২-২।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টেইলরকে দিয়ে ওয়ানডে হিট আউটে চূড়ায় উঠলো জিম্বাবুয়ে

Read Next

খেলার জন্য প্রস্তুত ফিট বাটলার

Total
2
Share