রানবন্যার ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারাল পাকিস্তান

রানবন্যার ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারাল পাকিস্তান

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৩ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে শুরুটা ভালোই করল পাকিস্তান। রানবন্যার ম্যাচে স্বাগতিকদের ৩১ রানে হারিয়েছে বাবর আজমের দল। বৃথা গেছে লিয়াম লিভিংস্টোনের দাপুটে শতক।

৪৩ বলে ১০৩ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন লিভিংস্টোন। যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে একজন ৫ নম্বরে নামা ব্যাটসম্যানের পক্ষে তৃতীয় সর্বোচ্চ।

মাত্র ৪২ বলে ৬ চার ও ৯ ছক্কায় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিভিংস্টোন। ইংল্যান্ডের পক্ষে গড়েছেন দ্রুততম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরির রেকর্ড। এমন দাপুটে ইনিংসের পরেও পাকিস্তানের ২৩২ রান টপকানোর লক্ষ্যে নেমে ২০১ রানে অলআউট হয় স্বাগতিকরা।

ট্রেন্টব্রিজে টসে হেরে আগে ব্যাট করতে নামে পাকিস্তান। দ্রুততম সময়ে মোহাম্মদ রিজওয়ান ও অধিনায়ক বাবর আজম ১৫০ রানের জুটি গড়েন। যা পাকিস্তানকে বড় রানের ভিত্তি গড়ে দেয়।

প্রথম দুই ওভারে অবশ্য মাত্র ১১ রান আসে। ডেভিড উইলির করা ৩য় ওভারে ১৬ রান নিয়ে রানের গতি বাড়ান বাবর, টানা ৩ টি চার মারেন তিনি। পাওয়ারপ্লেতে কোন উইকেট না হারিয়ে ৪৯ রান তোলে পাকিস্তান। ১০ ওভার শেষে যেটা বেড়ে দাঁড়ায় ৮০ তে।

এরপরই রান প্যাডেলে পা দেন সফরকারী ব্যাটসম্যানরা। ১১ তম ওভারে ৩৫ বলে ফিফটি পূর্ণ করেন বাবর আজম। ১২ তম ওভারে লেগ স্পিনার ম্যাট পার্কিনসনের ওপর চড়াও হন বাবর-রিজওয়ান। নিজের করা পরবর্তী ওভারেও ১৮ রান হজম করেন পার্কিনসন। ১৫ তম ওভারে লুইস গ্রেগরি হজম করেন ১৬ রান, যদিও ৬৩ রান করা রিজওয়ানকে ফেরান তিনি।

উইকেটে এসে মাত্র ৭ বল টেকেন শোয়েব মাকসুদ। তবে ২ ছক্কা ও ১ চারে ১৯ রান করেন তিনি। ১৬ তম ওভারে টম কারেনের শিকার হয়ে ফেরেন মাকসুদ। ডেভিড উইলির করা ১৭ তম ওভারে ৮৫ রান করা বাবর আজম ফেরেন, রানের গতিটাও কিছুটা কমে।

তবে পরবর্তীতে মোহাম্মদ হাফিজের ১০ বলে ২৪, ফখর জামানের ৮ বলে ২৬ রানের ইনিংসে রানের পাহাড় গড়তে পারে পাকিস্তান, টি-টোয়েন্টিতে নিজেদের সর্বোচ্চ সংগ্রহ ২৩২।

বড় রান ডিফেন্ড করতে যেতে শুরুতেই শাহীন শাহ আফ্রিদির বলে সাফল্য পায় পাকিস্তান। নিজের বলে ডাইভ দিয়ে ক্যাচ ধরে ফেরান ডেভিড মালানকে (১)। জেসন রয় অবশ্য অপর প্রান্তে ছিলেন বিধ্বংসী। ৩য় ওভারে ইমাদ ওয়াসিমের বলে ৩ ছক্কা হাঁকান। তবে চতুর্থ ওভারে যেয়ে আবারও ধাক্কা খায় ইংল্যান্ড। ১১ রান করা জনি বেয়ারস্টোকে ফেরান শাহীন শাহ আফ্রিদি, ৫ম ওভারে মোহাম্মদ হাসনাইনের বলে ফেরেন মইন আলি (১)।

মইনের বিদায়ের পরে উইকেটে আসেন লিভিংস্টোন। এসেই দ্রুত রান তোলাতে মন দেন তিনি। শাদাব খানের বলে জেসন রয় (১৩ বলে ৩২) ফেরার আগেই ৪ ছক্কা ও ১ চারে ১০ বলে ৩২ রান করে ফেলেন লিভিংস্টোন।

৯ম ওভারে যেয়ে মাত্র ১৭ বলে ৫০ পূর্ণ করেন লিভিংস্টোন, যা ইংল্যান্ডের পক্ষে দ্রুততম। সেই ওভারেই ১০০ এর গন্ডি পার করে স্বাগতিকরা।

একপ্রান্তে রান তুললেও অপর প্রান্ত থেকে সতীর্থদের যাওয়া আসা দেখেন তিনি। অধিনায়ক এউইন মরগান (১৬), লুইস গ্রেগরি (১০) তাকে যোগ্য সঙ্গ দিতে ব্যর্থ হন।

১৭ তম ওভারে যেয়ে ছক্কা হাঁকিয়ে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন লিভিংস্টোন, তবে পরবর্তী বলেই আউট হলে ইংল্যান্ডের আশার প্রদীপ নিভে যায়। ডেভিড উইলির ১৬ রানের ক্যামিও যথেষ্ট হয়নি। ২০১ রানে থামতে হয় ইংলিশদের।

৩১ রানের জয়ে ৩ উইকেট নিয়ে ভূমিকা রাখা শাহীন শাহ আফ্রিদি হন ম্যাচসেরা। সিরিজের পরবর্তী ম্যাচ মাঠে গড়াবে রবিবার।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

সাকিবের কাছে লিটনের যে প্রত্যাশা

Read Next

দক্ষিণ আফ্রিকার সিরিজ বাঁচানো ম্যাচে সিমি সিংয়ের রেকর্ড

Total
6
Share