লিটনের সেঞ্চুরি, সাকিবের ‘৫’, উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে

লিটনের সেঞ্চুরি, সাকিবের '৫', উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে

ব্যাট হাতে দলের বিপর্যয়ে লিটন দাসের দারুণ এক সেঞ্চুরি, দল পেয়েছে বড় সংগ্রহ। বল হাতে সাকিবের ৫ উইকেট শিকার, হারারেতে প্রথম ওয়ানডেতে কোনঠাসা জিম্বাবুয়ে। ১৫৫ রানের রেকর্ড জয়ে সিরিজ শুরু করলো টাইগাররা।

আগে ব্যাট করা বাংলাদেশ শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে। তামিম ফিরেছেন খালি হাতে, টপ-মিডল অর্ডারে সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেনরা ব্যর্থ। তবে টেস্টের মত আজ প্রথম ওয়ানডেতেও দলের হাল ধরা জুটি লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের।

লিটনের ১০২ রানের ইনিংসের পর শেষদিকে আফিফ হোসেনের ৪৫, মাঝে মাহমুদউল্লাহর ৩৩। বাংলাদেশ পেয়েছে ৯ উইকেটে ২৭৬ রানের পুঁজি। জবাবে সাকিবের স্পিন ঘূর্ণিতে ১২১ রানেই থেমেছে স্বাগতিকরা।

৫৫ রানের জয়টি দেশের বাইরে রানের হিসেবে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জয়। এর আগের সর্বোচ্চ ১৩৭ রানের জয় ছিল ২০১৮ সালে দুবাইতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবুয়ের দুই ওপেনার। দলীয় ৪ রানে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে বোল্ড হয়ে খালি হাতে ফেরেন অভিষিক্ত তাদিওয়ানাশে মারুমানি। আরেক ওপেনার ওয়েস্লি মাধেব্রেকে (৯) ভেতরে ঢোকা দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন তাসকিন আহমেদ।

১৩ রানে ২ উইকেট হারালেও অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর ও অভিষিক্ত ডিওন মায়ের্সের ব্যাটে বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা স্বাগতিকদের। তবে শরিফুল ইসলামের শর্ট বলে ডিপ ব্যাকওয়ার্ড স্কয়ার লেগে মায়ের্স (১৮) ক্যাচ দিলে ভাঙে ৩৬ রানের জুটি।

ক্রিজে এসেই সাইফউদ্দিনকে টানা দুই চারে রানের খাতা খোলেন রেজিস চাকাবভা। তবে দলের পরিস্থিতির বিপরীতে গিয়ে তেড়েফুড়ে খেলতে চেয়ে সাকিবের বলে ফিরতে হয় টেইলরকে। ৩১ বলে ২৪ রান তার ব্যাটে।

এরপর চাকাবভা ও রায়ান বার্লের ২৭ রানের জুটি। সাকিবের দ্বিতীয় শিকার হয়ে বার্ল (১৭ বলে ৬) সাজঘরের পথ ধরলে ভাঙে জুটি। নতুন ব্যাটসম্যান লুক জঙে কোন রান না করেই রান আউটে কাটা পড়েন। সাকিবের তৃতীয় শিকার হয়ে ব্লেসিং মুজারাবানি করতে পারেননি ২ রানের বেশি।

৩ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারিয়ে ৭ উইকেটে ১০৮ রানে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে। একপাশ আগলে রাখা রেগিস চাকাবভা শরিফুলকে ছক্কা হাঁকিয়ে ৪৭ বলে ফিফটি তুলে নেন। যেতে পারেননি বেশি দূর, সাকিবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন মিরাজের হাতে। ৫১ বলে ৫৪ রানের ইনিংসটি সাজান ৪ চার ২ ছক্কায়।

২ রানের ব্যবধানে ১০ নম্বরে নামা রিচার্ড এনগারাভাকে খালি হাতে ফিরিয়ে ক্যারিয়ারে তৃতীয় বার ৫ উইকেট শিকার করেন সাকিব। আর তাতেই ১২১ রানে থেমে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস, বাংলাদেশ ইনিংসেই চোটে পড়া টিমিসেন মারুমা নামতে পারেননি।

১৫৫ রানের বিশাল জয় পাওয়া ম্যাচে মাত্র ৩০ রান খরচায় সাকিবের ৫ উইকেট। একটি করে নেন তাসকিন, সাইফউদ্দিন ও শরিফুল।

আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছেন হারারের উইকেটে শুরুতে পেসাররা সুবিধা পাবে। ফলে আগে ব্যাট করলে শুরুর সময়টা দেখেশুনে খেলতে চান। কিন্তু ম্যাচে হয়েছে উল্টোটা।

ব্লেসিং মুজারাবানি, টেন্ডাই চাতারাদের সামলাতে শুরু থেকেই বিপাকে বাংলাদেশ। উইকেটের সুবিধা নিয়ে দুর্দান্ত মুভমেন্টের দেখা পেয়েছিল জিম্বাবুইয়ান পেসাররা। উদ্বোধনী জুটিতে কোনো রানই তুলতে পারেনি তামিম ইকবাল ও লিটন দাস।

মুজারাবানির করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে তামিম ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। খাটো লেংথের লাফিয়ে ওঠা বলে বিভ্রান্ত হন তামিম। এটি তার ১৯তম ওয়ানডে ডাক। হাবিবুল বাশারকে (১৮) পেছনে ফেলে তামিমই এখন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ডাক মারা ব্যাটসম্যান।

তিন নম্বরে নামা সাকিব আল হাসানও একই রকম অস্বস্তিতে পড়েন। মুজারাবানির দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে ২৫ বলে ১৯ রান করে। কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন কাভার পয়েন্টে রায়ান বার্লকে।

১৯ রান করে চাতারার অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে আলসেমি জড়ানো শটে উইকেটের পেছন ক্যাচ দেন মোহাম্মদ মিঠুনও। অনেকটা একই ঘরানার বলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে (১৫ বলে ৫) ফেরান এনগারাভা। ৪ উইকেটে ৭৪ রানে পরিণত হয় বাংলাদেশ।

এক পাশ আগলে রাখা লিটন এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে ৯৩ রানের জুটিতে দলকে টেনে তুলেন। ২৯তম ওভারে রায়ান বার্লকে চার মেরে ৭৮ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি।

৩৫তম ওভারে অবশ্য জীবন পেয়েছেন এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। পয়েন্টে তার দেওয়া কঠিন ক্যাচ ধরতে ধরতে ফেলে দেন ওয়েস্লি মাধেব্রে। মিস না হলে লিটনকে ফিরতে হত ৭২ রানে।

অন্য প্রান্তে মাহমুদউল্লাহ ৫২ বলে ৩৩ রান করে আউট হলে ভাঙে জুটি। তার বিদায়ের পর লিটন দ্রুতই তুলে নেন সেঞ্চুরি। ৭৮ বলে ফিফটি ছোঁয়া এই টাইগার ওপেনার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন ১১০ বলে।

সেঞ্চুরির পর অবশ্য টিকেননি বেশিক্ষণ, এনগারাভার শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন বদলি ফিল্ডার ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে। ১১৪ বলে ৮ চারে সাজিয়েছেন ১০২ রানের ইনিংসটি, ওয়ানডেতে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তৃতীয়।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ৫৮ রানের জুটি আফিফ হোসেনের। লুক জঙ্গের করা ৪৯তম ওভারে পরপর দুই বলে বিদায় নেন দুজনেই। মিরাজ ২৬ ও আফিফ ফিরেছেন ৩৫ বলে ৪৫ রান করে।

পরের বলে রান আউটে কাটা পড়েন তাসকিন আহমেদো (১)। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থামে ৯ উইকেটে ২৭৬ রানে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৮ ও শরিফুল ইসলাম ১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট লুক জঙ্গের, দুইটি করে উইকেট নেন ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা। একটি শিকার টেন্ডাই চাতারারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশ ২৭৬/৯ (৫০), তামিম ০, লিটন ১০২, সাকিব ১৯, মিঠুন ১৯, মোসাদ্দেক ৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, আফিফ ৪৫, মিরাজ ২৬, সাইফউদ্দিন ৮*, তাসকিন ১, শরিফুল ০*; মুজারাবানি ১০-২-৪৭-২, চাতারা ১০-১-৪৯-১, এনগারাভা ১০-১-৬১-২, জঙ্গে ৯-০-৫১-৩

জিম্বাবুয়ে ১২১/৯ (২৮.৫), মাধেভ্রে, ৯, মারুমানি ০, টেইলর ২৪, মায়ের্স ১৮, চাকাবভা ৫৪, বার্ল ৬, জঙ্গে ০, মুজারাবানি ২, চাতারা ২*, এনগারাভা ০; তাসকিন ৫-০-২২-১, সাইফউদ্দিন ৪-০-২৩-১, সাকিব ৯.৫-৩-৩০-৫, শরিফুল ৬-০-২৮-১

ফলাফলঃ বাংলাদেশ ১৫৫ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ লিটন দাস (বাংলাদেশ)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

লিটনের সেঞ্চুরিতে পথ খুঁজে পাওয়া বাংলাদেশের একদিন

Read Next

মাশরাফিকে টপকে রেকর্ড গড়া সাকিব টপকেছেন ডোনাল্ড-ক্যালিসদেরও

Total
13
Share