লিটনের সেঞ্চুরিতে পথ খুঁজে পাওয়া বাংলাদেশের একদিন

লিটনের সেঞ্চুরিতে পথ খুঁজে পাওয়া বাংলাদেশের একদিন

আগেরদিন সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল বলেছেন হারারের উইকেটে শুরুতে পেসাররা সুবিধা পাবে। ফলে আগে ব্যাট করলে শুরুর সময়টা দেখেশুনে খেলার দিকেই মনযোগ দিবে বাংলাদেশ। কিন্তু ম্যাচে হয়েছে উল্টো চিত্র, স্বাগতিক পেসারদের তোপে বিপর্যয়েই পড়তে হয়েছে টাইগারদের। যে বিপর্যয় কাটিয়েছেন লিটন দাস, তার সেঞ্চুরিতে ভর করে বড় সংগ্রহই পেল দল।

তামিম ফিরেছেন খালি হাতে, টপ-মিডল অর্ডারে সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন, মোসাদ্দেক হোসেনরা ব্যর্থ। তবে টেস্টের মত আজ প্রথম ওয়ানডেতেও স্বাগতিক জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দলের হাল ধরা জুটি লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের।

লিটনের ১০২ রানের ইনিংসের পর শেষদিকে আফিফ হোসেনের ৪৫, মাঝে মাহমুদউল্লাহর ৩৩। বাংলাদেশ পেয়েছে ৯ উইকেটে ২৭৬ রানের পুঁজি।

ব্লেসিং মুজারাবানি, টেন্ডাই চাতারাদের সামলাতে শুরু থেকেই বিপাকে বাংলাদেশ। উইকেটের সুবিধা নিয়ে দুর্দান্ত মুভমেন্টের দেখা পেয়েছিল জিম্বাবুইয়ান পেসাররা। ২.১ ওভার স্থায়ী জুটিতে কোনো রানই তুলতে পারেনি তামিম ইকবাল ও লিটন দাস।

মুজারাবানির করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের প্রথম বলটিতে তামিম ক্যাচ দিয়েছেন উইকেটের পেছনে। খানিক খাটো লেংথের বল বেশ লাফিয়ে উঠে বিভ্রান্ত করে তামিমকে। তামিমের এটি ১৯তম ওয়ানডে ডাক। হাবিবুল বাশারকে (১৮) পেছনে ফেলে তামিমই এখন ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ডাক মারা ব্যাটসম্যান।

তামিম খালি হাতে ফেরার পর ক্রিজে আসা সাকিব আল হাসানও একই রকম অস্বস্তিতে পড়েন। যদিও সময়ের সাথে সাথে কিছুটা সাবলীল হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন। তবে মুজারাবানির দ্বিতীয় শিকার হয়ে ফিরতে হয়েছে ২৫ বলে ১৯ রান করে। কাট করতে গিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন কাভার পয়েন্টে রায়ান বার্লকে।

চাতারার অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বলে আলসেমি জড়ানো শটে উইকেটের পেছন ক্যাচ দেন মোহাম্মদ মিঠুনও। ১৯ বলে করেছেন ১৯ রান, আউট হওয়ার আগে সাবলীলই মনে হচ্ছিল।

অনেকটা একই ঘরানার বলে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতকে (১৫ বলে ৫) ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ৪ উইকেটে ৭৪ রানে পরিণত করেন বাঁহাতি পেসার এনগারাভা।

তবে অন্যপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আসা যাওয়ার মিছিল দেখা লিটন দাস দলকে টেনে নেওয়ার কাজটা করেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে নিয়ে। ২৫তম ওভারের প্রথম বলে রায়ান বার্লকে চার মেরে দলের ৫৩ বলের বাউন্ডারি খরা কাটায় লিটন। ২৯তম ওভারে একই বোলারকে চার মেরে ৭৮ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটিও।

৩৫তম ওভারে অবশ্য জীবন পেয়েছেন এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান। পয়েন্টে তার বেশ কঠিন ক্যাচ প্রায় তালুবন্দি করেই ফেলছিলেন ওয়েস্লি মাধেব্রে। শেষ পর্যন্ত মিস না হলে লিটনকে ফিরতে হত ৭২ রানে।

লিটন বেঁচে গেলেও ৯৩ রানের জুটিতে দারুণ সঙ্গ দেওয়া মাহমুদউল্লাহ ফিরেছেন ৫২ বলে ৩৩ রান করে। লুক জঙ্গের দেওয়া স্লোয়ার বাউন্স খেলতে দিয়ে ক্যাচ দিয়েছেন উইকেট রক্ষক রেগিস চাকাবভাকে।

মাহমুদউল্লাহর বিদায়ের পর লিটন দ্রুতই তুলে নেন সেঞ্চুরিও। ৭৮ বলে ফিফটি ছোঁয়া এই টাইগার ওপেনার তিন অঙ্ক ছুঁয়েছেন ১১০ বলে, অর্থাৎ পরের ৫০ রান করেছেন ৩২ বলে।

তার ব্যাটেই শুরুর বিপর্যয় কাটিয়ে ৪০.১ ওভারের দলীয় ২০০ রান পেরোয় বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির পর অবশ্য টিকেননি বেশিক্ষণ, এনগারাভার শর্ট বলে পুল খেলতে গিয়ে ক্যাচ দেন বদলি ফিল্ডার ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে। ১১৪ বলে ৮ চারে সাজিয়েছেন ১০২ রানের ইনিংসটি, ওয়ানডেতে এটি তার চতুর্থ সেঞ্চুরি ছিল।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ৫৮ রানের জুটি আফিফ হোসেনের। লুক জঙ্গের করা ৪৯তম ওভারে পরপর দুই বলে বিদায় নেন দুজনেই। মিরাজ ২৬ ও আফিফ ফিরেছেন ৩৫ বলে ৪৫ রান করে।

পরের বলে রান আউটে কাটা পড়েন তাসকিন আহমেদো (১)। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ থামে ৯ উইকেটে ২৭৬ রানে। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৮ ও শরিফুল ইসলাম ১ রানে অপরাজিত ছিলেন।

জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট লুক জঙ্গের, দুইটি করে উইকেট নেন ব্লেসিং মুজারাবানি, রিচার্ড এনগারাভা। একটি শিকার টেন্ডাই চাতুরারা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম ইনিংস শেষে):

বাংলাদেশ ২৭৬/৯ (৫০), তামিম ০, লিটন ১০২, সাকিব ১৯, মিঠুন ১৯, মোসাদ্দেক ৫, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, আফিফ ৪৫, মিরাজ ২৬, সাইফউদ্দিন ৮*, তাসকিন ১, শরিফুল ০*; মুজারাবানি ১০-২-৪৭-২, চাতারা ১০-১-৪৯-১, এনগারাভা ১০-১-৬১-২, জঙ্গে ৯-০-৫১-৩।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের গ্রুপিং চূড়ান্ত করল আইসিসি

Read Next

লিটনের সেঞ্চুরি, সাকিবের ‘৫’, উড়ে গেল জিম্বাবুয়ে

Total
1
Share