ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগে এগিয়ে যাওয়ার মিশনে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগে এগিয়ে যাওয়ার মিশনে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

৮ বছর পর জিম্বাবুয়ে সফরে যাওয়া বাংলাদেশ আজ (১৬ জুলাই) মাঠ নামবে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের প্রথমটি খেলতে। ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের অংশ বলে এই সিরিজ থেকে বাংলাদেশ পুরো ফায়দাই লুটে নিতে চাইবে। তবে নিজেদের কন্ডিশনে পরিসংখ্যান স্বাগতিকদের হয়ে কথা বলায় কাজটা সহজ হবেনা বলছে বাংলাদেশ অধিনায়ক তামিম ইকবাল।

দুই দলের সর্বশেষ ১৬ ম্যাচেই জয়ী দলের নাম বাংলাদেশ, সবকটি ম্যাচই অবশ্য বাংলাদেশের মাটিতে ছিল। সময়ের হিসেবে জিম্বাবুয়ে সর্বশেষ জিতেছে ৮ বছর আগে। তবে নিজেদের কন্ডিশন আমলে নিলে জিম্বাবুয়ের মাটিতে সর্বশেষ দুই ম্যাচেই হেরেছে বাংলাদেশ।

দুই দলের মুখোমুখি ৭৫ লড়াইয়ে বাংলাদেশের ৪৭ জয়ের বিপরীতে জিম্বাবুয়ের জয় ২৮ টিতে। জিম্বাবুয়ের মাটিতে ২৮ ম্যাচের ১৫ টিতেই জিতেছে স্বাগতিকরা।

সর্বশেষ ১০ ওয়ানডের ৯ টিতেই হেরেছে জিম্বাবুয়ে। যে ম্যাচগুলোতে প্রতিপক্ষ হিসেবে ছিল পাকিস্তান, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডস। একমাত্র জয়টি পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বছর নিজেদের সর্বশেষ ওয়ানডেতে।

সব মিলিয়ে ২০১৩ সালের জিম্বাবুয়ে ও বর্তমান জিম্বাবুয়ের পার্থক্যটা স্পষ্ট। ঘরের মাঠেও বাংলাদেশের সামনে কতটা লড়াই করতে পারবে সেটি সময়ই বলে দিবে। তবে বাংলাদেশ নিশ্চিতভাবেই চাইবে সিরিজের সবকটি ম্যাচ জিতে পূর্ণ ৩০ পয়েন্ট আদায় করতে।

নিউজিল্যান্ড সফরের তিন ওয়ানডেতেই হারের পর ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষেও হেরেছে একটি ম্যাচে। ৬ ম্যাচে বাংলাদেশ পেয়েছে কেবল ২০ পয়েন্ট। যা পুশিয়ে নেওয়ার সুযোগ এই জিম্বাবুয়ে সফর।

আর সে যাত্রার প্রথম ম্যাচটা তাই গুরুত্বপূর্ণই। অধিনায়ক তামিম ইকবালও গতকাল সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন শুরুটা ভালো করাই আপাতত লক্ষ্য। ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের ম্যাচ না হলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পরীক্ষা নীরিক্ষা কিংবা কোনো পর্যবেক্ষণের পথে হাঁটা যেত এমনটাই বলছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান। ফলে বোঝাই যাচ্ছে নিজেদের সেরা দলই মাঠে নামাবে বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, ‘আশাবাদী সিরিজ জিতব। কালকের প্রথম ম্যাচই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভালো শুরু করাই আমার কাছে ‘কি পয়েন্ট’। আমাদের সব সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। আমার মনে হয় না বড় কিছু করা দরকার। দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হলে অনেক কিছু করা যায়। কিন্তু সুপার লিগ খেলছেন, প্রত্যেক ম্যাচের আলাদা গুরুত্ব আছে। তিনটা ম্যাচেই আমরা সেরা দল খেলানোর চেষ্টা করব।’

সেরা দল নিয়ে নামতে চাইলেও সেটা অবশ্য পাচ্ছেনা তামিম। পারিবারিক কারণে দেশে ফিরে এসেছেন মুশফিকুর রহিম। প্রস্তুতি ম্যাচে চোট পেয়ে প্রথম ওয়ানডেতে অনিশ্চিত মুস্তাফিজুর রহমান। এদিকে ভিসা জটিলতায় গতকাল ঢাকা ছাড়তে হয়েছে পেসার রুবেল হোসেনকে, তাকেও অন্তত প্রথম ম্যাচে পাওয়া যাচ্ছেনা অনেকটা নিশ্চিত। তামিম নিজেও খেলবেন হাঁটুর চোটকে কোনভাবে ম্যানেজ করে, যেখানে এই চোট নিয়ে খেলেননি টেস্টে।

স্কোয়াডের বাকিদের নিয়ে অবশ্য সন্তুষ্ট অধিনায়ক, ‘আমরা সবসময় পূর্ণ শক্তির দল নিয়ে খেলতে পারি এমন নয়। আর আমাদের পরিস্থিতি মেনে নিতে হবে। মুশফিকের পরিস্থিতি দেখুন, বা মুস্তাফিজের চোট… এগুলো নিয়ন্ত্রণে নেই। এজন্যই ১৬-১৭ জন রাখা হয় স্কোয়াডে। যারা স্কোয়াডে আছে সবাই যোগ্য।’

নিজের পূর্ব অভিজ্ঞতা থেকে তামিম বলছেন হারারের উইকেটে আগে ব্যাট করলে সাবধানী হতে হবে, ‘জিম্বাবুয়েতে ২-৩টা সিরিজ খেলেছি তবে ৬-৭ বছর আগে। সাড়ে নয়টায় ম্যাচ শুরু হবে, তাই বোলাররা শুরুতে সুবিধা পাবে। বিশেষ করে প্রথম ঘণ্টায়। এটা চ্যালেঞ্জিং হবে যদি আগে ব্যাট করি। আগে ব্যাট করলে সাবধান থাকতে হবে। আগে বোলিং করলে এই এক ঘণ্টা কাজে লাগাতে হবে।’

ওয়ার্ল্ড কাপ সুপার লিগের পয়েন্ট তালিকায় ৯ ম্যাচে ৫ জয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে আছে বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ে সফর হতে পারে পেছনে থাকাদের সাথে দূরত্ব বাড়িয়ে নেওয়ার মঞ্চ।

মুশফিক না থাকায় চার নম্বরে কাকে দেখা যাবে খোলাসা করেননি তামিম। চার নম্বরে দেখা যেতে পারে লিটন দাস কিংবা মোহাম্মদ মিঠুনকে। সেক্ষেত্রে ওপেনিংয়ে তামিমের সঙ্গী হিসেবে নাইম শেখকেও দেখা যেতে পারে। অন্তত প্রস্তুতি ম্যাচের সমীকরণ এমনটাই বলছে।

একাদশে অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মেহেদী হাসান মিরাজের জায়গা পাকা। মুস্তাফিজ না থাকায় সুযোগ মিলতে পারে শরিফুল ইসলামের, আরেক পেসার হিসেবে থাকবেন তাসকিন আহমেদ। ব্যাটিং গভীরতা বাড়াতে সুযোগ পেয়ে যেতে পারেন নুরুল হাসান সোহানও।

এদিকে জিম্বাবুয়ে নিজেদের স্কোয়াডই ঘোষণা করেছে গতকাল তামিমের সংবাদ সম্মেলনের ঘন্টা পাঁচেক পর। শন উইলিয়ামস ও ক্রেইগ আরভিন আইসোলেশন শেষে করোনা নেগেটিভ হলেও স্কোয়াডে অন্তর্ভূক্তের আগে ফিটনেস ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা মূল্যায়ন করতে চেয়েছে জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট।

যে কারণে এই দুই সিনিয়র ক্রিকেটারকে ছাড়াই দল ঘোষণা করা হয়। পরিবারের সদস্য করোনা পজিটিভ হলে টেস্ট সিরিজের আগেই তাদের আইসোলেশনে পাঠানো হয়।

জিম্বাবুয়েকে নেতৃত দিবেন ব্রেন্ডন টেইলর। স্কোয়াডে বেশ কিছু ক্রিকেটার ফিরেছেন চোট কাটিয়ে, লম্বা বিরতির পর জায়গা পাওয়া ক্রিকেটারও আছেন। ১৬ সদস্যের স্কোয়াডে অনভিষিক্ত ক্রিকেটার তিনজন।

হারারেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলা সর্বশেষ তিন ম্যাচেই জিতেছে জিম্বাবুয়ে, অবশ্য সেটি ২০১১ সালে।

এক দশক পর আবারও হারারে স্পোর্টস ক্লাবে ওয়ানডেতে মুখোমুখি বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে। যেখানে প্রতিপক্ষের কন্ডিশনেও স্পষ্ট ফেভারিট হয়েই মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এখন দেখার পালা মাঠের ক্রিকেটে তামিমরা কতটা দাপট ধরে রাখতে পারেন।

প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশের সম্ভাব্য একাদশঃ

তামিম ইকবাল, লিটন দাস/নাইম শেখ, সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ মিঠুন/লিটন দাস, আফিফ হোসেন ধ্রুব, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, নুরুল হাসান সোহান, মেহেদী হাসান মিরাজ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাসকিন আহমেদ ও শরিফুল ইসলাম।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টেইলরকে অধিনায়ক করে জিম্বাবুয়ের স্কোয়াড ঘোষণা

Read Next

প্রথম টি-টোয়েন্টিতে বিশ্রামে থাকছেন হাসান আলি

Total
5
Share