ফল এলোনা প্রস্তুতি ম্যাচে

ফল এলোনা প্রস্তুতি ম্যাচে

ওয়ানডে সিরিজ সামনে রেখে প্রস্তুতি ম্যাচে ভালোভাবেই নিজেদের ঝালিয়ে নিল বাংলাদেশ। অমীমাংসিত ম্যাচে জিম্বাবুয়ে নির্বাচিত একাদশের বিপক্ষে ব্যাটে-বলে সফল টাইগাররা।

১৬ জুলাই থেকে মূল সিরিজ শুরুর আগে হারারে তাকাশিঙ্গা স্পোর্টস ক্লাবে আজকের প্রস্তুতি ম্যাচ খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল অধিনায়ক তামিম ইকবালের জন্য। হাঁটুর চোটে টেস্ট সিরিজ মিস করা টাইগারদের ওয়ানডে দলপতি কতটা ম্যাচ ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন তা দেখা মঞ্চ ছিল ম্যাচটি।

যেখানে ব্যাট হাতে ফিফটি হাঁকিয়ে দলের হয়ে সর্বোচ্চ স্কোর করলেন। তামিমের ৬৬ রানের ইনিংসের সাথে ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস আছে সাকিব আল হাসান ও স্বেচ্ছায় অবসরে যাওয়া মোহাম্মদ মিঠুন এবং মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৬ উইকেটে ২৯৬ রান।

জবাব দিতে নেমে অবশ্য সুবিধা করতে পারেনি জিম্বাবুয়ে নির্বাচিত একাদশ। ১৩০ রান তুলতেই হারায় ৭ উইকেট। ম্যাচ অমীমাংসিত অবস্থায় শেষ হওয়ার আগে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকা টিমিসেন মারুমা একাই লড়াই করছিলেন। ৭ উইকেটে ১৮৯ রান তোলার পরই খেলা বন্ধ হয়।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে দুই ওপেনার ওয়েস্লি মাধেব্রে ও তাদিওয়ানাশে মারুমানি উদ্বোধনী জুটিতে তোলে ২৪ রান। দুজনেই ফিরেছেন ৪ বলের ব্যবধানে। মাধেব্রেকে (১৪) মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও মারুমানি (৯) ফেরান শরিফুল ইসলাম।

ইনিংসের প্রথম ওভার করতে এসে খানিক অস্বস্তিতে পড়েন মুস্তাফিজুর রহমান। পরে তীব্রতা সহ্য করতে না পেরে ওভারের এক বল বাকি রেখেই ছেড়েছেন মাঠ।

এরপর চামু চিবাবাকে নিয়ে ডিওন মায়ের্সের ৪২ রানের জুটি। যেখানে চিবাবার অবদান মাত্র ৮! চিবাবাকে একপাশে রেখে মায়ের্স খেলেছেন ঝড়ো ইনিংস। ৯ম ওভারে শরিফুলকে ৩ চার হাঁকান মায়ের্স। এবাদত হোসেনের করা ১১তম ওভারে হাঁকিয়েছেন আরও ৩ চার।

১৩তম ওভারে এবাদতের শিকার হয়েই ফিরতে হয় মায়ের্সকে। বোল্ড হওয়ার আগে খেলেন ২৯ বলে ৮ চারে ৪২ রানের ইনিংস। পরের বলেই নতুন ব্যাটসম্যান তিনাশে কামুনহুকামেও (০) বোল্ড হন। পর পর দুই বলে উইকেট হারিয়ে ৪ উইকেটে ৭৬ রানে পরিণত হয় জিম্বাবুয়ে নির্বাচিত একাদশ।

দলীয় ৯২ রানে ফিরে যান ৫১ বল ক্রিজে টিকে মাত্র ১৭ রান করা চিবাবাও। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে ক্যাচ দেন মুস্তাফিজুর রহমানকে।

টিমিসেন মারুমা ও সিকান্দার রাজা কিছুটা প্রতিরোধের চেষ্টা করেন। তবে নিজের টানা দুই ওভারে মোসাদ্দেক হোসেন ফেরান রাজা (৪০ বলে ২৪) ও নতুন ব্যাটসম্যান রায়ান বার্লকে (২)।

১৩০ রানে ৭ উইকেট হারানো জিম্বাবুয়েকে টেনে নেয় মারুমা ও রিচমন্ড মুতুম্বামির ৫৯ রানের ৮ম উইকেট জুটি। কিন্তু এরপরই আলোক স্বল্পতায় ম্যাচের বাকি অংশ মাঠে গড়ায়নি, ড্রয়ের মাধ্যমে সমাপ্ত হয়। তখনো জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ে নির্বাচিত একাদশের প্রয়োজন ছিল ৫৯ বলে ১০৮ রান।

৫৯ বলে ৫৯ রানে মারুমা ও ৩১ বলে ১৬ রানে অপরাজিত ছিলেন মুতুম্বামি। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ও এবাদত হোসেনের।

আগে ব্যাট করতে নেমে বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও মোহাম্মদ নাইম শেখ ১৭ ওভার স্থায়ী জুটিতে তোলেন ৮৭ রান। চোট নিয়ে বিপাকে পড়া তামিম ওয়ানডে সিরিজের আগে কতটা ফিট হচ্ছেন তার পরীক্ষাও বলা যায় আজকের প্রস্তুতি ম্যাচ।

২৫ রান করে নাইম আউট হলে ভাঙে দুজনের জুটি। তবে শুরুর জড়তা কাটিয়ে তামিম ছিলেন চেনা ছন্দে। প্রথম ২৬ বলে ১৩ রান করা এই বাঁহাতি ৪৫ বলে তুলে নেন ফিফটি।

নাইমের বিদায়ের পর সাকিব আল হাসানের সাথে ২৩ রানের জুটি। এ দফায় তামিম আউট হলে ভাঙে জুটি। ৬২ বলে ১১ চার ১ ছক্কায় ৬৬ রান করে ওয়েস্লি মাধেব্রের বলে ফিরেছেন সিকান্দার রাজাকে ক্যাচ দিয়ে।

৮ রানের ব্যবধানে নতুন ব্যাটসম্যান লিটন দাসকেও ফেরান মাধেব্রে। ৬ বলে ২ রানের বেশি করতে পারেননি লিটন। ১১৮ রানে ৩ উইকেট হারায় বাংলাদেশ।যদিও সাকিবের সাথে মোহাম্মদ মিঠুনের চতুর্থ উইকেট জুটিতে পথেই ছিল বাংলাদেশ।

দুজনের ৭২ রানের জুটি ভাঙে ফারাজ আকরামের বলে সাকিব ফিরলে। ৬০ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ রান। বাকিদের সুযোগ দিতে মোহাম্মদ মিঠুনও ৪২ বলে ৩৯ রান করে স্বেচ্ছায় অবসরে যান।

আফিফ হোসেনকে নিয়ে ৫০ রানের জুটি গড়ে ৩৬ রান করে স্বেচ্ছায় অবসরে যান মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতও। আফিফ অবশ্য ২৮ রান করে আউট হয়েছেন তানাকা শিভাঙ্গার বলে।

শেষদিকে নুরুল হাসান সোহান করেছেন ১২ বলে ১৮ রান। ১০ বলে ১২ রান করে অপরাজিত ছিলেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। তাতেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৬ উইকেটে ২৯৬ রান।

জিম্বাবুয়ে নির্বাচিত একাদশের হয়ে ফারাজ আকরাম, ওয়েস্লি মাধেব্রে ও তানাকা শিভাঙ্গা সমান দুইটি করে উইকেট নেন।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

বাংলাদেশিস ২৯৬/৬ (৫০), তামিম ৬৬, নাইম ২৫, সাকিব ৩৭, লিটন ২, মিঠুন ৩৯ (রিটায়ার্ড নট আউট), মোসাদ্দেক ৩৬ (রিটায়ার্ড নট আউট), আফিফ ২৮, নুরুল ১৮, সাইফউদ্দিন ১২*, মিরাজ ৫*; আকরাম ১০-০-৭৩-২, শিভাঙ্গা ৮-১-৪৪-২, মাধেভ্রে ৪-০-১২-২

জিম্বাবুয়ে নির্বাচিত একাদশ ১৮৯/৭ (৪০.১), মাধেভ্রে ১৪, মারুমানি ৯, চিবাবা ১৭, মায়ের্স ৪২, কামুনুকামে ০, সিকান্দার ২৪, মারুমা ৫৯*, বার্ল ২, মুতুম্বামি ১৬*; মোসাদ্দেক ৬.১-১-১৬-২, সাইফউদ্দিন ৭-০-৩৩-২, শরিফুল ৭-০-৩৯-১, এবাদত ৭.১-০-৩৭-২

ম্যাচ অমীমাংসিত।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পরিবর্তন এসেছে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট বন্টনে

Read Next

শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটকে চান্দিমালের চিঠি, জানতে চান ভবিষ্যৎ

Total
1
Share