দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল আয়ারল্যান্ড

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে ইতিহাস গড়ল আয়ারল্যান্ড

ক্যাচ মিসের ম্যাচে কপাল পুড়লো দক্ষিণ আফ্রিকার। ডাবলিনের দ্য ভিলেজে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে যেন হাতে তেল মেখে নেমেছিল ডেভিড মিলার, কাগিসো রাবাদারা। ৪ ক্যাচ মিসের খেসারত দিয়ে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে তারা হেরেছে ৪৩ রানে।

বৃষ্টিতে প্রথম ওয়ানডে পরিত্যক্ত হয়। গতকাল (১৩ জুলাই) আগে ব্যাট করা আয়ারল্যান্ড ক্যাচ মিসের সুযোগ নিয়ে ২৯১ রানের লক্ষ্য ছুঁড়ে দেয় দক্ষিণ আফ্রিকাকে। জীবন পেয়ে সেঞ্চুরি হাঁকান অধিনায়ক বালবার্নি। শূণ্য হাতে ফিরতে পারতেন হ্যারি টেক্টর, করেছেন ৭৯ রান। শেষদিকে ক্যামিও ইনিংস জর্জ ডকরেলের।

জবাবে ইয়ানেমান মালানের ৮৪ রানও বৃথা গিয়েছে বাকিদের ব্যর্থতায়। ভ্যান ডার ডুসেন (৪৯) ছাড়া আর কেউ দাঁড়াতেই পারেনি। দক্ষিণ আফ্রিকাকে অল আউট হতে হয় ২৪৭ রানে।

পাকিস্তান, আফগানিস্তান, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের পর ৬ষ্ঠ টেস্ট খেলুড়ে দেশকে পরাজয়ের স্বাদ দিল আয়ারল্যান্ড।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ৫২ রানেই ২ উইকেট হারায় প্রোটিয়ারা। এইডেন মার্করাম (৫), অধিনায়ক টেম্বা বাভুমা (১০) রান করে ফিরলে সাবলীল ছিলেন মালান। ডুসেনকে নিয়ে তৃতীয় উইকেট জুটিতে যোগ করেন ১০৮ রান। জয়টা তখনো বেশ সম্ভবই মনে হচ্ছিল।

তবে ৩৩তম ওভারে ডকরেলের বলে মালান ফিরলে ভাঙে জুটি। তাতেই ম্যাচ থেকে ছিটকে যেতে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা। ৯৬ বলে ৭ চার ৪ ছক্কায় ৮৪ রান আসে মালানের ব্যাট থেকে। ১ রানের ব্যবধানে ফিরেছেন ডুসেনও, খেলেছেন ৭০ বলে ৪৯ রানের ইনিংস।

এরপর নিয়মিত বিরতিতেই উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। ২৭ বলে ১৪ রান আসে ডেভিড মিলারের ব্যাট থেকে। কেশব মহারাজ ১৭ ও কাগিসো রাবাদা করেছেন ১৬ রান। ২৪৭ রানে থামে প্রোটিয়ারা।

ইনিংসের ৯ বল আগেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে অলআউট করার পথে সর্বোচ্চ দুইটি করে উইকেট নেন মার্ক অ্যাডায়ার, জশুয়া লিটল ও অ্যান্ডি ম্যাকব্রাইন।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে আয়ারল্যান্ড পেয়েছে ৬৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। দুই দফা জীবন পেয়ে পল স্টার্লিং ফিরলে ভাঙে জুটি। আনরিখ নরকিয়ার করা ইনিংসের চতুর্থ ওভারেই ফিরতে পারতেন স্টার্লিং। দ্বিতীয় স্লিপে দাঁড়ানো এইডেন মার্করাম যদি ক্যাচ না ছাড়তেন।

পঞ্চম ওভারে আরেক দফা জীবন পান এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। এবার কাগিসো রাবাদার বলে কাভার পয়েন্ট অঞ্চলে ক্যাচ ছাড়েন ডেভিড মিলার। দু দফায় জীবন পাওয়ার সময় তার রান যথাক্রমে ৬ ও ১০। শেষ পর্যন্ত বাঁহাতি স্পিনার কেশব মহারাজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরেছেন ৪৪ বলে ২৭ রান করে।

এরপর অ্যান্ড্রু ম্যাকব্রাইনকে নিয়ে অধিনায়ক অ্যান্ডি বালবার্নির ৬০ রানের জুটি। তাব্রাইজ শামসির শিকার হয়ে ম্যাকব্রাইন ফিরেছেন ৩০ রান করে। ততক্ষণে ফিফটির দেখা পেয়ে যান বালবার্নি। ৬ষ্ঠ ওভারে নরকিয়াকে তিন চার হাঁকান বালবার্নি, পরের ওভারে রাবাদাকে হাঁকান আরও দুইটি। এরপর নিজের জোনে পাওয়া বলকে নিয়মিতই হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি।

তবে ২৯তম ওভারে তাব্রাইজ শামসির বলে নতুন ব্যাটসম্যান হ্যারি টেক্টরের ক্যাচ ছাড়েন উইকেট রক্ষক কাইল ভেরেনে। টেক্টর ফিরতে পারতেন খালি হাতে। জীবন পেয়ে টেক্টর খেললেন দারুণ এক ইনিংস।

৩৫তম ওভারে জীবন পেয়েছেন অ্যান্ডি বালবার্নিও, ডিপ পয়েন্টে তার ক্যাচ ছেড়েছেন রাবাদা। খুব সহজ ক্যাচ না হলেও ধরার মতই ছিল। ঠিকঠাক তালুবন্দি করা গেলে বালবার্নি ফিরতেন ৭৪ রানে।

টেক্টর-বালবার্নির জুটিতে আসে ৭০ রান। ৫১ বলে ফিফটি ছোঁয়া বালবার্নি ১১০ বলে তুলে নেন ক্যারিয়ারের ৭ম সেঞ্চুরি। সেঞ্চুরির পরই অবশ্য থেমেছেন। কাগিসো রাবাদার ফুলটস বলকে মিড অফ দিয়ে উড়িয়ে মারতে গিয়ে ধরা পড়েন টেম্বা বাভুমার হাতে। ইতি ঘটে ১১৭ বলে ১০ চার ২ ছক্কার ১০২ রানের ইনিংসের।

বালবার্নি ফিরলে শেষদিকে টেক্টরকে নিয়ে রীতিমত ঝড় তোলেন জর্জ ডকরেল। দুজনে ৪৬ বলের জুটিতে যোগ করেন ৯০ রান। ৬৮ বলে ৬ চার ৪ ছক্কায় ৭৯ রান টেক্টরের ২৩ বলে ৫ চার ২ ছক্কায় ৪৫ রান ডকরেলের ব্যাটে।

শেষ ১০ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়ে ১০৩ রান তোলে আইরিশরা। ৫ উইকেটে ২৯০ রানে থামে বালবার্নির দল।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আয়ারল্যান্ড ২৯০/৫ (৫০), স্টারলিং ২৭, বালবার্নি ১০২, ম্যাকব্রাইন ৩০, টেক্টর ৭৯, ডকরেল ৪৫, অ্যাডায়ার ১*; রাবাদা ১০-০-৫৮-১, ফেলুকওয়ায়ো ১০-০-৭৩-২, মহারাজ ১০-০-৫০-১, শামসি ১০-১-৪২-১

দক্ষিণ আফ্রিকা ২৪৭/১০ (৪৮.৩), মালান ৮৪, মার্করাম ৫, বাভুমা ১০, ডুসেন ৪৯, ভেরেনে ১৩, মিলার ২৪, ফেলুকওয়ায়ো ২, মহারাজ ১৭, রাবাদা ১৬, নরকিয়া ১০, শামসি ০*; ইয়াং ৮-০-৩৪-১, অ্যাডায়ার ৮.৩-১-৪৩-২, লিটল ১০-০-৪৫-২, সিমি ৮-০-৪৪-১, ডকরেল ৭-০-৩৭-১, ম্যাকব্রাইন ৭-০-৩৪-২

ফলাফলঃ আয়ারল্যান্ড ৪৩ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ অ্যান্ডি বালবার্নি (আয়ারল্যান্ড)।

৯৭ ডেস্ক

Read Previous

অল্পের জন্য আমলাকে ছোয়া হলনা বাবরের

Read Next

সাহায্যের জন্য পোলার্ড, ব্রাভোর প্রশংসায় ক্রিস গেইল

Total
1
Share