জিততে হলে শেষদিনে জিম্বাবুয়ের করতে হবে বিশ্বরেকর্ড

জিততে হলে শেষদিনে জিম্বাবুয়ের করতে হবে বিশ্বরেকর্ড
Vinkmag ad

হারেরে টেস্টের প্রথম দিনের প্রথম দুই সেশনে নড়বড়ে অবস্থানে থাকা বাংলাদেশ চতুর্থ দিন শেষে আছে চালকের আসনে। জয়ের জন্য পঞ্চম দিন বাংলাদেশের প্রয়োজন ৭ উইকেট, স্বাগতিকদের ৩৩৭ রান! ব্রেন্ডন টেইলরের দলকে জিততে হলে করতে হবে বিশ্ব রেকর্ড।

তৃতীয় দিন শেষেই ২৩৭ রানের লিড ছিল বাংলাদেশের। আজ সাদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া সেঞ্চুরিতে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে ৪৭৬ রানের লিড পেয়ে।

৪৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ব্রেন্ডন টেইলরের ঝড়ো ইনিংসের পরও জিম্বাবুয়ে আছে ব্যাকফুটে। ৩ উইকেটে ১৪০ রান তুলে দিন শেষ করেছে স্বাগতিকরা। পিছিয়ে আছে আরও ৩৩৭ রানে। টেইলর আউট হয়েছেন ৭১ বলে ৯২ রান করে। অপরাজিত আছেন ডিওন মায়ের্স (১৮*) ও ডোনাল্ড টিরিপানো (৭*)।

১ উইকেটে ২৫ রান তুলে চা বিরতিতে গিয়েছিল জিম্বাবুয়ে। টেইলর ১০ ও কাইতানো শূন্য রানে অপরাজিত ছিলেন।

চা বিরতির পর টেইলর যেন প্রথম ইনিংসের পুনরাবৃত্তি করতে চাইলেন। তবে এই ইনিংসে আরও বেশি আক্রমণাত্মক ছিলেন। কাইতানোকে এক পাশে রেখে জুটির ফিফটিতো বটেই তুলে নিলেন নিজের ফিফটিও।

১২তম ওভারে তাসকিন আহমেদকে হাঁকান দুই চার, সাকিব আল হাসানকে পরের ওভারে আরও দুইটি। ১৪তম ওভারে তাসকিনের ওপর দিয়ে ঝড়টা বয়ে যায় ভালোই, হাঁকান ৩ চার। তবে ঐ ওভারেই ফিরতে পারতেন, যদি শেষ বলে উইকেটের পেছনে বেশ কঠিন ক্যাচটা লিটন দাস লুফে নিতেন। তখন টেইলরের রান ৪২।

১৫তম ওভারে মেহেদী হাসান মিরাজকে টানা দুই চারে ৩২ বলে ছুঁয়েছেন ফিফটি। ৫১ রানের জুটিতে তখনো কোনো রানই করতে পারেনি কাইতানো। অভিষিক্ত এই ব্যাটসম্যান প্রথম ইনিংসের মত দারুণ ধৈর্যের পরীক্ষা দিচ্ছিলেন যেন। ৩৯তম বলে খুলেছেন রানের খাতা।

ঐ ১ রানেই ফিরতে পারতেন কাইতানো। মিরাজের করা ২২তম ওভারে শর্ট স্কয়ার লেগে তার সহজ ক্যাচ ছেড়েছেন এবাদত হোসেন। যে ক্যাচ মিস হবে ভাবেননি কাইতানো নিজেও, হতাশ হয়ে শুরু করে দিয়েছিলেন সাজঘরের দিকে হাঁটাও। কিন্তু ক্যাচ মিস করে বোকা বনে যান এবাদতও।

অন্যদিকে টেইলরের ঝড় যেন থামছিলইনা। শেষ পর্যন্ত সফট ডিসমিসাল হয়ে ফিরলেন আরেক দফা সেঞ্চুরির খুব কাছে গিয়েও। প্রথম ইনিংসে ৮১ রানের পর দ্বিতীয় ইনিংসে মিরাজকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন ৯২ রান করে। ৭৩ বলে ১৬ চারে সাজিয়েছেন ইনিংসটি। আর তাতেই ভাঙে কাইতানোর সাথে ৯৫ রানের জুটি, যেখানে কাইতানোর অবদান মাত্র ২!

এরপর ডিওন মায়ের্সের সাথে কাইতানোর ২২ রানের জুটি, যেখানে তার অবদান ৫। সেশনের শেষ ভাগে তাকে ফিরিয়ে সাকিব যেন নিজেদের কাজ আরও এগিয়ে রাখলো। এলবিডব্লিউর ফাঁদে পড়ার আগে ১০২ বলে করেছেন ১ চারে ৭ রান।

নাইটওয়াচ ম্যান ডোনাল্ড টিরিপানোকে নিয়ে দিনের বাকি সময় অবশ্য কোনো বিপদে পড়তে দেননি মায়ের্স। ৩ উইকেটে ১৪০ রান জিম্বাবুয়ের স্কোরবোর্ডে, মায়ের্স ১৮ ও টিরিপানো ৭ রানে অপরাজিত আছেন।

প্রথম ইনিংসে ১৯২ রানের লিড বাংলাদেশের, দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে বিনা উইকেটে ৪৫ রান তুলে তৃতীয় দিন শেষ করেছি বাংলাদেশ। দুই ওপেনার সাদমান ইসলাম ও সাইফ হাসান আজ জুটি টেনে নেন ৮৮ রান পর্যন্ত।

সাইফ ৪৩ রান করে আউট হলে ভাঙে জুটি। তবে তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্তকে নিয়ে সাদমানের অবিচ্ছেদ্য ১৯৬ রানের জুটি। লাঞ্চের পর দুজনেই তুলে নেন সেঞ্চুরি। স্কোরবোর্ডে ১ উইকেটে ২৮৪ হতেই ইনিংস ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ।

ক্যারিয়ারের প্রথম শতক হাঁকান সাদমান, দ্বিতীয় শতক শান্তর। শেষ পর্যন্ত ১৯৬ বলে ৯ চারে ১১৫ রানে সাদমান ও ১১৮ বলে ৫ চার ৬ ছক্কায় ১১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন শান্ত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৪র্থ দিন শেষে):

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৪৬৮/১০ (১২৬), সাইফ ০, সাদমান ২৩, শান্ত ২, মুমিনুল ৭০, মুশফিক ১১, সাকিব ৩, লিটন ৯৫, মাহমুদউল্লাহ ১৫০*, মিরাজ ০, তাসকিন ৭৫, এবাদত ০; মুজারাবানি ২৯-৪-৯৪-৪, এনগারাভা ২৩-৫-৮৩-১, টিরিপানো ২৩-৫-৫৮-২, নিয়াউচি ১৭-১-৯২-২।

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংসে ২৭৬/১০ (১১১.৫), শুম্বা ৪১, কাইতানো ৮৭, টেইলর ৮১, মায়ের্স ২৭, মারুমা ০, কায়া ০, চাকাবভা ৩১*, টিরিপানো ২, নিয়াউচি ০, মুজারাবানি ২, এনগারাভা ০; তাসকিন ২৪-১০-৪৬-১, সাকিব ৩৪.৫-১০-৮২-৪, মিরাজ ৩১-৫-৮২-৫

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসে ২৮৪/১ (৬৭.৪ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), সাদমান ১১৫*, সাইফ ৪৩, শান্ত ১১৭*; এনগারাভা ৯-০-৩৬-১

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংসে ১৪০/৩ (৪০), শুম্বা ১১, কাইতানো ৭, টেইলর ৯২, মায়ের্স ১৮*, টিরিপানো ৭*; সাকিব ১২-৪-২৩-১, মিরাজ ১৪-২-৪৫-১, তাসকিন ৭-০-৩৯-১

জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের আরও দরকার ৩৩৭ রান।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খেল জিম্বাবুয়ে

Read Next

সুরিয়ার আইপিএল একাদশে নাম নেই, অবাক ওয়ার্নার

Total
1
Share