পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খেল জিম্বাবুয়ে

পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়ায় শুরুতেই ধাক্কা খেল জিম্বাবুয়ে

প্রথম ইনিংসে মাহমুদউল্লাহ সেঞ্চুরিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন ১৫০ (অপরাজিত) অব্দি। সেঞ্চুরির খুব কাছে যেয়ে আউট হয়েছিলেন লিটন দাস (৯৫)। ৭০ এর ঘরে রান করেন মুমিনুল হক (৭০) ও তাসকিন আহমেদ (৭৫)। তবে সফরকারীদের দ্বিতীয় ইনিংসে এসেছে জোড়া শতক। আর তাতেই জিম্বাবুয়েকে পাহাড়সম লক্ষ্য ছুঁড়ে দিয়েছে টাইগাররা.

হারারে টেস্টের পুরো নিয়ন্ত্রণ এখন বাংলাদেশের হাতে। প্রথম ইনিংসে ১৯২ রানের লিডের পর দ্বিতীয় ইনিংসে সদমান ইসলাম ও নাজমুল হোসেন শান্তর জোড়া সেঞ্চুরিতে পাহাড়সম লক্ষ্য স্বাগতিকদের জন্য। ৪৭৭ রানের লক্ষ্য তাড়ায় নেমে চা বিরতির আগেই ২৫ রান তুলতে ১ উইকেট হারিয়েছে জিম্বাবুয়ে।

লাঞ্চের আগের সেশনে কেবল সাইফ হাসানের (৪৩) উইকেট হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সেঞ্চুরির পথে ছিলেন সাদমান ও ফিফটির অপেক্ষায় ছিলেন শান্ত। লাঞ্চের পর দুজনেই হাঁকান সেঞ্চুরি, আর তাতেই ইনিংস ঘোষণার আগে বাংলাদেশের লিড ৪৭৬!

দ্বিতীয় ইনিংসে বাংলাদেশ ১ উইকেটে ২৮৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে। সাদমান ১১৫ ও শান্ত অপরাজিত ছিলেন ১১৭ রানে। চা বিরতির আগে ৯ ওভার ব্যাট করে ২৫ রান তুলতে ওপেনার মিল্টন শুম্বার উইকেট হারায় জিম্বাবুয়ে।

লক্ষ্য তাড়ায় নামা স্বাগতিকরা সাকিব আল হাসানের করা প্রথম ওভারেই অস্বস্তিতে পড়ে। দ্বিতীয় বলেই শুম্বার বিপক্ষে এলবিডব্লিউর আবেদন। তবে ওভারের শেষ বলে তাকুজওয়ানাশে কাইতানোর বিপক্ষে করা জোরালো আবেদন নাকচ হলে হতাশা প্রকাশ করেন সাকিব, যেন বিশ্বাসই হচ্ছিল না তার।

ইনিংসের ৬ষ্ঠ ওভারে পেসার তাসকিন আহমেদের হাত ধরে প্রথম সাফল্য পায় বাংলাদেশ। শরীর তাক করে করা তাসকিনের সোজা ডেলিভারি খোঁচা দেয় শুম্বা, তৃতীয় স্লিপে দাঁড়ানো ইয়াসির আলি রাব্বি তালুবন্দি করেছেন সহজেই। ১৯ বলে ১১ রান করে সাজঘরে ফেরে শুম্বা। বাকি সময়টা অবশ্য আর কোনো বিপদে পড়েনি স্বাগতিকরা।

চা বিরতির আগে দলীয় ২৫ রানের পথে ব্রেন্ডন টেইলর অপরাজিত আছেন ১০ রানে। আরেক অপরাজিত ব্যাটসম্যান কাইতানো এখনো অবশ্য রানের খাতা খুলতে পারেননি।

এর আগে ১ উইকেটে ১৬৯ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। সাদমান ৭২ ও শান্ত ৪৭ রানে অপরাজিত ছিলেন।

লাঞ্চের পর মিল্টন শুম্বার করা চতুর্থ বলেই অফ সাইডে ঠেলে দিয়ে ফিফটিতে পৌঁছান শান্ত। দুজনকে কোনো প্রকার অস্বস্তিতেই ফেলতে পারছিলনা জিম্বাবুয়ে বোলাররা। ৬০তম ওভারে অবশ্য মিল্টন শুম্বার বলে স্লিপে শান্তর সহজ ক্যাচ মিস করে অধিনায়ক ব্রেন্ডন টেইলর। তখন ৭১ রানে ব্যাট করছিলেন শান্ত। জীবন পেয়ে পেছনে তাকাননি এই বাঁহাতি তুলে নিয়েছেন সেঞ্চুরি।

তার আগেই অবশ্য তিন অঙ্কের ম্যাজিক ফিগারের স্বাদ পান সাদমান। শুম্বার করা ৬২তম ওভারের তৃতীয় বলে চার মেরে ৯৮ রানে পৌঁছান, চতুর্থ বলটি মিড উইকেটে ঠেলে দিয়ে ছুঁয়েছেন ক্যারিয়ারের প্রথম শতক। সেঞ্চুরির পথে খেলেছেন ১৮০ বল।

পরের ওভারেই দুজনের জুটি পার করে ১৫০ রান। রয় কায়াকে একই ওভারে ২ ছক্কা হাঁকিয়ে ৯০ এর ঘরে ঢোকেন শান্ত। শান্তও সেঞ্চুরিতে পৌঁছান বাঁহাতি স্পিনার শুম্বার বলে। ওয়ানডে মেজাজে খেলে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট শতকের পথে তার লেগেছে ১০৯ বল। সেঞ্চুরির পর শান্ত যেন আরও অশান্ত, পর পর ২ ওভারে হাঁকান ছক্কা। আর তাতেই বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে নিরাপদ লিড।

১ উইকেটে ২৮৪ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা দেয় সফরকারীরা। প্রথম ইনিংসের ১৯২ রানের লিড সহ জিম্বাবুয়ের জন্য লক্ষ্যটা দাঁড়ায় ৪৭৬। যা তাড়া করে জেতা মানে টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ রান তাড়ার বিশ্ব রেকর্ড গড়বে স্বাগতিকরা। যেখানে নিজেদের মাটিতে তাদের সর্বোচ্চ রান তাড়ার রেকর্ড ১৬২!

অবিচ্ছেদ্য ১৯৬ রানের জুটি সাদমান-শান্তর। শেষ পর্যন্ত ১৯৬ বলে ৯ চারে ১১৫ রানে সাদমান ও ১১৮ বলে ৫ চার ৬ ছক্কায় ১১৭ রানে অপরাজিত ছিলেন শান্ত।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (৪র্থ দিন, চা বিরতি পর্যন্ত):

বাংলাদেশ ১ম ইনিংসে ৪৬৮/১০ (১২৬), সাইফ ০, সাদমান ২৩, শান্ত ২, মুমিনুল ৭০, মুশফিক ১১, সাকিব ৩, লিটন ৯৫, মাহমুদউল্লাহ ১৫০*, মিরাজ ০, তাসকিন ৭৫, এবাদত ০; মুজারাবানি ২৯-৪-৯৪-৪, এনগারাভা ২৩-৫-৮৩-১, টিরিপানো ২৩-৫-৫৮-২, নিয়াউচি ১৭-১-৯২-২।

জিম্বাবুয়ে ১ম ইনিংসে ২৭৬/১০ (১১১.৫), শুম্বা ৪১, কাইতানো ৮৭, টেইলর ৮১, মায়ের্স ২৭, মারুমা ০, কায়া ০, চাকাবভা ৩১*, টিরিপানো ২, নিয়াউচি ০, মুজারাবানি ২, এনগারাভা ০; তাসকিন ২৪-১০-৪৬-১, সাকিব ৩৪.৫-১০-৮২-৪, মিরাজ ৩১-৫-৮২-৫

বাংলাদেশ ২য় ইনিংসে ২৮৪/১ (৬৭.৪ ওভারে ইনিংস ঘোষণা), সাদমান ১১৫*, সাইফ ৪৩, শান্ত ১১৭*; এনগারাভা ৯-০-৩৬-১

জিম্বাবুয়ে ২য় ইনিংসে ২৫/১ (৯), শুম্বা ১১, কাইতানো ০*, টেইলর ১০*; তাসকিন ২-০-৮-১

জয়ের জন্য জিম্বাবুয়ের আরও দরকার ৪৫২ রান।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

সাইফ ফিরলেও সেঞ্চুরির পথে সাদমান

Read Next

জিততে হলে শেষদিনে জিম্বাবুয়ের করতে হবে বিশ্বরেকর্ড

Total
9
Share