মানসিক বাঁধা পেরিয়ে মাহমুদউল্লাহর চ্যালেঞ্জ জয়

হারারেতে নিজেকে প্রমাণের চ্যালেঞ্জ ছিল মাহমুদউল্লাহর

১৭ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমেছেন, যে ফরম্যাটে কোচ তাকে বাতিলের খাতায় ফেলে দিয়েছিল। যদিও এবারও সুযোগটা এসেছে শেষ মুহূর্তে, ঘোষিত স্কোয়াডে না থাকলেও তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের চোট ভাবনায় যুক্ত হন মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। হারারে টেস্টে ব্যাট হাতে নেমেই দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে বড় সংগ্রহ এনে দিলেন, খেললেন ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস। এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান নিজের সাথে চ্যালেঞ্জ জিতেছেন।

পাকিস্তানের বিপক্ষে গত বছর রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ব্যর্থ হয়ে কোচের রেড লিস্টে নাম লেখান। যে ম্যাচে দুই ইনিংসে তার ব্যাট থেকে আসে যথাক্রমে ২৫ ও ০। বিশেষ করে দ্বিতীয় ইনিংসে নাসিম শাহের হ্যাটট্রিক বলে তার আউট হওয়ার ধরণ ছিল দৃষ্টিকটু। এর আগের ৬ ইনিংসেও ৩০ পেরিয়েছেন মাত্র একবার।

কোচের ভাবনাকে অযৌক্তিক বলারও উপায় ছিলনা। তবে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার এবং অতীত পরিসংখ্যান আমলে নিয়ে হয়তো আরও কিছুদিন সুযোগ পেতেই পারতেন। যদিও বাদ পড়ে রিয়াদ আশায় ছিলেন আবারও ফিরবেন লাল বলের ক্রিকেটে, নিজেকে প্রমাণ করবেন।

কিন্তু বাদ পড়ে সেই মঞ্চ আর যেন পাচ্ছিলেনই না। করোনা প্রভাবে দেশের খেলাধুলা দীর্ঘদিন ছিল স্থগিত। চলতি বছর জাতীয় ক্রিকেট লিগ (এনসিএল) শুরু হয়েও দুই রাউন্ড পর স্থগিত হয়। এই দুই রাউন্ডেও খেলা হয়নি রিয়াদের। জিম্বাবুয়ে সফরে গিয়ে খেলা দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচেই যতটুকু প্রস্তুতি সারার সেরেছেন।

আর মূল ম্যাচে নেমেই দলকে উদ্ধার করা অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংস। ১৩২ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে টেনে নেন লিটন দাসের সাথে ১৩৮ রানের জুটিতে। লিটনের পর তাসকিন আহমেদের সাথে ৯ম উইকেট জুটিতে তোলেন রেকর্ড ১৯১ রান। প্রথম ইনিংসে বাংলাদেশ পায় ৪৬৮ রানের বড় সংগ্রহ।

নিজের এমন ইনিংস সম্পর্কে তৃতীয় দিন শেষে বিসিবির পাঠানো এক ভিডিও বার্তায় রিয়াদ বলেন, ‘এটা আমার জন্য একটা চ্যালেঞ্জ ছিল, নিজেকে প্রমাণের জন্য। আলহামদুলিল্লাহ, আমি খুশি যে দলে অবদান রাখতে পেরেছি। আজকে বোলাররাও খুব ভালো বোলিং করেছে। আলহামদুলিল্লাহ আমরা এখন টেস্টের চালকের আসনে আছি।’

‘কালকের দিন নির্ধারণ করবে আমরা কতদূর আগাই। এখনও খেলা অনেকটুকু বাকি। আলহামদুলিল্লাহ, ইনিংসটা ভালো হয়েছে। দলের জন্য অবদান রাখা সবসময় আনন্দের, সেটা করতে পেরে ভালো লাগছে।’

লম্বা সময় পর সাদা পোশাকে খেলতে নেমে মানসিকভাবে মানিয়ে নেওয়া কঠিন ছিল উল্লেখ করে তিনি যোগ করেন, ‘টেকনিক্যাল এডজাস্টমেন্টের বিষয় যতটা ছিল তার চেয়েও মেন্টাল এডজাস্টমেন্ট বেশি ছিল। যেহেতু অনেক দিন লাল বলে খেলিনি। চিন্তা করেছি কীভাবে মানিয়ে নেওয়া যায়। বোলারদের নিয়ে চিন্তা করেছি, কে কখনও কতটুকু সিমের সাহায্যে বল করে।’

‘পরিস্থিতি অনুযায়ী খেলার চেষ্টা করেছি। সব মিলিয়ে মানসিক ভারসাম্য ভালো থাকার কারণে ব্যাটিং ভালো হয়েছে। এতটা সহজ ছিল না কারণ গত প্রায় দেড় বছর লাল বলের ক্রিকেটের বাইরে ছিলাম। এই সফরের আগেও প্রথমে স্কোয়াডে ছিলাম না, পরে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। তারপর থেকে মনোযোগ ছিল সুযোগ পেলে যেন পারফর্ম করতে পারি।’

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের ৪৬৮ রানের জবাবে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ২৭৬ রানের গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ে। ১৯১ রানে এগিয়ে থাকা বাংলাদেশ তৃতীয় দিন শেষ করছে বিনা উইকেটে ৪৫ রান। ইতোমধ্যে সফরকারী বাংলাদেশের লিড ২৩৬।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পাঁচ উইকেট শিকারে খুশি মিরাজ, সাফল্যের রহস্যও শোনালেন

Read Next

এবার ডান হাতের তর্জনীতে চোট মুশফিকের

Total
25
Share