লেজের দিকে নিজেকে উজাড় করে দিতে চান তাসকিন

লেজের দিকে নিজেকে উজাড় করে দিতে চান তাসকিন
Vinkmag ad

ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড কিংবা ভারত, দলের প্রয়োজনে শেষদিকে বোলাররাও ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে যান। কখনো কখনো বিপর্যয় কাটানো নয় দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন। তবে এত বছরেও বাংলাদেশ এমন ব্যাটসম্যানের দেখা পায়নি খুব একটা। হারারে টেস্টে  ফিফটি হাঁকানো তাসকিন আহমেদ বলছেন হতে চান তাদের মতই একজন।

৬ উইকেটে ১৩২ রান বাংলাদেশের, সেখান থেকে লিটন দাস ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের ১৩৮ রানের জুটি। লিটন ৯৫ রান করে আউট হওয়ার পর মেহেদী হাসান মিরাজ ফিরেছেন খালি হাতে। ৮ উইকেটে ২৭০ বাংলাদেশের, এক পাশ আগলে রাখা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শেষ দুই ব্যাটসম্যানকে নিয়ে ৩০০ পার করাতে পারবে কিনা এ নিয়ে সংশয়।

তবে ৯ম উইকেট জুটিতে মাহমুদউল্লাহর সাথে তাসকিন যা করেছেন তা অবিশ্বাস্য! দুজনে মিলে ১৯১ রানের রেকর্ড জুটি গড়েন। তাসকিনের ৭৫ রানের অসাধারণ এক ইনিংসে মাহমুদউল্লাহও ১৭ মাস পর টেস্ট খেলতে নেমে সেঞ্চুরিকে রূপ দেন অপরাজিত ১৫০ রানের ইনিংসে। বাংলাদেশ পায় ৪৬৮ রানের পুঁজি।

তাসকিন যতক্ষণ ছিলেন ততক্ষণ খেলেছেন পুরোদস্তুর ব্যাটসম্যানের মত। দিন শেষে সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন সবসময়ই চান বড় দলগুলোর শেষ দিকের ব্যাটসম্যানদের ভূমিকায় দেখতে।

তিনি বলেন, ‘সবসময়ই ভালো টেলএন্ডার হওয়ার লক্ষ্য থাকে। প্রত্যেক বড় টেস্ট দলেই দেখবেন টেলএন্ডাররা যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। আমিও চাই নির্ভরযোগ্য একজন টেলএন্ডার হতে। যেন দলের দ্রুত উইকেট পড়লে বা থিতু হওয়া কোনো ব্যাটসম্যান থাকলে তাঁকে একটু সাপোর্ট দিয়ে খেলতে পারি। উন্নতির তো কোনো শেষ নেই। যদি উন্নতি করতে পারি তাহলে দলের বিপদে কাজে আসতে পারব।’

প্রায় ৪ ঘন্টা ক্রিজে ছিলেন, ১৩৪ বল খেলেছেন। পেস কিংবা স্পিন কোন কিছুতেই অস্বস্তিতে পড়েননি। মারার বল পেলে দৃষ্টি নন্দন কাভার ড্রাইভে হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি। ডানহাতি এই পেসার জানালেন নিয়মিতই ব্যাটিং অনুশীলন করেন। বৃহস্পতিবার চেয়েছেন দলের জন্য ব্যাট হাতে নিজের সেরাটা দিতে।

এ প্রসঙ্গে তাসকিন বলেন, ‘বোলিংয়ের পাশাপাশি ব্যাটিং অনুশীলন করা হয়। আজ (বৃহস্পতিবার) মাথায় ছিল দলের জন্য আমার কিছু করতে হবে। যেহেতু রিয়াদ ভাই ছিল। একজন টেলএন্ডার হিসেবে আমার মূল লক্ষ্যই ছিল তাঁকে সমর্থন দেওয়া। তিনি সবসময় আমাকে কথা বলে বলে খেলাচ্ছিল। মূল লক্ষ্য ছিল যেন স্টাম্পের বলটা দেখে খেলা হয়। রিয়াদ ভাই বার বার এটাই মনে করিয়ে দিচ্ছিল।’

‘আমি আমার জায়গায় যখন বল পেয়েছি, তখন মারার চেষ্টা করেছি। সেগুলো বাউন্ডারি হয়েছে। মূলত দলের জন্য খেলার চেষ্টা করেছি। উইকেটটা অনেক ভালো। রিয়াদ ভাই, সবাই বলছিল উইকেট সময়ের সঙ্গে ভালো হচ্ছে আস্তে আস্তে। রান করাটা গুরুত্বপূর্ণ। যাতে বোলারদের সাহায্য হয়। সেটাই মাথায় ছিল।’

মাঝে মাঝে অবশ্য বাউন্ডারি হাঁকানোর লোভ সামলাতে পারছিলেন না তাসকিন। তবে অন্য প্রান্তে থাকা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের কথা সম্বিৎ ফিরে পেয়ে সমর্থন জুগিয়ে গেছেন।

তার ভাষ্যমতে, ‘রিয়াদ ভাই বলছিল, উল্টাপাল্টা না খেলে সোজা খেলার জন্য। আমিও তাই করছিলাম। যেহেতু আমি বোলার, আমারও মাঝে মধ্যে মেরে দিতে ইচ্ছা করছিল। কিন্তু তাঁকে সাপোর্ট দিতে হচ্ছিল।’

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

তাসকিন জানালেন যা হয়েছিল মুজারাবানির সঙ্গে

Read Next

আনকোরা ইংল্যান্ডের কাছেই পাত্তা পেলনা পাকিস্তান

Total
14
Share