মাহমুদউল্লাহ’র ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস, টাইগারদের বড় সংগ্রহ

মাহমুদউল্লাহ'র ক্যারিয়ার সেরা ইনিংস, টাইগারদের বড় সংগ্রহ

মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-তাসকিন আহমেদের জমে যাওয়া জুটি অবশেষে ভাঙতে পেরেছে জিম্বাবুয়ে বোলাররা। তবে তার আগে রীতিমত অসহায় হয়েছিল স্বাগতিকরা। তাতে রেকর্ড বইয়েও হয়েছে ওলট-পালট। চা বিরতিতে যাওয়ার আগে অলআউট হওয়া বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৪৬৮।

দিনের প্রথম সেশনে কোনো উইকেট হারায়নি বাংলাদেশ, ফলে টানা দুই সেশন জিম্বাবুয়ে বোলাররা ছিল উইকেট শূন্য। ৮ উইকেটে ৪০৪ রান তুলে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ১১২ ও তাসকিন ৫২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

তবে লাঞ্চের পর জুটিতে রান উঠেছে আরও ৫৭। ৭৫ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস খেলে তাসকিন ফিরলে ক্যারিয়ারে প্রথম ১৫০ হাঁকিয়ে অপরাজিত ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। তার আগেই নাম লিখিয়ে ফেলেন ৯ম উইকেট জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের বিশ্ব রেকর্ডে।

১১৭তম ওভারে জুটি ভাঙার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ জিম্বাবুয়ে। মুজারাবানির বলে পয়েন্টে ঠেলে দিয়ে রান নিতে দৌড় শুরু করেন মাহমুদউল্লাহ। ততক্ষণে বল ডিওন মেয়ার্সের হাতে, তাসকিনকে রান আউট করা ছিল হাতের নাগালেই। মেয়ার্স খুব কাছ থেকে ছুঁড়ে দিয়েও স্টাম্পে লাগাতে পারেননি।

লাঞ্চের আগে ১৩৪ রানে অবিচ্ছেদ্য থাকা তাসকিন-মাহমুদউল্লাহ জুটি টেনে নেন রেকর্ডের দিকে। ৯ম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের আগের সর্বোচ্চ তো পেছনে ফেলেনই, সব মিলিয়ে ৯ম উইকেটে টেস্ট ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ডও গড়েন।

হারারে স্পোর্টস ক্লাবে দুজনে নিয়ে ফিরিয়ে আনলেন ২০১২ সালের খুলনা শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামের মূহুর্তকে। সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে প্রথম ইনিংসে দলের বিপর্যয় দারুণভাবে কাটান ৮ নম্বরে নামা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ও ১০ নম্বরে নামা আবু ল হাসান রাজু। ১৯৩ রানে ৮ উইকেট হারানো বাংলাদেশ ৩৮৭ রান তোলে দুজনের ১৮৪ রানের জুটিতে।

যা ৯ম উইকেট জুটিতে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তো বটেই, টেস্ট ইতিহাসেই ৯ম উইকেটে ৩য় সর্বোচ্চ জুটির রেকর্ড হয়ে টিকেছিল আজকের আগ পর্যন্ত। তবে আজ জমে যাওয়া জুটি স্বাগতিকরা ভেঙেছে ঠিকই তবে ততক্ষণে রেকর্ড বইয়ে ওলট পালট।

পার্ট টাইম স্পিনার মিল্টন শুম্বার বলে তাসকিন বোল্ড হলে থামে ১৯১ রানের জুটি। যা টেস্ট ইতিহাসে ৯ম উইকেট জুটিতে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান। তাদের সামনে ছিল কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচার ও প্যাট সিমকক্সের ১৯৫ রানের জুটি। তাসকিন ১৩৪ বলে ৭৫ রানের ইনিংসটি সাজান ১১ চারে।

তাসকিনের বিদায়ের পরও সাবলীল ছিলেন মাহমুদউল্লাহ। মুজারাবানির চতুর্থ শিকার হয়ে এবাদত হোসেন (০) দ্রুত ফিরলে বাংলাদেশ ইনিংসের ইতি ঘটে। মাহমুদউল্লাহ অপরাজিত ছিলেন আগের সর্বোচ্চ ১৪৬ রানকে পেছনে ফেলে ক্যারিয়ার সেরা ১৫০ রানের ইনিংস খেলে। ২৭৮ বলে ১৭ চার ১ ছক্কায় ইনিংসটি সাজান। অলআউট হওয়ার আগে বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে ৪৬৮।

৯৪ রান খরচায় মুজারাবানির নেওয়া ৪ উইকেট স্বাগতিকদের হয়ে সর্বোচ্চ উইকেট। দুইটি করে নেন ডোনাল্ড টিরিপানো ও ভিক্টর নিয়াউচি। একটি করে শিকার রিচার্ড এনগারাভা ও মিল্টন শুম্বার।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (২য় দিন,চা বিরতি পর্যন্ত):

বাংলাদেশ ৪৬৮/১০ (১২৬), সাইফ ০, সাদমান ২৩, শান্ত ২, মুমিনুল ৭০, মুশফিক ১১, সাকিব ৩, লিটন ৯৫, মাহমুদউল্লাহ ১৫০*, মিরাজ ০, তাসকিন ৭৫, এবাদত ০; মুজারাবানি ২৯-৪-৯৪-৪, এনগারাভা ২৩-৫-৮৩-১, টিরিপানো ২৩-৫-৫৮-২, নিয়াউচি ১৭-১-৯২-২।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

হারারেতে তাসকিন-রিয়াদের রেকর্ড গড়া জুটি

Read Next

ব্যাট হাতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েও অস্বস্তিতে বাংলাদেশ

Total
4
Share