তিন ফিফটির দিনে লিটনের সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ

তিন ফিফটির দিনে লিটনের সেঞ্চুরি মিসের আক্ষেপ
Vinkmag ad

সর্বশেষ টেস্ট খেলেছেন ১৭ মাস আগে, ছিলেন না জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য ঘোষিত টেস্ট স্কোয়াডেও। তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের চোট ভাবনায় শেষ মুহূর্তে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ যুক্ত হন দলের সাথে। অথচ একাদশে সুযোগ পাওয়া মাহমুদউল্লাহ ও লিটন দাসের ব্যাটে চড়েই হারারে টেস্টে পথের খোঁজ পেল টাইগাররা।

১৩২ রানে ৬ উইকেট হারানো বাংলাদেশকে উদ্ধারের পথে ১৩৮ রানের জুটি লিটন-মাহমুদউল্লাহর। দুজনেই পেয়েছেন ফিফটির দেখা, সেঞ্চুরির দ্বারপ্রান্তে গিয়ে ৯৫ রান করে আউট হন লিটন। তবে তাসকিন আহমেদকে নিয়ে ৫৪ রানে অপরাজিত আছেন মাহমুদউল্লাহ।

আলোক স্বল্পতায় ৭ ওভার বাকি থাকতেই দিনের খেলা শেষ হয়। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৯৪ রান। ফিফটির দেখা পান অধিনায়ক মুমিনুল হকও। দুইবার জীবন পেয়ে খেলেছেন ৭০ রানের ইনিংস। জিম্বাবুয়ের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ টি উইকেট বাংলাদেশকে শুরুর ধাক্কা উপহার দেওয়া ব্লেসিং মুজারাবানির।

চা বিরতির আগেই ৬ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। চা বিরতির আগে লিটন-মাহমুদউল্লাহ আর কোন বিপদ ঘটতে দেননি। চা বিরতির আগে ৩৫ রানের অবিচ্ছেদ্য জুটিকে শেষ সেশনে বাংলাদেশকে স্বস্তি এনে দেওয়া জুটিতে পরিণত করেন দুজনে।

মাহমুদউল্লাহকে এক পাশে রেখে লিটনই অবশ্য রান তোলায় বেশি মনযোগ দেন। নান্দনিক সব শটে হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি। ৫৮তম ওভারে স্পিনার মিল্টন শুম্বাকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে চার মেরে ছুঁয়েছেন ফিফটি, আর তাতে দলীয় সংগ্রহও পার করে ২০০। ৮৬ বলে ৮ চারে ৯ম টেস্ট ফিফটিতে পৌঁছান লিটন।

গত বছর রাওয়ালপিন্ডি টেস্টে ব্যর্থ হওয়ার পরই কোচ রাসেল ডোমিঙ্গোর সাদা পোশাকের ক্রিকেট ভাবনা থেকে বাদ পড়েন মাহমুদউল্লাহ। জিম্বাবুয়ে সফরের জন্য ঘোষিত স্কোয়াডেও ছিলেন না। শেষ মুহূর্তে অন্তর্ভূক্ত হন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিমের ইনজুরি ভাবনায়।

শেষ পর্যন্ত তামিম ছিটকে যাওয়াতে ব্যাটিং লাইনআপে শক্তি বাড়াতে একাদশেও সুযোগ পান। আর তাতেই করলেন বাজিমাত, দলের বাজে পরিস্থিতিতে লিটনকে দিয়েছন যোগ্য সঙ্গ। লিটনের পর ফিফটির দেখা পান এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যানও।

১৩৩ বলে ছুঁয়েছেন ১৭তম টেস্ট ফিফটি। নিজের ৫০তম টেস্ট খেলতে নেমে এর আগে দুই বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানের আছে ফিফটি হাঁকানোর কীর্তি। তারা হলেন সাকিব আল হাসান ও তামিম ইকবাল।

তবে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরির স্বারপ্রান্তে গিয়েও হতাশ করলেন লিটন। ৭৭তম ওভারের পঞ্চম বলে চমৎকার এক পুল শটে চার মেরে ব্যক্তিগত ৯৩ রানে পৌঁছান লিটন। ৭৮ তম ওভারে নেন আরও দুই সিঙ্গেল, তবে ডোনাল্ড টিরিপানোর করা ৭৯তম ওভারেই ডেকে আনেন বিপদ। পুল করতে গিয়ে লং লেগে ক্যাচ দেন ভিক্টর নিয়াউচিকে।

খেলেছেন ১৪৭ বলে ১৩ চারে সাজানো ৯৫ রানের ইনিংস। যা তার ক্যারিয়ার সেরা ইনিংসও। আগের সেরা ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৯৪ রান। এ নিয়ে দ্বিতীয় বার ফিরলেন নার্ভাস নাইনটিজে। লিটনের বিদায়ে ভাঙে মাহমুদউল্লাহর সাথে ১৩৮ রানের জুটি।

পরের বলেই এলবিডব্লিউর ফাঁদে মেহেদী হাসান মিরাজ (০), হ্যাটট্রিক সম্ভাবনা জাগে। তবে হ্যাটট্রিক বল সামলে নেন তাসকিন আহমেদ। আলোক স্বল্পতায় দিনের খেলা শেষ হয় ৭ ওভার আগেই।

ততক্ষণে তাসকিন-মাহমুদউল্লাহ অবিচ্ছেদ্য ২৪ রানের জুটিতে। মাহমুদউল্লাহ ১৪১ বলে ৫ চারে ৫৪ ও তাসকিন ১৫ বলে ১৩ রানে অপরাজিত আছেন। বাংলাদেশের সংগ্রহ ৮ উইকেটে ২৯৪।

তবে দিনের শুরুটা হয়েছে বাংলাদেশের জন্য দুঃস্বপ্নের মত। ব্লেসিং মুজারাবানির তোপ সামলাতে না পেরে ৮ রানেই বিদায় নেয় ওপেনার সাইফ হাসান (০) ও তিন নম্বরে নামা নাজমুল হোসেন শান্ত (২)।

সেখান থেকে আরেক ওপেনার সাদমান ইসলামকে নিয়ে ৬০ রানের জুটি অধিনায়ক মুমিনুল হকের। লাঞ্চের আগেই সাদমানকে (২৩) ফেরান পেসার এনগারাভা। ৩ উইকেটে ৭০ রান নিয়ে লাঞ্চে যায় বাংলাদেশ।

লাঞ্চের পরই মুজারাবানির শিকার হয়ে ফেরেন মুশফিকুর রহিম (১১)। ৫ বলের ব্যবধানে সাকিব আল হাসানও ৩ রান করে আউট হন। দুই দফা জীবন পেয়ে ১৪তম টেস্ট ফিফটিকে ৭০ রান পর্যন্ত টেনে নিতে পারেন মুমিনুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (১ম দিন শেষে):

বাংলাদেশ ২৯৪/৮ (৮৩), সাইফ ০, সাদমান ২৩, শান্ত ২, মুমিনুল ৭০, মুশফিক ১১, সাকিব ৩, লিটন ৯৫, মাহমুদউল্লাহ ৫৪*, মিরাজ ০, তাসকিন ১৩*; মুজারাবানি ১৬-৩-৪৮-৩, এনগারাভা ১৫-৫-৩৬-১, টিরিপানো ১৩-৪-৩৬-২, নিয়াউচি ১২-১-৬৯-২।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

টি-টোয়েন্টি র‍্যাংকিংয়ে ডি কক-পুরানদের উন্নতি

Read Next

আইসিসি প্লেয়ার অব দ্য মান্থঃ মনোনয়ন পেলেন যারা

Total
20
Share