খারাপ জায়গায় মানিয়ে নিতে পারেননি বলে কোথাও নেই পাইলট

খারাপ জায়গায় মানিয়ে নিতে পারেননি বলে কোথাও নেই পাইলট

খেলোয়াড়ি জীবনের ইতি টেনে খালেদ মাসুদ পাইলট জড়িয়ে আছেন খেলার সাথেই। তবে দেশের ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) কিংবা ক্লাব ক্রিকেটেও সক্রিয় ভূমিকায় নেই। কিন্ত তিনি ছিলেন, থাকতে চেয়েছেনও, পারেননি পরিবেশের কারণে।

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) কোচ ও জাতীয় দলের ম্যানেজারের দায়িত্বও পালন করেছেন। সব কিছু থেকে সরে পাইলট এখন শুধুই নিজের ক্রিকেট একাডেমিতে ব্যস্ত। তার মতে অনেকে খারাপ জায়গায় মানিয়ে নিতে পারলেও তিনি পারেননি।

নিজ শহর রাজশাহীতে মায়ের সেবা, নিজের বাগান, একাডেমির বাচ্চাদের নিয়েই সময় পার করছেন জাতীয় দলের সাবেক এই অধিনায়ক। তার ভাষ্যমতে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে কোচিং পেশায় থাকার পরিবেশ নেই। খেলোয়াড়ি জীবনে দেশের ক্রিকেট ও বিসিবির যে অবস্থানের স্বপ্ন দেখেছেন তার দেখা পাননি অবসর পরবর্তী জীবনে।

বর্তমানে কাজ করছেন ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমির সাথে। ক্লেমন ক্রিকেট একাডেমি থেকে উঠে আসা নাজমুল হোসেন শান্ত, শরিফুল ইসলাম, শামীম পাটোয়ারীদের মত ক্রিকেটার তৈরিতেই দিচ্ছেন পূর্ণ মনযোগ।

রাজশাহী থেকে মুঠোফোনে ‘ক্রিকেট৯৭’ কে পাইলট বলেন, ‘সারা দেশেইতো আসলে লকডাউন চলছে। আমি রাজশাহীতে আছি, আমার মা অসুস্থ, সেজন্য দেখাশোনা করতে হচ্ছে। এখানে আমার একটা একাডেমি আছে, বাগান আছে, এসবে সময় দিই। বাগানে গাছের যত্ন নিয়ে ব্যস্ত থাকি। ঢাকায় এখন কম যাওয়া হচ্ছে যেহেতু কোভিড সিচুয়েশন খারাপ। কোন খেলাধুলাও নেই।’

ক্রিকেট ক্যারিয়ারের ইতি টেনে ক্লাব ক্রিকেটে কোচিংয়ে নাম লিখিয়েও সরে যাওয়ার কারণ জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘কোচিং আমি মূলত তিন বছর আগেই বাদ দিয়েছি (২০১৭ সালে প্রাইম ব্যাংকের কোচ ছিলেন)। সাম্প্রতিক সময়ে সাকিব আল হাসান যে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তা অনেকদিন ধরেই চলে আসছিল ঢাকার ক্রিকেটে। আমার জানামতে আজ থেকে ৩-৪ বছর আগেই এ ধরনের একটা বিষয় ছিল যে কোন দল চ্যাম্পিয়ন হবে তা আগেই নির্ধারিত হয়ে থাকতো।’

‘এমন জায়গায় আসলে কোচ হওয়ার কোন মানেই থাকেনা। কারণ আমি জানি আমি চ্যাম্পিয়ন হব কি হবো না। সুতরাং দল নিয়ে কাজ করার কোন মানে থাকেনা। আপনি ভালো কোচ হবেন, পরিশ্রম করতে হবে, চ্যালেঞ্জ থাকতে হবে এই জিনিসগুলো নেই।’

‘ইচ্ছে নাই (ভবিষ্যতেও ফেরার), পরিবেশের কারণেই আসলে ইচ্ছে নাই। তবে পরিবেশ যদি কখনো ভালো হয় তখন দেখা যাবে। একেক জনের আসলে একেক ধরণ। অনেকে খারাপ জায়গায় মানিয়ে নিতে পারে। আমার কাছে মনে হয়েছে আমি মানিয়ে নিতে পারছিনা, যেহেতু আমি দেশের হয়ে খেলেছি, দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছি। বাংলাদেশ ক্রিকেট ও ক্রিকেট বোর্ডকে আরও পেশাদারিত্বের জায়গায় দেখতে চেয়েছিলাম।’

ক্লাব ক্রিকেটের উপর বিরক্ত খালেদ মাসুদ জানালেন কোচিং পেশায় নতুন কেউ আসার উৎসাহ হারিয়ে ফেলছে, ‘বাংলাদেশে পেশা হিসেবে কোচিং উপযুক্ত জায়গা না। উল্টো ক্যারিয়ারটাই নষ্ট হওয়ার উপক্রম। আপনি খেলোয়াড়ি জীবন শেষে কোচিংয়ে আসবেন? দেখেন কয়জন ভালো আছে? সাকিব, তামিম, মুশফিকদের কথা নাহয় আলাদা তাদের ভবিষ্যত বলতে পারছিনা। তবে এর আগের কয়জন ভালো আছে? কোচরা খুব অসহায় অবস্থায় আছে। এখানে কোচদের কোন মূল্যায়ণ নেই।’

‘আগে একটা সময় ছিল যখন সবাই ভালো কোচ খুঁজতো। এখনতো টিমের রেজাল্ট অটোমেটিক হয়ে যায়, কোচের দরকার কি। কোচিংয়ের পেছনে অর্থ খরচ করে লাভ কি? যে কারণে তিন বছর আগেই আমার অনুধাবন হয়েছে যে এ ধরণের পরিবেশে না থাকাই ভালো। অন্য পেশায় বা অন্য কাজ কর্ম নিয়ে ব্যস্ত থাকা ভালো।’

‘একাডেমিতে উপভোগ করি, বাচ্চারা আছে, সময় দিই ভালো লাগে। যেহেতু দেশের হয়ে খেলেছি, দেশকেতো আমার কিছু দিতেই হবে বিনিময়ে। এমন কিছু করতে চাচ্ছি যেন গর্ব করে বলতে পারি দেশের জন্য কিছু করেছি। যেখানে কেউ বলতে পারবে না নয় ছয় হয়। নিজের ভালো লাগা কাজ করে।’

বাংলাদেশের হয়ে এই উইকেট রক্ষক ব্যাটসম্যান খেলেছেন ৪৪ টেস্ট, ১২৬ ওয়ানডে ম্যাচ। ২০০৩ বিশ্বকাপ সহ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩০ ওয়ানডে ও ১২ টেস্টে। ৪৫ বছর বয়সী এই সাবেক ক্রিকেটার জানালেন উপভোগ করেননি বলেই বিসিবির সাথে কাজ করা হয়নি দীর্ঘদিন। যেখানে তার সতীর্থরা বোর্ডে আছেন পরিচালক সহ বড় বড় পদে।

নিজের বর্তমানে কাজ উপভোগ করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ কোনটা আমি উপভোগ করছি। আমি বলবোনা যে আমি পুরোপুরি সৎ, আমার কোন সমস্যা নেই। একমাত্র উপরওয়ালাই বলতে পারবে কে কেমন। আমার নিজের কাছে মনে হয় আমি ভেতর থেকে সৎ। আমার আনন্দটা আমার কাছে খুব গুরুত্বপূর্ণ, যেখানে কাজ করে আমি উপভোগ করবো, মজা পাবো সেটাতেই আমি খুশি।’

‘বাচ্চাদের নিয়ে কাজ করি, যেমন বেশ কিছু ক্রিকেটার আমাদের এখান থেকে উঠে আসছে। জাতীয় দলেই খেলছে নাজমুল হোসেন শান্ত, শরিফুল ইসলাম, শামীম পাটোয়ারি, যুব দলে কয়েকজন আছে। এসবই ভালো লাগে, জীবনে আসলে আর কিইবা চাওয়ার থাকে? এমন না যে আমাকে শুধু ক্রিকেট বোর্ডেই কাজ করতে হবে।’

নাজমুল হাসান তারেক

Read Previous

ব্যাট হাতে টাইগারদের প্রস্তুতিটা হল দারুণ

Read Next

জিম্বাবুয়েতে যে প্রথমের দেখা পেলেন সাইফ

Total
171
Share