সাইফউদ্দিনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ডিপিএলে আবাহনীর হ্যাটট্রিক শিরোপা

সাইফউদ্দিনের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ডিপিএলে আবাহনীর হ্যাটট্রিক শিরোপা
Vinkmag ad

ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) আরও একটি শিরোপা ঘরে উঠলো আবাহনীর। প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবকে ৮ রানে হারিয়ে টানা তিন মৌসুম শিরোপা জিতে হ্যাটট্রিক করলো আকাশী-নীল শিবির। ডিপিএল লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর তো বটেই লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার আগে থেকে হিসেব করলেও তাদের ২১ শিরোপার আশেপাশে নেই অন্য কোনো ক্লাব।

কোভিড পরিস্থিতিতে গত বছর স্থগিত হওয়া ডিপিএল এবার নতুন করে মাঠে গড়ায় টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। সুপার লিগে ওঠা ৬ দলের মধ্যে আবাহনী ও প্রাইম ব্যাংক নিজেদের ৫ম রাউন্ড শেষ করে  সমান ২২ পয়েন্ট নিয়ে। ফলে আজ সুপার লিগের শেষ রাউন্ডে মুখোমুখি হওয়া দুই দলের ম্যাচটি রূপ নেয় অঘোষিত ফাইনালে।

মিরপুরে আগে ব্যাট করে নাজমুল হোসেন শান্ত, অধিনায়ক মোসাদ্দেক হোসেনের চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংসের সাথে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ২১ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৫০ রানের পুঁজি আবাহনীর। জয়ের জন্য এই পুঁজিকেই যথেষ্ট বানিয়ে দেয় আবাহনী বোলাররা। বল হাতেও প্রাইম ব্যাংকের ব্যাটসম্যানদের ভুগিয়েছেন সাইফউদ্দিন। ৪ উইকেট নিয়ে যৌথভাবে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি হওয়ার দিনে প্রাইম ব্যাংকের ইনিংস শেষ হয় ১৪২ রানে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে প্রাইম ব্যাংক ওপেনার রনি তালুকদার (১) ফিরেছেন ইনিংসের তৃতীয় বলেই। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের বলে পুল করতে গিয়ে ব্যাটে-বলে সংযোগ করাতে পারেননি, ক্যাচ দিয়েছেন মেহেদী হাসান রানাকে। নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে সাইফউদ্দিন ওয়াইড ইয়র্কারে ফেরান অধিনায়ক এনামুল হক বিজয়কে (১২ বলে ১৩)।

নিজের প্রথম ওভার করতে এসে নতুন ব্যাটসম্যান রকিবুল হাসানকে (৪) ফেরান মেহেদী হাসান রানা। অফ স্টাম্পের বেশ বাইরের বল পয়েন্ট দিয়ে খেলতে চাইলেও ডিপ থার্ডম্যানে তানজিম হাসান সাকিবের দারুণ ক্যাচে পরিণত হন।

৩৮ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর প্রাইম ব্যাংক ইনিংস মেরামতের কাজটা একাই করেছেন রুবেল মিয়া। অন্য প্রান্তে মোহাম্মদ মিঠুন (৪), নাহিদুল ইসলামরা (১০) ছিলেন ব্যর্থ। তবে নাইম হাসানকে নিয়ে ৩২ রানে জুটিতে কিছুটা আশার আলো দেখা রুবেল। কিন্তু ৪৩ বলে ৬ চারে ৪১ রান করে বোল্ড হন সাকিবের বলে।

তার বিদায়ের পর নিয়মিত বিরতিতে পড়ে উইকেট, নাইমের ব্যাট থেকে আসে ১৯ রান। ১০৫ রানে ৮ উইকেট হারালেও প্রাইম ব্যাংকের ভরসা হয়ে ছিলেন অলক কপালি। শেষ ২ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩২ রান, ১৯তম ওভারে ১৬ রান নিয়ে অলক ম্যাচ জমিয়ে দেন।

 শেষ ওভারে ১৬ রান প্রয়োজন হলেও শহিদুল ইসলামকে প্রথম ৩ বলেই ডট দেন অলক। চতুর্থ বলে ছক্কা হাঁকালেও পঞ্চম বলে নেন সিঙ্গেল, নিজের মোকাবেলা করা একমাত্র বলে মুস্তাফিজুর রহমান নিতে পারেননি কোনো রান। ওভার থেকে আসে মাত্র ৭ রান। ততক্ষণে জয়োৎসবে মেতে উঠে আবাহনীর ডাগ আউট।

শেষ বিকেলে শিরোপার কাছে গিয়েও আক্ষেপে পোড়া প্রাইম ব্যাংক থামে ৯ উইকেটে ১৪২ রানে। ১৭ বলে ২ চার ৩ ছক্কায় অপরাজিত ৩৪ রান করেন অলক। আবাহনীর হয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট সাইফউদ্দিনের, দুইটি শিকার মেহেদী হাসান রানার।

বেশ কয়েক ম্যাচ পর আবাহনীর ওপেনিংয়ে উন্নতি হওয়া নাইম শেখ টিকেননি এক বলও। ইনিংসের প্রথম বলে ফিরেছেন মুস্তাফিজুর রহমানের অফ স্টাম্পের বাইরের বেশ আলগা বল ড্রাইভ করতে গিয়ে। পরের ওভারেই রুবেল হোসেনের গুড লেংথের বল পুল করতে গিয়ে উইকেট রক্ষক মিঠুনের হাতে ক্যাচ দেন মুনিম শাহরিয়ার (৩)।

ভালো শুরু পেয়েও ইনিংস লম্বা করতে পারেনি লিটন দাস। পঞ্চম ওভারে নাহিদুল ইসলামকে লং অফ দিয়ে দারুণ এক ছক্কা হাঁকান। তবে পরের বলে একইভাবে মারতে গিয়ে এনামুল হক বিজয়ের দুর্দান্ত এক ক্যাচে পরিণত হন। থেমেছেন ১৩ বলে ২ চার ১ ছক্কায় ১৯ রানে। তাতেই ৩১ রানে ৩ উইকেট হারায় আবাহনী।

এরপর নাজমুল হোসেন শান্ত ও অধিনায়ক মোসাদ্দেকের ব্যাটে বিপর্যয় কাটায় আবাহনী। কিছুটা দেখেশুনে খেলে প্রথম ১০ ওভারে তোলে ৬০ রান। এরপর কিছুটা হাত খুলে খেলে ১৪ ওভারে পৌঁছায় দলীয় ১০০ রানে। ১৫তম ওভারে রুবেল মিয়াকে ডাউন দ্য ট্র্যাকে এসে উড়িয়ে মারতে গিয়ে পয়েন্টে ক্যাচ দেন শান্ত। তাতেই মোসাদ্দেকের সাথে ভাঙে ৭০ রানের জুটি। ৪০ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় ৪৫ রানে থামেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান।

আফিফ হোসেন (৭ বলে ১২) দ্রুত ফিরলেও রুবেল হোসেনের করা ১৯তম ওভারে মোসাদ্দেক বোল্ড হন ৩৯ বলে সমান একটি করে চার, ছক্কায় ৪০ রান করে। শেষদিকে মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের ১৩ বলে ২১ রানের অপরাজিত ইনিংসে ৭ উইকেটে ১৫০ রানে থামে আবাহনী। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে সর্বোচ্চ দুইটি উইকেট নেন রুবেল হোসেন, একটি করে শিকার মুস্তাফিজুর রহমান, নাহিদুল ইসলাম ও রুবেল মিয়ার।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আবাহনী লিমিটেড ১৫০/৭ (২০), নাইম ০, মুনিম ৩, লিটন ১৯, শান্ত ৪৫, মোসাদ্দেক ৪০, আফিফ ১২, সাইফউদ্দিন ২১*, শহিদুল ১; মুস্তাফিজ ৪-০-৩৭-১, রুবেল ৪-০-২২-২, নাহিদুল ৪-০-২০-১, শরিফুল ৪-০-২২-১, রুবেল মিয়া ২-০-১৮-১

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১৪২/৯ (২০), রনি ১, রুবেল ৪১, বিজয় ১৩, রকিবুল ৪, মিঠুন ৬, নাহিদুল ১০, নাইম ১৯, কাপালি ৩৪*, রুবেল ০, শরিফুল ৩, মুস্তাফিজ ০*; সাইফউদ্দিন ৪-০-৩৬-৪, সানি ৪-০-১৮-১, সাকিব ৪-০-৩১-১, রানা ৩-০-৩০-২

ফলাফলঃ আবাহনী লিমিটেড ৮ রানে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (আবাহনী লিমিটেড)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

ডোমিঙ্গোর চাওয়াতেই টাইগারদের ব্যাটিং কোচ অ্যাশওয়েল প্রিন্স

Read Next

মুশফিকের আক্ষেপ ঘোচানো শিরোপা জয়ের প্রতিশ্রুতি রেখেছেন সাইফউদ্দিন

Total
2
Share