শামীম ঝড়ের দিনে শিরোপার আরও কাছে যাওয়া হয়নি প্রাইম ব্যাংকের

শামীম ঝড়ের দিনে শিরোপার আরও কাছে যাওয়া হয়নি প্রাইম ব্যাংকের

জিতলেই শিরোপার দৌড়ে আবাহনীকে পেছনে ফেলে এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের সামনে। তবে আজ (২৪ জুন) ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগের (ডিপিএল) সুপার লিগের ম্যাচে প্রাইম দোলেশ্বরের কাছে মুখ থুবড়েই পড়ে শীর্ষে থেকে মাঠে নামা দলটি। ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর বোলারদের সামনে যেটুকু সুযোগ তৈরি হয়েছিল সেটুকুও ম্লান করে দেয় শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ঝড়ো ফিফটি।

টস জিতে আগে ব্যাট করে রনি তালুকদারের ফিফটির পরও ১২৬ রানেই থামে প্রাইম ব্যাংক। জবাবে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে আরেকবার দুর্দান্ত ফিনিশার হিসেবে শামীমের আবির্ভাব। পাওয়ার হিটিং প্রদর্শনীতে কিছুটা ধুঁকতে থাকা প্রাইম দোলেশ্বরকে জয় এনে দেন ৭ বল ও ৫ উইকেট হাতে রেখে। একদিন আগেই জিম্বাবুয়ে সফরের ঘোষিত টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে ডাক পাওয়া শামীম এমন ইনিংসে নির্বাচকদের আস্থার জায়গাটা আরও দৃঢ় করলেন।

এই হারে আবাহনীর সাথে শিরোপার দৌড়ে থাকা প্রাইম ব্যাংক খানিক পিছিয়ে পড়েছে। সমান জয়ে দুই দলেরই ২২ পয়েন্ট, রান রেটে এগিয়ে আবাহনীই। লিগের শেষ রাউন্ডেই নির্ধারিত হচ্ছে শিরোপা বিজয়ী। আর ২৬ জুন শিরোপা নির্ধারণী রাউন্ডে মুখোমুখিও হচ্ছে দৌড়ে থাকা আবাহনী-প্রাইম ব্যাংক। সুপার লিগের বাকি চার দল আগেই শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে।

সহজ লক্ষ্য পেয়েও ১২ রানে প্রাইম দোলেশ্বরের দুই ওপেনার ইমরান উজ্জামান (১) ও তৌকের খান (৮) বিদায় নেন। ফজলে রাব্বি-সাইফ হাসানের জুটিও ৩০ রানের বেশি যোগ করতে পারেনি। ১২ বলে ৪ চারে ২০ রান করে আউট হন রাব্বি। ৩১ বলে টি-টোয়েন্টির সাথে বেমানান ২৭ রানের ইনিংস সাইফ হাসানের ব্যাটে।

৬৯ রানে ৪ উইকেট হারানো প্রাইম দোলেশ্বরকে এর পরের পথটা পাড়ি দেয়ান শামীম হোসেন পাটোয়ারী। অথচ একটা সময় এই রান তাড়াও কঠিন মনে হচ্ছিল। শামীম ক্রিজে আসার পর থেকে দলের জয় নিশ্চিত হওয়া পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে যোগ হওয়া ৬১ রানের ৫২ রানই এসেছে তার ব্যাট থেকে।

মার্শাল আইয়ুবকে নিয়ে যোগ করেন ৩২ রান, যেখানে মার্শালের অবদান ৬। ১৪ রান করে মার্শাল আউট হওয়ার পর ২৯ রানের অবিচ্ছেদ্য ফরহাদ রেজার সাথে। যেখানে ফরহাদের অবদান ১ রান!

শেষ ৫ ওভারে প্রয়োজন পড়ে ৪২, শামীম প্রায় প্রতি ওভারেই হাঁকিয়েছেন বাউন্ডারি। ১৮তম ওভারে মুস্তাফিজের করা অফ স্টাম্পের বাইরের বল যেভাবে টেনে এনে ছক্কা মেরেছেন শামীম তাতে মুগ্ধ হতে বাধ্য যে কেউই।

শেষ ২ ওভারে যা দাঁড়ায় ১৬, তবে ১৯তম ওভারের ৫ বলকেই যথেষ্ট বানিয়ে ফেলন শামীম। শরিফুলের প্রথম বলে লং অন দিয়ে ছক্কা, পরের বলে ডাবলস, তৃতীয় বলে চার, মাঝে ওয়াইডের পর চতুর্থ বলে আবার ডাবলস এবং পঞ্চম বলে কাভার দিয়ে চার মেরে টপকান লক্ষ্য।

দলকে এনে দেন ৭ বল আগেই জয়। যে চারে ছুঁয়েছেন ফিফটিও। অপরাজিত ছিলেন ৩০ বলে ৪ চার ৩ ছক্কায় ৫২ রানে। প্রাইম ব্যাংকের হয়ে সর্বোচ্চ ২ উইকেট রুবেল হোসেনের।

টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ৩ ওভার স্থায়ী উদ্বোধনী জুটিতে ৩৩ রান তুলে ফেলে প্রাইম ব্যাংকের রনি তালুকদার ও রুবেল মিয়া। যেখানে রুবেলের অবদান ৮, শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিলেন রনি।

এক পাশ আগলে রাখলেও অন্য পাশে নিয়মিত বিরতিতে পড়েছে উইকেট। বাঁহাতি পেসার শফিকুল ইসলামের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারে রনি হাঁকিয়েছেন ২ চার ১ ছক্কা। তবে ওভারের শেষ বলে সঙ্গী রুবেলকে উইকেটের পেছনে ক্যাচে পরিণত করেন।

রুবেলের পর অধিনায়ক এনামুল হক বিজয় (১) ফিরেছেন রান আউটে কাটা পড়ে। মোহাম্মদ মিঠুনকেও ১ রানের বেশি করতে দেননি পেসার কামরুল ইসলাম রাব্বি। রকিল হাসানের ব্যাটে আসে ৬ রান।

৬৪ রানে ৪ উইকেট হারানোর পর নাহিদুল ইসলামকে নিয়ে ৩৭ রানের জুটি রনির। যা প্রাইম ব্যাংক ইনিংসের সর্বোচ্চ রানের জুটি। এ দফায় জুটি ভাঙে রনি বিদায় নিলে। ৩১ বলে ফিফটি তোলার পর শুরুর আক্রমণাত্মক ব্যাটিং ধরে রাখতে পারেননি এই ডানহাতি। পরের ১০ বলে করতে পারেন কেবল ৭ রান। কামরুল ইসলামের বলে বোল্ড হয়েছেন ৪১ বলে ৮ চার ১ ছক্কায় ৫৯ রান করে।

নাহিদুল থামেন ২৮ বলে ২৭ রান করে। তার আগে পরে কেউ আর দাঁড়াতেই পারেনি। শেষ পর্যন্ত অল আউট হওয়ার আগে প্রাইম ব্যাংকের স্কোরবোর্ডে ১২৬ রান। শফিকুল ইসলাম নেন ৩৬ রান খরচায় সরবোচ্চ ৪ উইকেট। কামরুল ইসলাম রাব্বির ৩ উইকেট শিকার মাত্র ১০ রান খরচায়।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

একাদশে থাকলে যে ভূমিকা পালন করতে চান শামীম

Read Next

ডিপিএলের শেষ রাউন্ডের সূচিতে বদল

Total
1
Share