আশরাফুলের দিনে হারতে হল আবাহনীকে

আশরাফুলের দিনে হারতে হল আবাহনীকে
Vinkmag ad

টুর্নামেন্টে বেশ কয়েকবারই ভালো শুরু পেয়েছেন তবে সেটিকে টেনে নিয়ে বড় ইনিংস খেলা হয়নি মোহাম্মদ আশরাফুলের। অবশেষে বড় ইনিংসের দেখা পেলেন আশরাফুল, খেললেন ম্যাচ জেতানো ইনিংস। আজ (২৪ জুন) তার ব্যাটে চড়েই সুপার লিগে আবাহনীকে প্রথম পরাজয়ের স্বাদ দিল শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। ফলে শিরোপার দৌড়ে পিছিয়েই পড়লো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা।

লিটন দাসের ৭০ রানের ইনিংসের সাথে নাইম শেখের ৪২ রানে ৭ উইকেটে ১৭৩ রানের পুঁজি আগে ব্যাট করা আবাহনীর। জবাবে আশরাফুলের অপরাজিত ৭২ রানের সাথে নাসির হোসেন, নুরুল হাসান সোহান ও জিয়াউর রহমানের কার্যকরী তিন ইনিংসে ভর করে ৬ উইকেট ও ৯ বল হাতে রেখেই জয় পায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব।

এই হারে ১৫ ম্যাচে আবাহনীর পয়েন্ট ২২, যেখানে ১৪ ম্যাচে সমান পয়েন্ট প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ১২ রানেই দুই উইকেট হারায় শেখ জামাল। ওপেনার সৈকত আলি (২) ফিরতি ক্যাচ দেন আরাফাত সানিকে। ইমরুল কায়েসকে (৩) দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড করেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন।

তবে এরপরই মোহাম্মদ আশরাফুল ও নাসির হোসেনের ব্যাটে পাওয়ার প্লেতে উঠে ৫১ রান। পেসার তানজিম হাসান সাকিবের করা চতুর্থ ওভারে আশরাফুল হাঁকান ২ চার, ১ ছক্কা। পঞ্চম ওভারে আরাফাত সানিকে ১ চার ১ ছক্কা হাঁকান নাসির। প্রায় প্রতি ওভারেই দুজনের ব্যাট থেকে আসে বাউন্ডারি। ৯ম ওভারে মেহেদী হাসান রানাকে বেশ সাবলীলভাবে স্কুপ করে আশরাফুলের হাঁকানো চারটি ছিল দেখার মত।

দুজনের ৬৯ রানের জুটি ভাঙে আমিনুল ইসলাম বিপ্লবকে উড়িয়ে মারতে গিয়ে নাসির আউট হলে। ২১ বলে ৪ চার ২ ছক্কায় ৩৬ রান আসে তার ব্যাট থেকে। নাসির বিদায় নিলেও টুর্নামেন্টের দারুণ সফল ব্যাটসম্যান শেখ জামাল অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান যোগ দেন আশরাফুলের সাথে দ্রুত গতিতে রান তোলাতে। ১২ ওভারেই স্কোরবোর্ডে উঠে যায় ১০০ রান।

১৪তম ওভারে সাকিবের দেওয়া শর্ট বলে পুল শটে মিড উইকেটে চোখ ধাঁধানো ছক্কা হাঁকান সোহান। ৩৬ বলে লিগে নিজের প্রথম ফিফটি ছুঁয়েছেন আশরাফুল। দুজনে মিলে জুটিতে ৬০ রান যোগ করে জয়ের পথটা মসৃণ করেন। সোহান ফিরেছেন ২২ বলে ১ চার ৩ ছক্কায় ৩৬ রান করে।

তবে আশরাফুল ফিফটিকে টেনে নেন জয় পর্যন্ত। জিয়াউর রহমানকে নিয়ে বাকি কাজ সারেন ৯ বল হাতে রেখেই। ৬ উইকেটে জয়ের পথে ৪৮ বলে ৮ চার ২ ছক্কায় আশরাফুল ৭২ ও জিয়াউর ৯ বলে সমান দুইটি করে চার, ছক্কায় ২২ রানে অপরাজিত ছিলেন।

আবাহনী ইনিংসের শুরুটা হয়েছে উইকেট হারিয়ে। প্রথম ওভারেই খালি হাতে ফেরেন ধারাবাহিভাবে সফল মুনিম শাহরিয়ার। তবে ৬৮ রানের জুটিতে দলকে কোন অস্বস্তিতে পড়তে দেননি লিটন দাস ও নাইম শেখ। বাজে পারফরম্যান্সে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শেষ ওয়ানডেতে বাদ পড়া, এরপর কব্জির চোটে রাউন্ড রবিন পর্বে না খেলা লিটন এদিন চেনা ছন্দে ছিলেন।

জিম্বাবুয়ে সফরের আগে আত্মবিশ্বাসের রসদ জুগানোর মত ইনিংসই খেললেন। আগের দুই ম্যাচে ব্যর্থ লিটন এদিন তুলে নেন ফিফটি। ২৮ বলে ৪২ রান করে মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদির বলে নাইম ফিরলে ভাঙে দুজনের জুটি। নাজমুল হোসেন শান্ত (৬) রান আউটে কাটা পড়ে দ্রুতই ফিরেছেন।

মোসাদ্দেক হোসেন ১৭ বল ক্রিজে টিকে ১৬ রানের বেশি করতে পারেননি। তাকেও শিকারে পরিণত করেন লেগ স্পিনার আফ্রিদি। অন্য প্রান্তে নাইমের পর কেউ ঠিকভাবে দাঁড়াতে না পারলেও লিটন ধীরে লয়ে শুরু করে দেখিয়েছেন নান্দনিকতা। ওপেন করতে নেমে ১৭তম ওভারে এবাদত হোসেনকে চার মেরে ছুঁয়েছেন ফিফটি।

তবে ফিফটির পর ৮ বলে যোগ করেন ১৯ রান। ১৮তম ওভারে জিয়াউর রহমানকে ডিপ মিড উইকেট দিয়ে হাঁকানো ছক্কায় ছড়িয়েছেন মুগ্ধতা, ওভারে মেরেছেন এক চারও। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন আফিফ হোসেন, শেষ ৫ ওভারে দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে তোলেন ৬০ রান। এবাদতের করা শেষ ওভারে আফিফ, লিটনের সাথে ফিরেছেন তানজিম হাসান সাকিবও (৬)।

লিটন ৫১ বলে ৮ চার ১ ছক্কায় ৭০ রানের ইনিংস খেলে রান আউটে কাটা পড়েন। পরের বলেই জিয়াউর রহমানকে ক্যাচ দেওয়া আফিফ করেছেন ১৫ বলে ১৯ রান। ৭ উইকেটে ১৭৩ রান তোলে আবাহনী। শেখ জামাল ধানমন্ডির হয়ে সমান দুইটি করে উইকেট জিয়াউর রহমান ও মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদির।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ

আবাহনী লিমিটেড ১৭৩/৭ (২০), নাইম ৪২, মুনিম ০, লিটন ৭০, শান্ত ৬, মোসাদ্দেক ১৬, আফিফ ১৯, সাইফউদ্দিন ২*, সাকিব ৬, বিপ্লব ০*; এনাম ৪-০-৩০-১, জিয়া ৪-০-৪২-২, আফ্রিদি ৪-০-২৫-২

শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ১৭৫/৪ (১৮.৩), সৈকত ২, আশরাফুল ৭২*, ইমরুল ৩, নাসির ৩৬, নুরুল ৩৬, জিয়া ২২*; সাইফউদ্দিন ৩.৩-০-৩৪-১, সানি ৪-০-৩৫-১, সাকিব ৩-০-৩১-১, বিপ্লব ৩-০-২৭-১

ফলাফলঃ শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ৬ উইকেটে জয়ী

ম্যাচসেরাঃ মোহাম্মদ আশরাফুল (শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব)।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

পিএসএল ফাইনাল খেলা হচ্ছেনা হায়দার-উমাইদের

Read Next

কোচের দায়িত্ব ছাড়ার পর মুখ খুললেন ইউনুস খান

Total
9
Share