সুপার লিগে মোহামেডানের পরাজয়ের হ্যাটট্রিক

সুপার লিগে মোহামেডানের পরাজয়ের হ্যাটট্রিক
Vinkmag ad

সুপার লিগে এসে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব যেন নিজেদের হারিয়ে খুঁজছে। টানা তিন ম্যাচে হেরে শিরোপার দৌড় থেকে ছিটকে গেছে তারা। শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের কাছে আজ (২৩ জুন) ৭ উইকেটের পরাজয়ে সুপার লিগে এখনো পর্যন্ত জয়হীন সাদা-কালো শিবির।

পারভেজ হোসেন ইমন ও শামসুর রহমান শুভর গড়ে দেওয়া ভীত কাজে লাগাতে ব্যর্থ মোহামেডানের মিডল ও লোয়ার মিডল অর্ডার। দুজনের চল্লিশোর্ধ্ব ইনিংসের পরও এবাদত হোসেন-জিয়াউর রহমানের তোপে ৯ উইকেটে ১৩৩ রানে থামে শুভাগত হোমের দল। জবাবে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান ও তানবীর হায়দারের অপরাজিত দুই ইনিংসে এক ওভার ও ৭ উইকেট হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত হয় শেখ জামালের।

এই জয়ে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে প্টেবিলের চতুর্থ স্থানে আছে শেখ জামাল, যেখানে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে সুপার লিগের ৬ দলের মধ্যে ষষ্ঠ অবস্থানে মোহামেডান।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই উইকেট হারায় শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব। আবু জায়েদ রাহির বলে খালি হাতেই ফেরেন ওপেনার সৈকত আলি। সেখান থেকে তিনে নামা ইমরুল কায়েসকে নিয়ে ৫৫ রানের জুটি মোহাম্মদ আশরাফুলের।

শুভাগত হোমের বলে ইমরুল বোল্ড হলে ভাঙে জুটি। ২১ বলে তার ব্যাট থেকে আসে ২৫ রান। অন্যপ্রান্তে আশরাফুলও খেলেন ধীর গতিতে, তবে অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহানের সাথে তার ২৯ রানের জুটিতেই জয়ের পথটা কমে আসে। তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে যখন সাজঘরে ফেরেন নামের পাশে ৪২ বলে টি-টোয়েন্টির সাথে বেমানান ৩৮ রান।

তখনো দলের জয়ে প্রয়োজন ৩৯ বলে ৫০ রান। তবে টুর্নামেন্টে বেশ ধারাবাহিকভাবে সফল হওয়া সোহান আরেক দফা দেখালেন ঝলক। তার যোগ্য সঙ্গ পেয়ে ঝড়ো ইনিংস খেললেন তানবীর হায়দার। দুজনের অবিচ্ছেদ্য ৫৩ রানের জুটিতে ৭ উইকেট ও ৬ বল হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় শেখ জামাল।

৩১ বলে ২ চার ১ ছক্কায় সোহান ৩৬ ও ১৭ বলে ৩ চার ২ ছক্কায় তানবীর অপরাজিত ছিলেন ৩২ রানে। মোহামেডানের হয়ে একটি করে উইকেট আবু জায়েদ রাহি, শুভাগত হোম ও আসিফ হাসানের।

পারভেজ হোসেন ইমন ও শামসুর রহমান শুভ যেভাবে ব্যাট করছিলেন তাতে বড় সংগ্রহের পথেই ছিল মোহামেডান। ৩১ রানে ২ উইকেট হারানোর পর ( আব্দুল মজিদ ১ ও ইরফান শুক্কুর ১৭) ইমন-শুভ তৃতীয় উইকেটে যোগ করেন ৬১ রান। আগের ম্যাচে ঝড়ো ইনিংস খেলা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ইমন এদিনও ছিলেন সাবলীল।

মিনহাজুল আবেদিন আফ্রিদির বলে সৈকত আলিকে ক্যাচ দেওয়ার আগে করেছেন ৩৫ বলে সমান তিনটি করে চার, ছক্কায় ৪৬ রান। ইমন যখন ফিরেছেন তখনও ইনিংসের ৪৩ বল বাকি। অথচ তার বিদায়ের পর হুড়ুমুড়িয়ে ভেঙে পড়ে মোহামেডান ইনিংস।

জুটিতে তাকে সঙ্গ দেওয়া শুভ ফিরেছেন শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের সেরা বোলার এবাদত হোসেনের শিকার হয়ে। ৪০ বলে ৩ চার ১ ছক্কায় করেছেন ৪৯ রান। এবাদতের সাথে উইকেট শিকারে যোগ দেন জিয়াউর রহমানও, তাতেই ২ উইকেটে ৯২ থেকে ৯ উইকেটে ১৩৩ রানে থামে মোহামেডান। শেষ ৬ ব্যাটসম্যানের ৩ জন ফিরেছেন খালি হাতে, দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেনি কেউই।

শেষ ৫ ওভারে আসে মাত্র ২৮ রান। ৪ ওভারে ১৭ রান খরচায় ৩ উইকেট এবাদতের, সমান সংখ্যক উইকেট নিতে জিয়ার খরচ ২৯ রান।

৯৭ প্রতিবেদক

Read Previous

মিতালি রাজের বায়োপিকে তাপসী, পরিচালনায় সৃজিত

Read Next

খাদের কিনারা থেকে বেঁচে রেকর্ড সংগ্রহে জয় পেল রুপগঞ্জ

Total
1
Share